জুলাইজুড়ে সহিংসতার শিকার ২৯৯ নারী ও মেয়ে শিশু
একটি মাস। মাত্র ৩১ দিন। কিন্তু এই সময়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ২৯৯ জন নারী ও মেয়ে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কোথাও ধর্ষণ, কোথাও হত্যাকাণ্ড, কোথাও পারিবারিক সহিংসতা, আবার কোথাও আত্মহত্যা কিংবা রহস্যজনক মৃত্যু। প্রতিটি ঘটনাই আলাদা, কিন্তু সবকটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারীর প্রতি সহিংসতার একই নির্মম বাস্তবতা। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও দুটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি মাসিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই চিত্র। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৯৯ জন নারী। তাদের মধ্যে ১৩৮ জন শিশু। পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ধর্ষণের ঘটনা। এ সময়ে ৪৫ জন মেয়েশিশু ও ৩০ জন নারীসহ মোট ৭৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, যাদের মধ্যে ৪ জন শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬ জনকে, যার মধ্যে ২ জন কন্যা। ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে ১ জন মেয়ে। এছাড়া ৩৫ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৭ জনই মেয়েশিশু। যৌন সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক। জুলাই মা
একটি মাস। মাত্র ৩১ দিন। কিন্তু এই সময়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ২৯৯ জন নারী ও মেয়ে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কোথাও ধর্ষণ, কোথাও হত্যাকাণ্ড, কোথাও পারিবারিক সহিংসতা, আবার কোথাও আত্মহত্যা কিংবা রহস্যজনক মৃত্যু। প্রতিটি ঘটনাই আলাদা, কিন্তু সবকটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নারীর প্রতি সহিংসতার একই নির্মম বাস্তবতা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপ-পরিষদের সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিক ও দুটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি মাসিক পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে এই চিত্র। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৯৯ জন নারী। তাদের মধ্যে ১৩৮ জন শিশু।
পরিসংখ্যান বলছে, জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ধর্ষণের ঘটনা। এ সময়ে ৪৫ জন মেয়েশিশু ও ৩০ জন নারীসহ মোট ৭৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার, যাদের মধ্যে ৪ জন শিশু। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬ জনকে, যার মধ্যে ২ জন কন্যা। ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে ১ জন মেয়ে। এছাড়া ৩৫ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৭ জনই মেয়েশিশু।
যৌন সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক। জুলাই মাসে ২৪ জন নারী ও মেয়েশিশু যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ১৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, যাদের ১৩ জন শিশু। উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন ২ জন। উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ২ জন, যার মধ্যে ১ শিশু রয়েছে। পাশাপাশি সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৬ জন, যাদের মধ্যে ৪ জন মেয়ে শিশু।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৫০ জন নারী ও মেয়ে শিশু। নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু এবং ৩৯ জন নারী। এছাড়া ২ জনকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সময়ে ৩০ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫ জন শিশু ও ২৫ জন নারী।
আত্মহত্যার ঘটনাও কম নয়। জুলাই মাসে আত্মহত্যা করেছেন ২২ জন, এর মধ্যে ৬ জন শিশু। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ রয়েছে ৬টি ঘটনায়, যার মধ্যে ১ জন মেয়ে শিশু রয়েছেন। এছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন ১ জন।
যৌতুক-সংক্রান্ত সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৯ জন। তাদের মধ্যে ৩ জনকে যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৪ জন এবং গৃহকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন ১ জন।
এ সময় অপহরণের শিকার হয়েছেন ১০ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন মেয়ে শিশু। অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে আরও ৫ জনের ক্ষেত্রে, যার মধ্যে ২ জন মেয়ে শিশু। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১৭ জন, যাদের মধ্যে ৩ জন মেয়ে শিশু।
এছাড়া জুলাই মাসে ১টি বাল্যবিবাহ এবং ৫টি বাল্যবিবাহের চেষ্টার ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৮ জন, যাদের মধ্যে ৫ জন মেয়ে শিশু।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের মতে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব ঘটনা দেশের নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। সংগঠনটি নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
What's Your Reaction?