জীবনের প্রথম খিঁচুনি কি ক্যানসারের লক্ষণ? যা বলছে গবেষণা
শরীরে হঠাৎ কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা অনেকেই তাকে সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু শরীরের প্রতিটি অস্বাভাবিক স্পন্দন বা পরিবর্তন হতে পারে বড় কোনো রোগের আগাম সতর্কবার্তা। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জীবনের প্রথম খিঁচুনি হতে পারে শরীরে লুকিয়ে থাকা ক্যানসারের একটি নীরব সংকেত। গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য ডেনমার্কের প্রায় ৫০,০০০ রোগীর ওপর চালানো একটি বিশাল গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের জীবনে প্রথমবার খিঁচুনি হয়েছে, পরবর্তী এক বছরের মধ্যে তাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। ‘জামা নিউরোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় গবেষক আন্দ্রেয়াস এল. পি. এবং তার সহকর্মীরা দেখিয়েছেন যে, প্রায় ৫০,০০০ রোগীর মধ্যে ২,০০০-এরও বেশি মানুষের ক্ষেত্রে খিঁচুনির পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যেই ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। মস্তিষ্কের ক্যানসারের ঝুঁকি ৭৬ গুণ বেশি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যাদের প্রথমবার খিঁচুনি হয়েছে, তাদের সাধারণ মানুষের তুলনায় মস্তিষ্কের ক্যানসার বা নিউরোলজিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭৬ গুণ বেশি। শুধু মস্তিষ্কই নয়, শরীরের অন্যান্য অংশে ক্যানসার হওয়
শরীরে হঠাৎ কোনো সমস্যা দেখা দিলে আমরা অনেকেই তাকে সাময়িক সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু শরীরের প্রতিটি অস্বাভাবিক স্পন্দন বা পরিবর্তন হতে পারে বড় কোনো রোগের আগাম সতর্কবার্তা। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জীবনের প্রথম খিঁচুনি হতে পারে শরীরে লুকিয়ে থাকা ক্যানসারের একটি নীরব সংকেত।
গবেষণার চমকপ্রদ তথ্য
ডেনমার্কের প্রায় ৫০,০০০ রোগীর ওপর চালানো একটি বিশাল গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের জীবনে প্রথমবার খিঁচুনি হয়েছে, পরবর্তী এক বছরের মধ্যে তাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি। ‘জামা নিউরোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণায় গবেষক আন্দ্রেয়াস এল. পি. এবং তার সহকর্মীরা দেখিয়েছেন যে, প্রায় ৫০,০০০ রোগীর মধ্যে ২,০০০-এরও বেশি মানুষের ক্ষেত্রে খিঁচুনির পরবর্তী ১২ মাসের মধ্যেই ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে।
মস্তিষ্কের ক্যানসারের ঝুঁকি ৭৬ গুণ বেশি গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, যাদের প্রথমবার খিঁচুনি হয়েছে, তাদের সাধারণ মানুষের তুলনায় মস্তিষ্কের ক্যানসার বা নিউরোলজিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭৬ গুণ বেশি। শুধু মস্তিষ্কই নয়, শরীরের অন্যান্য অংশে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিও প্রায় ২ দশমিক ৩২ গুণ বেড়ে যায়। সামগ্রিকভাবে, প্রথম খিঁচুনির পর এক বছরের মধ্যে যেকোনো ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫ দশমিক ৩০ গুণ বৃদ্ধি পায়।
কেন প্রথম বছরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
গবেষকরা দেখেছেন, এই ক্যানসার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকি মূলত খিঁচুনির পরবর্তী প্রথম ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়ের মধ্যে আক্রান্তদের মধ্যে ১,১৭২ জন নিউরোলজিক্যাল এবং ৮৫০ জন নন-নিউরোলজিক্যাল ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। প্রথম বছর পার হওয়ার পর এই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। তথ্যমতে, এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে এই ঝুঁকি কমে ১.১৮ গুণ হয় এবং পাঁচ থেকে বিশ বছরের মধ্যে তা সামান্য বেড়ে ১ দশমিক ৩৪ গুণ হয়। অর্থাৎ, খিঁচুনির পর প্রথম এক বছরই হলো সবচেয়ে সংকটময় সময়।
সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
সাধারণত হঠাৎ খিঁচুনি হলে আমরা একে স্নায়বিক সমস্যা মনে করে শুধু নিউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হই এবং ওষুধ খেয়ে সুস্থ থাকার চেষ্টা করি। কিন্তু এই গবেষণা বলছে, বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রথম খিঁচুনিকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। এটি শরীরের ভেতর লুকিয়ে থাকা কোনো ম্যালিগন্যান্সি বা টিউমারের লক্ষণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, প্রথম খিঁচুনির পর কেবল মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান বা এমআরআই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি:
- পুরো শরীরের বিস্তারিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
- রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় অনকোলজি ইভ্যালুয়েশন করতে হবে।
- ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের ক্ষেত্রে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে।
শেষ কথা
শরীর যখন কোনো অস্বাভাবিক সংকেত দেয়, তখন তাকে অবহেলা করা ঠিক নয়। খিঁচুনি হয়তো নিজে কোনো রোগ নয়, বরং এটি অন্য কোনো বড় রোগের উপসর্গ মাত্র। তাই জীবনের প্রথম খিঁচুনিকে গুরুত্বের সাথে নিন এবং সঠিক সময়ে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নিশ্চিত হোন। আপনার সচেতনতাই হতে পারে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়ার প্রথম হাতিয়ার।
তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
What's Your Reaction?