পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ‘জয় বাংলা ক্লাব’র সভাপতি রাকিব মুসুল্লি। সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাভার উপজেলা কমিটিতে যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়ায় আলোচনায় এসেছেন তিনি। এ নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কলাপাড়া উপজেলার নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাভার উপজেলার আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়ায় রাকিব মুসুল্লির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে পদটি স্থগিত করা হয়েছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র আল মাসুদ সজীব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাকিব মুসু্ল্লির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জানা গেছে, কলাপাড়ার মহিপুর জয় বাংলা ক্লাবের সভাপতি রাকিব মুসুল্লি। দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর মতো তিনিও এলাকা ছাড়েন। ৫ তারিখের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরে ঢাকার সাভারে আশ্রয় নেন। সাভারে গিয়ে রাকিব মুসুল্লি ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’-এর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং সংগঠনটির সাভার উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক পদে জায়গা করে নেন। সম্প্রতি একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের ও মহিপুর থানা শাখার জয় বাংলা ক্লাবের সভাপতি এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার তথ্য উঠে আসে, যা সংগঠনের অভ্যন্তরে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
জানতে চাইলে রাকিব মুসুল্লি বলেন, আমি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের স্বপক্ষে ছিলাম কিন্তু আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তবে পদ স্থগিত হয়নি। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী সংগঠন যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
সাভার উপজেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহিদ হাসান রাফসান বলেন, মহিপুর জয় বাংলা ক্লাবের সভাপতি রাকিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে পথটি অস্থায়ীভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কেন্দ্রে পাঠাব। কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটা আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে জানাব।