জাবি ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার, বিচার নিশ্চিতের দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সংলগ্ন এলাকার ভাড়া বাসা থেকে শারমীন জাহান (খাদিজা) নামে এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ মার্চ) পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এদিকে শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন পৃথকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। নিহত শারমীন জাহান চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। অপরদিকে তার স্বামী ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই নিহত শারমীন জাহানের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে রোববার রাতে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নিহত শারমীন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বামী ফাহিম আল হাসা

জাবি ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার, বিচার নিশ্চিতের দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সংলগ্ন এলাকার ভাড়া বাসা থেকে শারমীন জাহান (খাদিজা) নামে এক ছাত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৬ মার্চ) পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন পৃথকভাবে উদ্বেগ জানিয়ে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

নিহত শারমীন জাহান চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার তেতৈয় গ্রামের শাহজাহান মোল্লার মেয়ে। অপরদিকে তার স্বামী ফাহিম আল হাসান কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার খুইরুল গ্রামের মো. হানিফ সরকারের ছেলে।

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আজগর হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই নিহত শারমীন জাহানের স্বামী ফাহিম আল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। পরে রোববার রাতে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ সকালে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, নিহত শারমীন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের পর শারমীন ও ফাহিম গত বছরের ২৪ জুন বিয়ে করে বিষয়টি পরিবারকে জানান। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে শারমীন ও ফাহিমের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে কলহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি শারমীন পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।

মামলারও বিবরণে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ফাহিম মুঠোফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে শারমীন গুরুতর অসুস্থ জানিয়ে তাকে বাসায় আসতে বলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরুল শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর আশপাশের লোকজনের সহায়তায় শারমীনকে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন তাকে। 

সুরতহালের তথ্যানুসারে, শারমীনের কপালের ডান পাশে, মাথার উপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম দেখতে পান।

এদিকে শারমীনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একইসঙ্গে ঘটনাটিকে নৃশংস হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, জাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্য মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শারমীন জাহানের খুনের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। এতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত হয়েছে। ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

এছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), ছাত্র ইউনিয়ন (একাংশ) ও জাতীয় ছাত্রশক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জাকসুর সহসভাপতি আবদুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের সই করা বিবৃতিতে বলা হয়, শারমীনের মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকা, একইসঙ্গে বাসা থেকে ল্যাপটপ ও ফোন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়। একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন অস্বাভাবিক ও নৃশংস মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow