ঝগড়া থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর, হত্যার অভিযোগ
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে মো. কামাল উদ্দিন (৫০) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লচি সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহত কামাল উদ্দিন ওই এলাকার মৃত মো. সোলেমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে গাছের (কাঠের) ব্যবসা করতেন। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত কামালের ছেলে তারেক ও ভাতিজা ফরহাদ পাশের মিনু আলী হাজী বাড়ির রনি ও শামুর সঙ্গে চলাফেরা করতেন। সম্প্রতি ঈদুল আজহার ছুটি চলাকালীন তারা লচি সর্দার বাড়ির পেছনে একটি জুয়ার আসর বসান। বিষয়টি জানাজানি হলে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফরহাদের বাগবিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে লচি সর্দার বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ও ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঝগড়া থামাতে এগিয়ে যান ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন। অভ
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় জুয়ার আসরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে দুই পক্ষের ঝগড়া থামাতে গিয়ে মো. কামাল উদ্দিন (৫০) নামে এক কাঠ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লচি সর্দার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষের হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে কোনো দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
নিহত কামাল উদ্দিন ওই এলাকার মৃত মো. সোলেমানের ছেলে। তিনি স্থানীয় বাজারে গাছের (কাঠের) ব্যবসা করতেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নিহত কামালের ছেলে তারেক ও ভাতিজা ফরহাদ পাশের মিনু আলী হাজী বাড়ির রনি ও শামুর সঙ্গে চলাফেরা করতেন। সম্প্রতি ঈদুল আজহার ছুটি চলাকালীন তারা লচি সর্দার বাড়ির পেছনে একটি জুয়ার আসর বসান। বিষয়টি জানাজানি হলে পাশের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে ফরহাদের বাগবিতণ্ডা হয়।
এরই জের ধরে শনিবার রাত সোয়া ৯টার দিকে লচি সর্দার বাড়িতে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে আবারও উত্তেজনা ও ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং ঝগড়া থামাতে এগিয়ে যান ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন। অভিযোগ রয়েছে, তখন মিনু আলী হাজী বাড়ির ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন কামাল উদ্দিনের ওপর অতর্কিত চড়াও হন। একপর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. তোফায়েল বলেন, পাশের বাড়ির ইমাম উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। ঘটনার সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না। আমার ভাই কামাল তাদের মারামারি করতে বাধা দিতে গেলে তার ওপর চড়াও হয়। তবে ঠিক কী কারণে তারা এতটা উগ্র আচরণ করেছে, তা আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সুধারাম থানার পরিদর্শক (অপারেশন) শ্রীরাম চন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে নিহতের ভাতিজা ফরহাদকে মারধর করা হয়েছিল। পরে চাচা কামাল উদ্দিন ঝগড়া থামাতে গেলে তিনি হঠাৎ বেহুঁশ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
What's Your Reaction?