এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে টাঙ্গাইলে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করলেও এসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠদানের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে প্রকাশিত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানা যায়।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় টাঙ্গাইল জেলার স্কুল ও মাদ্রাসা মিলিয়ে মোট ৭৫২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৪৬ হাজার ৪৫১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৭ হাজার ৪৭৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ১৭৩ জন শিক্ষার্থী।
তবে জেলার ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে- ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বিএম দাখিল মাদ্রাসা, ঘাটাইল উপজেলার মনতলা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ আনোয়ার খান মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও আগদিঘুলিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর বহুমুখী দাখিল মাদ্রাসা।
একই জেলার ৭৫২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যখন হাজারো শিক্ষার্থী পাস করেছে এবং ২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, তখন ছয়টি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও পাস না করায় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত পাঠদান এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা বলেন, ‘যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। জবাব পাওয়ার পর বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
শিক্ষা কর্মকর্তার এমন বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, শূন্য পাসের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি এম এ আলী কলেজের অধ্যাপক আনোয়ার বলেন, ‘শুধু কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েই বিষয়টি শেষ না করে কেন এসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ হচ্ছে, তার কারণ চিহ্নিত করা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষকদের পাঠদানের মান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলোও পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।’