‘জ্বালানি তেল আমদানির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকা উচিত’

পেট্রোলিয়াম জ্বালানিকে বিশ্বের সব দেশেই একটি ‘স্পর্শকাতর পণ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে কারণে বেশিরভাগ দেশেই পেট্রোলিয়াম জ্বালানির বিপণন ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ রাখা হয় সরকারের হাতেই। সম্প্রতি দেশে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণন ব্যবস্থাপনা বেসরকারিতে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। মাত্র দুই কর্মদিবস সময় দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেসরকারিতে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি নীতিমালার খসড়া চেয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) চিঠি দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি খাতের আমদানি ও বিপণন ব্যবস্থায় থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসিতে শুরু হয়েছে অস্বস্তি। বিষয়টি নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় অবস্থান স্পষ্ট করে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আরও পড়ুন পরিশোধিত জ্বালানির ৮০ শতাংশ এক চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রণে এতে বলা হয়েছে, দেশে নিরবছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর একটি

‘জ্বালানি তেল আমদানির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকা উচিত’

পেট্রোলিয়াম জ্বালানিকে বিশ্বের সব দেশেই একটি ‘স্পর্শকাতর পণ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে কারণে বেশিরভাগ দেশেই পেট্রোলিয়াম জ্বালানির বিপণন ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ রাখা হয় সরকারের হাতেই। সম্প্রতি দেশে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণন ব্যবস্থাপনা বেসরকারিতে দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।

মাত্র দুই কর্মদিবস সময় দিয়ে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেসরকারিতে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি নীতিমালার খসড়া চেয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) চিঠি দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে পেট্রোলিয়াম জ্বালানি খাতের আমদানি ও বিপণন ব্যবস্থায় থাকা সরকারি প্রতিষ্ঠান বিপিসিতে শুরু হয়েছে অস্বস্তি।

বিষয়টি নিয়ে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় অবস্থান স্পষ্ট করে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

এতে বলা হয়েছে, দেশে নিরবছিন্ন ও নিরাপদ জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘বেসরকারি পর্যায়ে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিপূর্বক সংরক্ষণ, পরিবহন, বিতরণ ও বিপণন নীতিমালা, ২০২৬’-এর একটি খসড়া প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

প্রস্তাবিত নীতিমালা প্রণয়নের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত ও পরামর্শ নিয়ে নীতিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে।

এই নীতিমালার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই বলেও জানানো হয়।

তবে বিগত দীর্ঘ সময় জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত সাবেক কর্মকর্তাদের মতেও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণন বেসরকারিতে গেলে যে কোনো সময় সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাগো নিউজের সঙ্গে কথা হয় জ্বালানি খাতের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তার সঙ্গে। তারা বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী ও স্বাধীন করা না গেলে বেসরকারিতে পরিশোধিত জ্বালানি দিলে ভবিষ্যতে নাগরিক ভোগান্তি বাড়াবে।

দীর্ঘদিন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনে বিভিন্ন বিভাগে কাজ করেছেন এবং বাণিজ্য ও বিপণন বিভাগে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিপিসি সারাদেশে সব সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করেছে। কখনো ব্যর্থ হয়নি। এবছর যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, তা ছিল প্যানিক বায়িং বা আতঙ্কগ্রস্ত ক্রয়। একটি সফল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিপিসিকে জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও বিপণনের দায়িত্বে রাখা জরুরি এবং অত্যাবশ্যক।’

তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়ায় পেট্রোনাস, থাইল্যান্ডে পিটিটি, ভিয়েতনামে পেট্রোভিয়েতনাম ও পেট্রোলিমেক্স এবং ভারতে আইওসিএল, বিপিসিএল, এইচপিসিএল জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণনের কার্যক্রম পরিচালনা করে। পৃথিবীর উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কৌশলগত ও স্পর্শকাতর পণ্য হিসেবে জ্বালানি তেল আমদানি, মজুত ও বিপণন সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। কারণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে যে কোনো সরকার বেকায়দায় পড়বে ও এটি ক্ষমতা হারানোর কারণও হতে পারে।’

পৃথিবীর উন্নয়নশীল সব দেশেই জ্বালানির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকে। আমাদের দেশেও জ্বালানি তেলের আমদানি নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকা উচিত। পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ যদি প্রাইভেট সেক্টরে দেওয়া হয়, তাহলে যে কোনো সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ভেঙে পড়বে।-বিপিসি সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক ও যমুনা অয়েল কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারী

‘বর্তমানে বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা সাধারণ ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। সরকার পলিসি নিয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে কিন্তু বিপিসির মতো একটি সফল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর দেখিয়ে বেসরকারির সুযোগ সৃষ্টির ক্ষেত্রে আরও পর্যালোচনা প্রয়োজন। টিসিবিকে দুর্বল করার কারণে ভোগ্যপণ্যের বাজার সব সময় অস্থিতিশীল থাকে,’বলেন তিনি।

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন পেট্রোলিয়াম জ্বালানি পণ্যের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়। সরবরাহ করা জ্বালানির মধ্যে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল। অবশিষ্ট হিসেবে প্রায় ৫০-৫৫ লাখ পরিশোধিত জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশে সরবরাহ ও বিপণন করে বিপিসি।

বিপিসি সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক ও যমুনা অয়েল কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দিন আনসারী জাগো নিউজকে বলেন, ‘পৃথিবীর উন্নয়নশীল সব দেশেই জ্বালানির নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকে। আমাদের দেশেও জ্বালানি তেলের আমদানি নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতেই থাকা উচিত। পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি ও বিপণন নিয়ন্ত্রণ যদি প্রাইভেট সেক্টরে দেওয়া হয়, তাহলে যে কোনো সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ভেঙে পড়বে। যে কোনো সময়ে সরকারকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হতে পারে।’

কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে গেলে, যখন লোকসান দিতে হবে তখন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তেল (ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন) বিক্রি করবে না। এমনকি তারা (বেসরকারি প্রতিষ্ঠান) আমদানিও করবে না, জ্বালানি তেল বিপণনও করবে না। এতে জ্বালানি চেইন বিঘ্নিত হয়ে যেতে পারে, তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়ে পুরো দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হতে পারে। তখন সরকারকে বেকায়দায় পড়তে হবে। সংকট মোকাবিলা করতে হবে মূলত সরকারি প্রতিষ্ঠানকেই।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর জন্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। বাজারে হাহাকার হয়। ১৯৮ টাকা কেজির তেল ২২০ টাকা হয়ে যায়। পরিশোধিত জ্বালানি বেসরকারিতে আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দিলে একই অবস্থা হবে।-বিপিসির সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হানিফ

একই ধরনের মন্তব্য করেছেন বিপিসির সাবেক ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক ও এলপি গ্যাস লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু হানিফ। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘জন্মলগ্ন থেকে বিপিসি যেভাবে জ্বালানি তেল সরবরাহ দিয়ে আসছে, তাতে কখনো দাম নিয়ে তুঘলকি হয়নি। অতীতে অনেক সময় কৃত্রিম সংকট হয়েছে, কিন্তু পেট্রোলপাম্পগুলোতে ওই সময়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করেছে এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি।’

‘এখন বেসরকারিতে গেলে সংকটের সময়ে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া একেক স্থানে একেক ধরনের দাম হয়ে যাবে। ডিজেল কোথাও হবে একশ বিশ কোথাও হবে দেড়শ। তখন সরকারের পক্ষেও নিয়ন্ত্রণ করা মুশকিল হয়ে যাবে।’

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ‘বর্তমানে জ্বালানিতে নিয়ন্ত্রণ সংস্থা হিসেবে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রয়েছে। তারা কী এলপিজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে? গত এক বছর ধরে বিইআরসি যে দর নির্ধারণ করে দেয় ভোক্তাদের দুই থেকে তিনশ টাকা বেশিতে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে।’

‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দেয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর জন্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। বাজারে হাহাকার হয়। ১৯৮ টাকা কেজির তেল ২২০ টাকা হয়ে যায়। পরিশোধিত জ্বালানি বেসরকারিতে আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দিলে একই অবস্থা হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনুমতি দিলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান মানসম্মত জ্বালানি তেল আমদানি করবে না কিংবা করতে পারবে না। নানান সময়ে বেসরকারিতে তেলের জাহাজ বহির্নোঙরে আসবে, নানান প্রভাব ও চাপ তৈরি করে মানহীন তেলকে বিপিসির স্পেকের তেল হিসেবে কাগজে উল্লেখ করিয়ে এসব তেল বাজারে ছেড়ে দেবে। এতে গাড়ির মালিকরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাদের গাড়ির ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল কমে যাবে। এতে পরোক্ষভাবে অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বেসরকারিতে গেলে বিপিসির কর্মকর্তাদের মধ্যেও কাজে অনীহা তৈরি হবে, কর্মক্ষমতা কমবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যতটুকু আমদানি করবে, ততটুকু সরকারের অংশীদারত্ব কমবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে সরকার জি-টু-জির মার্কেট হারাবে।’

বেসরকারিতে দিলে সর্বোপরি আমাদের দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে না বলে মন্তব্য করেন অবসরপ্রাপ্ত এ কর্মকর্তা।

আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সক্ষমতা ও নৈতিকতা সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। অন্যথায় বেসরকারিতে দিলে সরকারকে এজন্য বেকায়দায় পড়তে হতে পারে।-ইআরএলের সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ও ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘পরিশোধিত কিংবা অপরিশোধিত জ্বালানি যেটিই হোক না, দুটো আমাদের দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো যতদিন পর্যন্ত না সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী ও কার্যকর করা না যাবে, ততদিন পর্যন্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে জ্বালানি পণ্য আমদানি ও বিপণনের অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই।’

পৃথিবীর অনেক দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দেশের উন্নয়নে অংশীদার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানিতেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অংশীদারত্ব রয়েছে। তারা সেভাবে কোনো ধরনের বাহ্যিক চাপবিহীনভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। কিন্তু তাদের সেই পরিবেশটা আমাদের লাগবে। যেখানে অন্যায়, অনিয়ম, অর্থপাচার ও অবৈধভাবে ব্যবসাকে কুক্ষিগত করার পরিবেশ রয়েছে, আগে সেগুলো দূর করতে হবে।’

বাংলাদেশেও জ্বালানি বেসরকারি খাতে যেতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সক্ষমতা ও নৈতিকতা সমন্বয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। অন্যথায় বেসরকারিতে দিলে সরকারকে এজন্য বেকায়দায় পড়তে হতে পারে।’

বিপিসি বলছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে বিপিসির অঙ্গ প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩৪১ টন জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক ব্যবহার হয়েছে পরিবহন খাতে। পরিবহন খাতে মোট বিক্রি হয়েছে ৬৩ দশমিক ৪১ শতাংশ জ্বালানি। পাশাপাশি কৃষিতে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ, শিল্পে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ, বিদ্যুতের ১১ দশমিক ৬৭ শতাংশ, গৃহস্থালিতে শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে অন্য খাতে।

এর মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইআরএল ক্রুড অয়েল পরিশোধন করে ৭ লাখ ৩২ হাজার ২৩০ টন ডিজেল, ৩ লাখ ৮৬ হাজার ২২৯ টন ফার্নেস অয়েল, ৫৯ হাজার ১৫০ টন পেট্রোল, ৫৬ হাজার ৯৩৪ টন কেরোসিন, ৫৭ হাজার ৪১৪ টন বিটুমিন, ১৬ হাজার ১৮৭ টন এলপিজি, ৮ হাজার ৭১ টন জেবিও এবং ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫২৯ টন ন্যাফতা বিপিসিকে সরবরাহ দিয়েছে।

ব্যবহৃত জ্বালানি পণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৪৩ লাখ ৫০ হাজার ৭৫ টন, যা মোট বিক্রির ৬৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ফার্নেস অয়েল ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮ টন, যা মোট বিক্রির ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ। পেট্রোল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৪৭৫ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অকটেন ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫৩ টন, যা মোট ব্যবহারের ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

এছাড়া কেরোসিন ৬৭ হাজার ৪৭৭ টন, যা মোট ব্যবহারের শূন্য দশমিক ৯৯ শতাংশ। জেট ফুয়েল ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৮০৪ টন, যা মোট ব্যবহারের ৮ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৯ টন, যা মোট ব্যবহারের ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পেট্রোলিয়াম পণ্য রয়েছে। দেশের মোট ২৭টি ডিপোর মাধ্যমে এসব জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।

এমডিআইএইচ/এএসএ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow