জীবনযাপনেই লুকিয়ে পুরুষের বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি
সন্তান ধারণে সমস্যার কথা উঠলেই বেশিরভাগ মানুষের মনে প্রথমে নারীর শারীরিক জটিলতার কথা আসে। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বন্ধ্যত্বের জন্য পুরুষও সমানভাবে দায়ী হতে পারেন। বিশ্বজুড়ে পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড় একটি কারণ আধুনিক জীবনযাপন। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অনিয়ম, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা-সব মিলিয়ে পুরুষের উর্বরতা নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই বুঝতেই পারেন না, প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস ধীরে ধীরে তাদের বাবা হওয়ার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। পুরুষের বন্ধ্যত্ব কী? সাধারণভাবে, এক বছর নিয়মিত দাম্পত্য সম্পর্কের পরও সন্তান না হলে তাকে বন্ধ্যত্ব বা ইনফার্টিলিটি বলা হয়। এর পেছনে পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কম হওয়া, শুক্রাণুর গতি দুর্বল হওয়া কিংবা গঠনে ত্রুটি থাকার মতো কারণ থাকতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়ার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ-সম্পর্কিত সমস্যা জড়িত থাকে। আরও পড়ুন স্তন ক্যানসার / নতুন পরীক্ষায় কেমোথেরাপি ছাড়াই মিলতে পারে মুক্তি ধূমপান ও মদ
সন্তান ধারণে সমস্যার কথা উঠলেই বেশিরভাগ মানুষের মনে প্রথমে নারীর শারীরিক জটিলতার কথা আসে। অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বন্ধ্যত্বের জন্য পুরুষও সমানভাবে দায়ী হতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে পুরুষের প্রজননক্ষমতা কমে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড় একটি কারণ আধুনিক জীবনযাপন। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ঘুমের অনিয়ম, প্রযুক্তিনির্ভর জীবন ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা-সব মিলিয়ে পুরুষের উর্বরতা নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অনেকেই বুঝতেই পারেন না, প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস ধীরে ধীরে তাদের বাবা হওয়ার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
পুরুষের বন্ধ্যত্ব কী?
সাধারণভাবে, এক বছর নিয়মিত দাম্পত্য সম্পর্কের পরও সন্তান না হলে তাকে বন্ধ্যত্ব বা ইনফার্টিলিটি বলা হয়। এর পেছনে পুরুষের শুক্রাণুর সংখ্যা কম হওয়া, শুক্রাণুর গতি দুর্বল হওয়া কিংবা গঠনে ত্রুটি থাকার মতো কারণ থাকতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, দাম্পত্য জীবনে সন্তান না হওয়ার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষ-সম্পর্কিত সমস্যা জড়িত থাকে।
ধূমপান ও মদ্যপান: নীরব ক্ষতি
ধূমপান পুরুষের প্রজননক্ষমতার অন্যতম বড় শত্রু। সিগারেটের নিকোটিন ও অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়নিক শুক্রাণুর গুণগত মান নষ্ট করে। এতে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে, চলাচলের ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে এবং ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একইভাবে অতিরিক্ত মদ্যপান টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া থেকে শুরু করে শুক্রাণু উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপও বড় কারণ
অতিরিক্ত মানসিক চাপ শুধু মনের ওপর নয়, শরীরের ওপরও প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিনের উদ্বেগ, হতাশা বা কাজের চাপ শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এতে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে থাকেন, তাদের মধ্যে যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়। ফলে দাম্পত্য সম্পর্কেও প্রভাব পড়ে।
ঘুমের অনিয়মে কমতে পারে উর্বরতা
রাত জাগা, পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া কিংবা অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস পুরুষের হরমোন উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। টেস্টোস্টেরন হরমোন মূলত ঘুমের সময় তৈরি হয়। তাই ঘুম কম হলে প্রজননস্বাস্থ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কম ঘুমান বা খুব দেরিতে ঘুমান, তাদের শুক্রাণুর মান তুলনামূলক কম হতে পারে।
মোবাইল ও ল্যাপটপ ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি
প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন পকেটে রাখা বা কোলে ল্যাপটপ ব্যবহার করা এখন সাধারণ বিষয়। তবে অতিরিক্ত তাপ ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ পুরুষের প্রজননক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, দীর্ঘ সময় কোলে ল্যাপটপ ব্যবহার না করা এবং মোবাইল ফোন শরীরের খুব কাছে দীর্ঘক্ষণ না রাখাই ভালো।
স্থূলতা বাড়ায় ঝুঁকি
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা পুরুষের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এতে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায় এবং শুক্রাণুর মান খারাপ হতে পারে। একই সঙ্গে স্থূলতা ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, যা পরোক্ষভাবে যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে।
খাদ্যাভ্যাসেও প্রভাব পড়ে
অতিরিক্ত ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া ও প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরে ক্ষতিকর চর্বি বাড়ায়। অন্যদিকে পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, মাছ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার শুক্রাণুর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।

স্ট্রোকের আগে শরীর যেসব সতর্ক সংকেত দেয়
ব্যায়ামের অভাবও ক্ষতিকর
শরীরচর্চা না করলে স্থূলতা বাড়ে, রক্ত সঞ্চালন কমে এবং হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। তবে আবার অতিরিক্ত ভারী ব্যায়ামও কখনো কখনো ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নিয়মিত পরিমিত ব্যায়াম সবচেয়ে ভালো। প্রতিদিন হাঁটা, হালকা দৌড়, সাইক্লিং বা ফ্রি-হ্যান্ড ব্যায়াম শরীর ও প্রজননস্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
- এক বছর চেষ্টা করেও সন্তান না হওয়া
- যৌনক্ষমতা কমে যাওয়া
- শুক্রাণু পরীক্ষায় সমস্যা ধরা পড়া
- অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা
- দীর্ঘদিন ধূমপান বা ডায়াবেটিসে ভোগা
বর্তমানে পুরুষের বন্ধ্যত্বের অনেক চিকিৎসা রয়েছে। ওষুধ, জীবনযাপনের পরিবর্তন, হরমোন থেরাপি কিংবা আধুনিক প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সমাধান সম্ভব।
সচেতনতাই সবচেয়ে বড় উপায়
পুরুষের বন্ধ্যত্ব কোনো লজ্জার বিষয় নয়, এটি একটি চিকিৎসাযোগ্য স্বাস্থ্যসমস্যা। কিন্তু সামাজিক সংকোচ ও ভুল ধারণার কারণে অনেক পুরুষ পরীক্ষা করাতে চান না। এতে সমস্যা আরও জটিল হয়ে যায়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা পুরুষের প্রজননক্ষমতা ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একজন পুরুষের প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতে তার বাবা হওয়ার সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সময় থাকতেই সচেতন হওয়া জরুরি।
তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক, দ্য গার্ডিয়ান

কাজিনকে বিয়ে করার আগে জানুন এই সত্য
জেএস/
What's Your Reaction?

