টিকার আওতায় আসবে সিলেটের সাড়ে ১৩ লাখ শিশু

সিলেটে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে বিভাগীয়, জেলা ও সিটি করপোরেশনে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সোমবার থেকে আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। রোববার (১৯ এপ্রিল) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়, জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে পৃথকভাবে আয়োজিত অ্যাডভোকেসি ও মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় পুরো সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সঠিক তথ্যের অভাব ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনেক সময় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইন সফল করতে হবে। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, হাম-রুবেলা (এমআর) ভ্যাকসিন শিশুদের মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। সিলেট জেলায় ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১২টিতে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র

টিকার আওতায় আসবে সিলেটের সাড়ে ১৩ লাখ শিশু

সিলেটে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে বিভাগীয়, জেলা ও সিটি করপোরেশনে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সোমবার থেকে আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়, জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে পৃথকভাবে আয়োজিত অ্যাডভোকেসি ও মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

সোমবার থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির আওতায় পুরো সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৯৬৯ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী বলেন, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সঠিক তথ্যের অভাব ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনেক সময় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই ক্যাম্পেইন সফল করতে হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, হাম-রুবেলা (এমআর) ভ্যাকসিন শিশুদের মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। সিলেট জেলায় ১৩টি উপজেলার মধ্যে ১২টিতে স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র এবং ২ হাজার ৫৩৪টি অস্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ টিকার আওতায় আনা হবে। এছাড়া আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলা এ কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জনবল সীমিত হলেও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত করে ক্যাম্পেইন শতভাগ সফল করা হবে। তিনি জানান, সিটি এলাকায় ৬৮ হাজার ৫৪০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে এবং নগরের অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হবে।

সভায় সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, সোমবার থেকে সারা দেশের মতো সিলেট সিটি করপোরেশনের এলাকাতেও জাতীয় হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন ২০২৬ শুরু হবে। মাসব্যাপী এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এক ডোজ করে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকা প্রদান করা হবে। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৬৮ হাজার ৫৪০ জন শিশুকে এ টিকা দেওয়া হবে।

 তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে প্রতিটি ওয়ার্ডের কমিউনিটি পর্যায়ে এবং পরবর্তী ধাপে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিদিন ৮৪টি টিম এ কার্যক্রমে নিয়োজিত থাকবে, প্রতিটি টিমে থাকবেন ২ জন ভ্যাকসিনেটর ও ৩ জন স্বেচ্ছাসেবী। কমিউনিটি পর্যায়ে ৮ কর্মদিবস এবং স্কুল পর্যায়ে ৬ কর্মদিবস এই ক্যাম্পেইন চলবে। কমিউনিটি পর্যায়ে সিসিকের নিয়মিত টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কোনো শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে না পারলে পরবর্তীতে স্থায়ী কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করতে পারবে।

 স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিভাগে টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালে আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শয্যার পিআইসিইউ চালু রয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় সিলেট জেলায় ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৩৫৪, মৌলভীবাজারে ২ লাখ ১০ হাজার ১৮৬, হবিগঞ্জে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪১ এবং সুনামগঞ্জে ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৮ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে। এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনে ৬৮ হাজার ৫৪০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হবে।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করা গেলেও নিবন্ধন ছাড়া এসেও শিশুদের টিকা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে পূর্বে টিকা গ্রহণ করলেও নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুকে এই ক্যাম্পেইনে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা টিকা বিষয়ে কোনো গুজব বা অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সঠিক তথ্যের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মী, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রগুলো হল, সিলেট সিটি করপোরেশন কার্যালয়, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মডেল ক্লিনিক, ধোপাদিঘীরপাড় বিনোদিনী নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কুমারপাড়া ওসমান মিয়া মাতৃসদন ও শিশু হাসপাতাল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow