জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী সাঁতরে স্কুলে যাচ্ছে শিশুরা

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের ঘিলাঘড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রুপেশ্বরী নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীর ওপর নেই কোনো স্থায়ী সেতু কিংবা নিরাপদ সাঁকো। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢলে ফুলে-ফেঁপে ওঠে নদীটি। তখন বই-খাতা মাথার ওপর তুলে নদী সাঁতরে কিংবা কলাগাছের ভেলায় চড়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয় কোমলমতি শিশুদের। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শ্রীপুর, লক্ষ্মীপুর, ঘিলাঘড়া ও কলতাপাড়া গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে নদী পারাপার সম্ভব হলেও বর্ষা মৌসুমে এবং পাহাড়ি ঢলে রুপেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। পানির তীব্র স্রোতের কারণে জীবনহানির আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেয়। অভিভাবকদের অভিযোগ, নদীর ওপর নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে তারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে পানির স্রোত বেড়ে গেলে শিশুদের ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণে অনেক পরিবার নিয়মিত সন্তানদে

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী সাঁতরে স্কুলে যাচ্ছে শিশুরা

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের ঘিলাঘড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রুপেশ্বরী নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদীর ওপর নেই কোনো স্থায়ী সেতু কিংবা নিরাপদ সাঁকো। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ি ঢলে ফুলে-ফেঁপে ওঠে নদীটি। তখন বই-খাতা মাথার ওপর তুলে নদী সাঁতরে কিংবা কলাগাছের ভেলায় চড়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হয় কোমলমতি শিশুদের।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার শ্রীপুর, লক্ষ্মীপুর, ঘিলাঘড়া ও কলতাপাড়া গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। শুষ্ক মৌসুমে কোনোভাবে নদী পারাপার সম্ভব হলেও বর্ষা মৌসুমে এবং পাহাড়ি ঢলে রুপেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। পানির তীব্র স্রোতের কারণে জীবনহানির আশঙ্কায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নদীর ওপর নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকায় সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে তারা সবসময় আতঙ্কে থাকেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে পানির স্রোত বেড়ে গেলে শিশুদের ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই কারণে অনেক পরিবার নিয়মিত সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অনাগ্রহী হয়ে পড়ছে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১১০ জন। তবে বর্ষা ও বৃষ্টির দিনে উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ১৫ থেকে ২০ জনে নেমে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথেই পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে, যা দুর্গম এই এলাকায় শিক্ষার হারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদ অবহেলিত। এখন পর্যন্ত নদীটির ওপর কোনো স্থায়ী সেতু বা টেকসই সাঁকো নির্মাণ করা হয়নি। শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে রুপেশ্বরী নদীর ওপর দ্রুত একটি টেকসই সেতু নির্মাণ করা জরুরি। 

ঘিলাঘড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হোসেন রানা বলেন, বর্ষা মৌসুম ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বেড়ে গেলে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। তখন স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি একেবারেই কমে যায়। যারা আসে, তাদের কেউ সাঁতার কেটে, আবার কেউ কলাগাছের ভেলায় চড়ে পার হয়। এতে শিশুদের জীবনঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। 

বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নূর নবী তালুকদার বিষয়ের গুরুত্ব স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পারাপার ঝুঁকিমুক্ত ও সহজ করতে শিগগিরই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলা হবে। পাশাপাশি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow