জুলাই জাদুঘরের টিকিট আগেই অনলাইনে কাটবেন যেভাবে

৩৬ জুলাই ২০২৪, ৭১-এর পর আরেকবার স্বাধীনতার স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক নতুন বাংলাদেশ রচনা করে। এই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জুলাই জাদুঘর’। এটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন তিনি। শেখ হাসিনার ব্যবহৃত কক্ষ ও জিনিসপত্রের ওপরই এখন স্থান পেয়েছে আন্দোলনে শহীদদের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত সামগ্রী। গতকাল (৫ আগস্ট) সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ‘জুলাই জাদুঘর’। জুলাই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে বিগত দেড় দশকের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গুম-নির্যাতনের দলিল, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য এবং প্রতীকী কবর। বিভিন্ন গ্যালারিতে বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুম-নির্যাতনের তথ্যচিত্র ও ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠিও প্রদর্শিত হচ্ছে। জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় শেখ হাসিনার শোবার ঘরের যে খাটে তি

জুলাই জাদুঘরের টিকিট আগেই অনলাইনে কাটবেন যেভাবে

৩৬ জুলাই ২০২৪, ৭১-এর পর আরেকবার স্বাধীনতার স্বাদ পায় বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান এক নতুন বাংলাদেশ রচনা করে। এই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং আন্দোলনের ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জুলাই জাদুঘর’।

এটি ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন তিনি। শেখ হাসিনার ব্যবহৃত কক্ষ ও জিনিসপত্রের ওপরই এখন স্থান পেয়েছে আন্দোলনে শহীদদের জামাকাপড় ও ব্যবহৃত সামগ্রী। গতকাল (৫ আগস্ট) সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে ‘জুলাই জাদুঘর’।

জুলাই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে বিগত দেড় দশকের বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, গুম-নির্যাতনের দলিল, আলোকচিত্র, ভাস্কর্য এবং প্রতীকী কবর। বিভিন্ন গ্যালারিতে বিডিআর বিদ্রোহে সেনা কর্মকর্তা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, গুম-নির্যাতনের তথ্যচিত্র ও ঐতিহাসিক দলিল সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া শহীদ আহনাফের মায়ের উদ্দেশে লেখা চিঠিও প্রদর্শিত হচ্ছে।

জাদুঘরের দ্বিতীয় তলায় শেখ হাসিনার শোবার ঘরের যে খাটে তিনি ঘুমাতেন, সেখানেই এখন প্রদর্শন করা হচ্ছে প্রবাস ফেরত শহীদ রাজিবের স্মৃতিচিহ্নসহ অন্যান্য শহীদদের ব্যবহার্য সামগ্রী। ঘরের চেয়ার, টেবিল, র‍্যাক ও আলমারিতে থরে থরে সাজানো রয়েছে আন্দোলনে নিহতদের ব্যবহৃত রক্তাক্ত জামাকাপড়, ঘড়ি, টাই, কোট এবং জুতা-স্যান্ডেল।

জাদুঘরের উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতীকী কবর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভাস্কর্যে আন্দোলনের স্মরণীয় মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রিকশাচালকের সালাম জানানো এবং শহীদ মুগ্ধের পানি বিতরণের দৃশ্য,
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজপথে শহীদ ভাইয়ের নিথর দেহ কাঁধে নিয়ে দুই বোনের বুকফাটা আর্তনাদ ও মিছিলের সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি এখানে ভাস্কর্যের মাধ্যমে রাখা হয়েছে। এই দৃশ্যটি আন্দোলন চলাকালীন সাহসিকতা, শোক ও প্রতিবাদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক হয়ে আছে।

শেখ হাসিনার ঘরের সামনের দক্ষিণ বারান্দায় পরিবারের শিশুদের খেলাধুলার জন্য যে দোলনাটি ছিল, সেটি এখনো আগের মতোই রয়েছে। তবে এখন সেই দোলনায় স্থান পেয়েছে জুলাই আন্দোলনে প্রাণ হারানো শিশুদের প্রতিকৃতি, যেন অবিকল দোল খাচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাথটাবে স্থান পেয়েছে শহীদদের ছবি এবং তারা কোথায়, কীভাবে শহীদ হয়েছেন তার বিস্তারিত বিবরণ। এসব কিছু দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

জুলাই জাদুঘরে যেতে চাইলে আপনাকে অনলাইনে আগেই স্লট বুক করতে হবে।

অনলাইনে যেভাবে টিকিট কাটবেন-

  • জাদুঘরে প্রবেশে আগ্রহীদের প্রথমে ‘জুলাই ৩৬’ ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
  • এরপর নিজের সুবিধামতো ভিজিটের সময় নির্বাচন করে একই ওয়েবসাইট থেকে অনলাইন টিকিট সংগ্রহ করা যাবে।

তবে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে সময়ভিত্তিক (স্লট) বুকিং করা দর্শনার্থীদের অনুমোদিত সময়েই প্রবেশ করতে হবে। কোনো দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে গেলে পরবর্তী দিনের খালি থাকা সময় নির্বাচন করতে হবে।

প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অনলাইন বা অফলাইনে টিকিট সংগ্রহের মাধ্যমে সাধারণ দর্শনার্থীরা জাদুঘর পরিদর্শন করতে পারবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow