জাবিতে মানববন্ধনে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জেবউন্নেসা। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে এই মানববন্ধনে তার উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জাকসু প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। শারমিন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অধ্যাপক জেবউন্নেসার অংশগ্রহণকে ‘মায়াকান্না’ ও ‘ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক হওয়ার অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ছাত্রনেতারা। জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, অধ্যাপক জেবউন্নেসা, আপনি জুলাই হামলার মদদদাতা। আপনি সেই মানুষ, যিনি জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে সেলিব্রেট করেছিলেন। আপনি একাধিকবার শিক্ষার্থীদের গণরোষের মুখে পড়েছেন, আপনার বিভাগের শিক্ষার্থীরা আপনাকে বর্জন করেছেন। তারপরও আপনি কীভাবে পাবলিক প্রোটেস্টে আসেন? একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, যে ব্যক্তি সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দে

জাবিতে মানববন্ধনে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা হত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছেন একই বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জেবউন্নেসা।

বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে ভাস্কর্যের সামনে এই মানববন্ধনে তার উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জাকসু প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়।

শারমিন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অধ্যাপক জেবউন্নেসার অংশগ্রহণকে ‘মায়াকান্না’ ও ‘ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক হওয়ার অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ছাত্রনেতারা।

জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেন, অধ্যাপক জেবউন্নেসা, আপনি জুলাই হামলার মদদদাতা। আপনি সেই মানুষ, যিনি জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকে সেলিব্রেট করেছিলেন। আপনি একাধিকবার শিক্ষার্থীদের গণরোষের মুখে পড়েছেন, আপনার বিভাগের শিক্ষার্থীরা আপনাকে বর্জন করেছেন। তারপরও আপনি কীভাবে পাবলিক প্রোটেস্টে আসেন?

একই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, যে ব্যক্তি সন্ত্রাসী ছাত্রলীগ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেয়, রক্ত দেখে আনন্দ পায়, সে তো শারমিনের ঘটনায় ব্যথিত হওয়ার কথা না। কারণ এই শারমিনের মতোই শিক্ষার্থীরা তখন আহত হয়েছিল। সুতরাং আপনি শারমিনের হত্যাকাণ্ডকে পুঁজি করে মায়াকান্নার মাধ্যমে নিজের রাজনীতি করা বাদ দিন।

পোস্টের শেষ অংশে তিনি লেখেন, ‘শারমিনের নিহত হওয়া আমাদের সবাইকে ব্যথিত করেছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি তুলছি, বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিচার নিশ্চিতে কাজ করছে। আপনি নিহত শারমিনের ঘটনাকে ক্যাপিটালাইজ করে ক্যাম্পাসে নরমাল হওয়ার চেষ্টা করবেন না। এসব করলে বিগত সময়ের মতো আবার গণরোষে পড়বেন।’

শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, মানববন্ধন শেষে আমরা বিভাগের চেয়ারম্যানকে আল্টিমেটাম জানিয়েছি। আমাদের স্পষ্ট দাবি, অধ্যাপক জেবউন্নেসার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের কোনো ধরনের কার্যক্রমে যেন তাকে সম্পৃক্ত করা না হয়। অন্যথায় কোনো রকম জনরোষের ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিতে হবে।

উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ভাইরাল হওয়া এক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বার্তায় জেবউন্নেসার একাধিক বার্তা পাওয়া যায়, যেখানে তিনি সরাসরি পুলিশ কর্তৃক শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানোর পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

মো. রকিব হাসান প্রান্ত/কেএইচকে/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow