দর্শক ধারণ ক্ষমতা ৫ থেকে ৬ হাজার; কিন্তু মাঠে দর্শক সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। কি আর করা! অগত্যা মাঠের চারপাশে কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনির মধ্যে হাজার তিনেক ফুটবল অনুরাগীকে খেলা দেখার সুযোগ করে দেয়া হলো।
গ্যালারিতে উপচে পড়া এবং মাঠের পাশে সাইডলাইনে কয়েক হাজার দর্শক- সব মিলিয়ে আনুমানিক ১০ থেকে ১২ হাজার ফুটবল অনুরাগী জড়ো হলেন একটি জেলার জেলা প্রশাসন কাপের ফাইনাল খেলা দেখতে। এমন অবস্থায় খেলা চালানোয় থাকে অনেক বেশি ঝুঁকি। কিন্তু তার মধ্যেও শুক্রবার বিকেলে মানিকগঞ্জের শহীদ মিরাজ - তপন স্টেডিয়ামে নির্বিঘ্নে অনুষ্ঠিত হলো মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসন কাপ ফুটবলের জমজমাট ফাইনাল।
তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালে টাইব্রেকারে শিবালয় উপজেলাকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা। খেলার নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ছিল ১-১ গোলে সমতা।
প্রথমার্ধের ৭ মিনিটে হীরার গোলে এগিয়ে যায় শিবালয় উপজেলা। ৩ মিনিটের মধ্যে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার সালমান মাহমুদ গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন। আক্রমণ প্রতি আক্রমণের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা ম্যাচের বাকি সময় আর কোনো দলই গোল করতে না পারায় খেলা গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। পেনাল্টি শ্যুটআউটে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আতিকুর, বিল্টু ও সালমান মাহমুদ গোল করেন। অন্যদিকে শিবালয় উপজেলার পক্ষে পিন্টু আর রাফি ছাড়া আর কেউ গোল করতে পারেননি।
খেলা শেষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দীন চৌধুরী ও মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা, জেলা জামায়াতের আমির কামরুল ইসলাম এবং মানিকগঞ্জের পিপি অ্যাডভোকেট আ হ ম নুরতাজ আলম বাহার, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস , সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর, জেলা প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মানিকগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মানিগঞ্জ সদরের ডিফেন্ডোর রাসেল প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় মনোনীত হন। এছাড়া মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোলরক্ষক ইদ্রিস ফাইনাল সেরা পারফরমারের পুরষ্কার পান। এছাড়া শিবালয় উপজেলার সোহেল ও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার শিপন যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন।
এআরবি/ আইএইচএস/