জেলেনস্কির খনিজ চুক্তি ইস্যুতে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রস্তাবিত খনিজ চুক্তির সর্বশেষ সংস্করণ প্রত্যাখ্যানের আগে জেলেনস্কিকে ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (৩১ মার্চ) ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কির আপত্তির কারণে প্রস্তাবিত চুক্তিটি বাতিল হয়েছিল। নতুন প্রস্তাব আগের তুলনায় আরও কঠোর বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্র যে কয়েকশ’ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা দিয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ কিয়েভকে খনিজ সম্পদের মাধ্যমে দিতে হবে। শুরুতে চুক্তিটি বিরল খনিজসম্পদের ওপর কেন্দ্রিত ছিল। মার্চের শুরুতে এর একটি খসড়া সই হওয়ার কথা ছিল, তবে ওভাল অফিসের এক বৈঠকে ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং জেলেনস্কির মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের কারণে সেটি বাতিল হয়ে যায়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য প্রদান সাময়িকভাবে স্থগিত করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলেনস্কি আলোচনা পুনরায় শুরুর ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউক্রেন কোনোভাবেই ঋণী নয়।
এদিকে শুক্রবার জেলেনস্কি নিশ্চিত করেন, তার সরকার চুক্তির নতুন একটি খসড়া পেয়েছে। তবে তিনি বলেন, এতে এমন কিছু শর্ত যোগ করা হয়েছে, যা আগে আলোচনা হয়নি কিংবা আগের খসড়ায় প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।
অপরদিকে রোববার এয়ারফোর্স ওয়ান-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, জেলেনস্কি চুক্তি থেকে সরে আসার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, আমরা বিরল খনিজসম্পদ নিয়ে একটি চুক্তি করেছি। এখন তিনি (জেলেনস্কি) বলছেন, ‘আমি নতুন করে আলোচনা করতে চাই’। যদি তিনি চুক্তিটি পুনরায় আলোচনা করতে চান, তবে তিনি বড় সমস্যায় পড়বেন।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের আকাঙ্ক্ষা পরিত্যাগ করা উচিত। তার ভাষায়, জেলেনস্কি ন্যাটোর সদস্য হতে চান। কিন্তু তিনি কখনোই তা পারবেন না, এটা তিনি বোঝেন।
প্রস্তাবিত নতুন চুক্তির শর্ত আগের চেয়ে কঠিন হচ্ছে। এতে বলা হয়েছে- ২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে যে সহায়তা দিয়েছে, তা পুরোপুরি ফেরত পেতে হবে। ইউক্রেন যৌথ খনিজ উত্তোলন তহবিল থেকে কোনো মুনাফা পাওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্র ৪% বার্ষিক সুদ পাবে।
এ বিষয়ে জার্মানির কিয়েল ইনস্টিটিউট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে ১২৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রকৃত ব্যয় ৩০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে এই ইস্যু ইউক্রেনের জন্য আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। আগামী দিনে চুক্তি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, তা বিশ্ব রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।