টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদ ছাড়ছেন এন চন্দ্রশেখরন
ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন আগামী বছর মেয়াদ শেষ হলে আর চেয়ারম্যান পদে থাকতে চান না। বুধবার (১২ আগস্ট) তিনি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি পুনর্নিয়োগের জন্য আর প্রার্থী হবেন না। চন্দ্রশেখরনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী টাটায় নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। ৬৩ বছর বয়সী চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, তার পুনর্নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে পরিচালনা পর্ষদে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই আর নতুন মেয়াদের জন্য প্রস্তাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য পরিচালনা পর্ষদকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। এতে নেতৃত্বের পরিবর্তন যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিও নিশ্চিত করা যাবে। টাটা গোষ্ঠীতে নেতৃত্বের টানাপোড়েন চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে মতবিরোধের খবর আগে থেকেই ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার পুনর্নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। বিভি
ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন আগামী বছর মেয়াদ শেষ হলে আর চেয়ারম্যান পদে থাকতে চান না। বুধবার (১২ আগস্ট) তিনি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি পুনর্নিয়োগের জন্য আর প্রার্থী হবেন না।
চন্দ্রশেখরনের এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী টাটায় নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।
৬৩ বছর বয়সী চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, তার পুনর্নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে পরিচালনা পর্ষদে আলোচনা শুরু হওয়ার পর ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই আর নতুন মেয়াদের জন্য প্রস্তাব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের জন্য পরিচালনা পর্ষদকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। এতে নেতৃত্বের পরিবর্তন যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেটিও নিশ্চিত করা যাবে।
টাটা গোষ্ঠীতে নেতৃত্বের টানাপোড়েন
চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের মধ্যে মতবিরোধের খবর আগে থেকেই ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার পুনর্নিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়।
বিভিন্ন কোম্পানির লোকসানসহ টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল ও বিনিয়োগ নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছিল বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
‘দ্য ইকোনমিক টাইমস’ জানিয়েছে, টাটা ট্রাস্টসের প্রধান নোয়েল টাটা চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত আরোপের চেষ্টা করেছিলেন। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায় বড় অঙ্কের মূলধন বিনিয়োগ সীমিত করার বিষয়টিও ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
টাটা ট্রাস্টস টাটা সন্সের প্রায় ৬৬ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছে। ফলে টাটা গোষ্ঠীর পরিচালনা ও নেতৃত্ব নির্ধারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।
চন্দ্রশেখরন বলেন, টাটা সন্স একটি বিশাল প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমানে গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রকল্প বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। তাই কর্মী, বিনিয়োগকারী, অংশীদারসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য নেতৃত্ব নিয়ে স্পষ্টতা থাকা জরুরি।
তাতার গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানিগুলোতে চাপ
চন্দ্রশেখরন এমন এক সময়ে চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যখন টাটা গোষ্ঠীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
টাটা গোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি মুনাফা দেওয়া প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে চাপের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যারের দ্রুত বিস্তারও প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
গত এক বছরে টিসিএসের শেয়ারের দাম ২০ শতাংশের বেশি কমেছে। বুধবারও প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়।
অন্যদিকে ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারসহ টাটা মোটরসও নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
এ ছাড়া ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া ২০২২ সালে অধিগ্রহণের পর সেটিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করানোর টাটা গোষ্ঠীর পরিকল্পনাতেও নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
২০২৫ সালের জুনে আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী একটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানে থাকা ২৪২ জনের মধ্যে ২৪১ জন এবং মাটিতে থাকা ১৯ জন নিহত হন।
এর মধ্যেই স্থানীয় গণমাধ্যমে মঙ্গলবার আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে দাবি করা হয়, গত সপ্তাহে তীব্র মাঝ-আকাশের ঝাঁকুনির মুখে পড়া একটি এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইটের পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন। তবে এ বিষয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।
টাটা সন্সে চন্দ্রশেখরনের দীর্ঘ পথ
চন্দ্রশেখরন আগে টাটা গোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান টিসিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন।
তার নিয়োগের আগে টাটা গোষ্ঠীতে বড় ধরনের বোর্ডরুম সংকট তৈরি হয়েছিল। ওই সময় তীব্র মতবিরোধের পর সাইরাস মিস্ত্রিকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এরপর চন্দ্রশেখরন টাটা সন্সের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং গোষ্ঠীটির বিভিন্ন ব্যবসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পুনর্নিয়োগ নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তহীনতা টাটা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
শেয়ারবাজারেও প্রভাব
চন্দ্রশেখরনের পদ ছাড়ার ঘোষণার পর টাটা গোষ্ঠীর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বুধবার টাটা মোটরসের শেয়ারের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। টাটা স্টিলের শেয়ার প্রায় ২ শতাংশ এবং টাটা কমিউনিকেশনের শেয়ার ১ শতাংশের বেশি কমেছে।
চন্দ্রশেখরনের পর টাটা সন্সের নেতৃত্বে কে আসবেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে পরিচালনা পর্ষদকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান নিজেই। কারণ টাটা গোষ্ঠীর একাধিক বড় প্রকল্প এখন গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
চন্দ্রশেখরনের বিদায়ের সিদ্ধান্ত তাই শুধু একটি শীর্ষ পদে পরিবর্তন নয়; এটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও ব্যবসায়িক কৌশল নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সূত্র: এএফপি
এমএসএম
What's Your Reaction?