জ্বালানি সংকটের মধ্যে সুখবর দিল সিলেট গ্যাস ফিল্ড
বিশ্বব্যাপী যখন জ্বালানির তীব্র সংকট তখন সুখবর দিল সিলেট গ্যাস ফিল্ড। গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ৯টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে পাঁচটি কূপ খনন করা হয়েছে। চারটির খনন প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া আরও ৮টি গ্যাস কূপের ওয়ার্ক ওডারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ গ্যাসক্ষেত্র খননের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে কালবেলাকে জানিয়েছেন সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন। প্রতিদিন ১৪২ থেকে ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত জ্বালানিও জাতীয় চাহিদার বড় অংশ মেটাচ্ছে। উৎপাদন আরও বাড়াতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনার আওতায় ৯টি নতুন কূপ খনন এবং ৮টি কূপ ওয়ার্ক ওর্ডারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদনের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সিলেটের মানুষ। জানা যায়, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির অধীনে থাকা হরিপুর, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩৪টি কূপের মধ্যে বর্তমানে ১৭টি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জা
বিশ্বব্যাপী যখন জ্বালানির তীব্র সংকট তখন সুখবর দিল সিলেট গ্যাস ফিল্ড। গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ৯টি কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে পাঁচটি কূপ খনন করা হয়েছে। চারটির খনন প্রক্রিয়া চলছে। এ ছাড়া আরও ৮টি গ্যাস কূপের ওয়ার্ক ওডারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
এ গ্যাসক্ষেত্র খননের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে কালবেলাকে জানিয়েছেন সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন।
প্রতিদিন ১৪২ থেকে ১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের পাশাপাশি কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত জ্বালানিও জাতীয় চাহিদার বড় অংশ মেটাচ্ছে। উৎপাদন আরও বাড়াতে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনার আওতায় ৯টি নতুন কূপ খনন এবং ৮টি কূপ ওয়ার্ক ওর্ডারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদনের খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সিলেটের মানুষ।
জানা যায়, সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির অধীনে থাকা হরিপুর, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩৪টি কূপের মধ্যে বর্তমানে ১৭টি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন হচ্ছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিজস্বভাবে প্রতিদিন প্রায় ৭৫০ ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদিত হয়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক কোম্পানি শেভরন ও তাল্লোর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আরও ৬ হাজার থেকে ৬ হাজার ৫শ ব্যারেল কনডেনসেট পাওয়া যায়। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫শ ব্যারেল কনডেনসেট সিলেট গ্যাস ফিল্ড ও অন্যান্য রিফাইনারিতে বণ্টন করা হচ্ছে। এই কনডেনসেট থেকে পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিন উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
সিলেটের রশিদপুর রিফাইনারিতে এই কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩শ থেকে সাড়ে ৩ হাজার ব্যারেল পেট্রল, ৬শ থেকে ৭শ ব্যারেল অকটেন, ১৫০ থেকে ২৫০ ব্যারেল ডিজেল এবং ১০০ থেকে ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন উৎপাদন করা হচ্ছে। উৎপাদিত এসব জ্বালানি বিপিসির মার্কেটিং কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা এবং দেশের বিভিন্ন পেট্রল পাম্পের মাধ্যমে সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।
গ্যাস ফিল্ড সূত্র আরও জানায়, সিলেট গ্যাস ফিল্ডে বর্তমানে মোট ৩৪টি কূপ রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন চলছে, আর বাকি কূপগুলো পুরোনো হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির হরিপুর, কৈলাশটিলা, বিয়ানীবাজার ও রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্রের ৩৪টি কূপের মধ্যে ১৭টি কূপ থেকে ১৪ কোটি ২০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করছে। এর পরিমাণ আরও বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে কোম্পানি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পরিকল্পনার আওতায় ৯টি নতুন কূপ খনন এবং ৮টি কূপ ওয়ার্ক ওর্ডারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫টি কূপ খনন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ৪টি কূপের খনন ও ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া একটি তেল কূপ খননের জন্য ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে।
জাতীয় চাহিদা পূরণে সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি দেশের উল্লেখযোগ্য অংশের চাহিদা পূরণ করছে। বর্তমানে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া জ্বালানি দিয়ে দেশের মোট পেট্রলের ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ, কেরোসিনের ৭ শতাংশ, অকটেনের ৭ থেকে ৮ শতাংশ এবং ডিজেলের ০.২ থেকে ০.৩ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরহাদ হাওলাদার কালবেলাকে বলেন, দেশের উন্নয়ন মূলত দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর নির্ভরশীল। পরিকল্পনা থাকলেও তা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন না হলে শিল্প-কারখানায় এনার্জি সংকট দেখা দেয়, ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয় এবং লোকসান বাড়ে। বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অনেক শিল্প আংশিকভাবে চলছে, সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তি তৈরি হচ্ছে।
তিনি বলেন, সিলেট গ্যাস ফিল্ডসহ দেশের অধিকাংশ পুরোনো গ্যাসক্ষেত্র উৎপাদন হ্রাসের মধ্যে রয়েছে। এ অবস্থায় সিলেটের ৯টি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ ইতিবাচক ও প্রয়োজনীয়, যদিও টেন্ডারিং ও প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে কাজ সম্পন্ন হতে সময় লাগে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশের গ্যাস স্তর তুলনামূলক ছোট হওয়ায় বেশি পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত, তবে কিছুটা উৎপাদন বাড়বে।
এ অধ্যাপক বলেন, দেশের সমুদ্র এলাকায় বিপুল গ্যাস ও তেলের মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দ্রুত অফশোর অনুসন্ধানে জোর দেওয়া প্রয়োজন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, পুণ্যভূমি সিলেট থেকে গ্যাস ও তেল উত্তোলনের বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং চলমান বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। একইসঙ্গে সিলেটের অন্যান্য সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতেও গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানে ভূতত্ত্ববিদদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে নতুন আবাসিক ভবনগুলোতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অতীতে সরকারের নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে এই সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নতুন গ্যাস সংযোগের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে এগিয়ে নিতে তারেক রহমান এর গৃহীত কর্মসূচিতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সিলেটবাসী অতীতের মতোই দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী কালবেলাকে বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সিলেট থেকে তেল ও গ্যাস উত্তোলন দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি সংকট নিরসনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, সিলেট থেকে সারা দেশে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও স্থানীয় চাহিদা পূরণের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা উচিত। একইসঙ্গে সিলেট অঞ্চল শিল্প-বাণিজ্যে পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার গ্যাসসহ প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব, যা অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে।
সিলেট গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফারুক হোসেন কালবেলাকে বলেন, সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন ১৪২-১৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিজস্বভাবে প্রায় ৭৫০ ব্যারেল এবং শেভরন ও তাল্লোর মতো আন্তর্জাতিক কোম্পানি থেকে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার ব্যারেল কনডেনসেট উৎপাদিত হচ্ছে, যার মধ্যে ৪,৫০০ ব্যারেল বিভিন্ন রিফাইনারিতে বণ্টন করা হয়।
তিনি বলেন, রশিদপুর রিফাইনারিতে এ কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে প্রতিদিন ৩ হাজার ৩শ থেকে ৩ হাজার ৫শ ব্যারেল পেট্রল, ৬শ থেকে ৭শ ব্যারেল অকটেন, ১৫০-২৫০ ব্যারেল ডিজেল এবং ১০০-১৫০ ব্যারেল কেরোসিন উৎপাদন করা হচ্ছে, যা বিপিসির পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির মাধ্যমে সারাদেশে সরবরাহ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মোট ৩৪টি কূপের মধ্যে বর্তমানে ১৭টি কূপ উৎপাদনে রয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৯টি নতুন কূপ খনন ও ৮টি কূপ ওয়ার্কওভারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; এর মধ্যে ৫টি সম্পন্ন, ৩টি চলমান এবং একটি তেল কূপ খননে ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন।
What's Your Reaction?