টিকিট জালিয়াতির আন্তর্জাতিক ফাঁদ

বাঁশি বাজতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে বইছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের উন্মাদনা। তবে গ্যালারির টিকিট পাওয়ার এই তুমুল হাহাকার পুঁজি করে গ্যালারির বাইরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্র।  বিশ্বকাপের টিকেট বিক্রির নামে হুবহু ফিফার লোগো, ব্র্যান্ডিং ও রং নকল করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ভুয়ো ওয়েবসাইট। সাধারণ সমর্থকদের এই ডিজিটাল ফাঁদ থেকে বাঁচাতে এবং বড় আর্থিক জালিয়াতি রুখতে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইসেট’ সম্প্রতি ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এমন বেশ কিছু নিখুঁত ক্লোন ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে। প্রথম দেখায় এই সাইটগুলোকে আসল ফিফার প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। প্রযুক্তির পরিভাষায় প্রতারকদের এই চতুর কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘টাইপোস্কোয়াটিং’।  নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জালিয়াতি চক্রটি মূল ডোমেইনের সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্পর্কিত নানা আকর্ষণীয় শব্দ জুড়ে দিয়ে পেছনের অংশে .shop, .store বা .site-এর মতো এক্সটেনশন ব্যবহার করছে। ফলে খালি চোখে এগুলোকে

টিকিট জালিয়াতির আন্তর্জাতিক ফাঁদ

বাঁশি বাজতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে বইছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের উন্মাদনা। তবে গ্যালারির টিকিট পাওয়ার এই তুমুল হাহাকার পুঁজি করে গ্যালারির বাইরে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী চক্র। 

বিশ্বকাপের টিকেট বিক্রির নামে হুবহু ফিফার লোগো, ব্র্যান্ডিং ও রং নকল করে বাজারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ঝাঁকে ঝাঁকে ভুয়ো ওয়েবসাইট। সাধারণ সমর্থকদের এই ডিজিটাল ফাঁদ থেকে বাঁচাতে এবং বড় আর্থিক জালিয়াতি রুখতে এবার কোমর বেঁধে মাঠে নামছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা ‘ইসেট’ সম্প্রতি ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এমন বেশ কিছু নিখুঁত ক্লোন ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে। প্রথম দেখায় এই সাইটগুলোকে আসল ফিফার প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা করা প্রায় অসম্ভব। প্রযুক্তির পরিভাষায় প্রতারকদের এই চতুর কৌশলকে বলা হচ্ছে ‘টাইপোস্কোয়াটিং’। 

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, জালিয়াতি চক্রটি মূল ডোমেইনের সঙ্গে ২০২৬ বিশ্বকাপ সম্পর্কিত নানা আকর্ষণীয় শব্দ জুড়ে দিয়ে পেছনের অংশে .shop, .store বা .site-এর মতো এক্সটেনশন ব্যবহার করছে। ফলে খালি চোখে এগুলোকে একদম অফিসিয়াল সাইট বলেই বিভ্রম তৈরি হচ্ছে।

প্রতারণার মূল খেলাটি শুরু হয় যখন কোনো সমর্থক টিকেট বা বিশ্বকাপের স্যুভেনির কেনার উদ্দেশ্যে এসব সাইটে নাম নিবন্ধন করেন। রেজিস্ট্রেশনের অজুহাতে শুরুতে ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। এরপর টিকেট কেনার চূড়ান্ত ধাপে গিয়ে যখন ভক্তরা সরল বিশ্বাসে ক্রেডিট কার্ডের গোপন তথ্য ও পিন নম্বর ইনপুট দেন, তখনই খালি হয়ে যায় পকেট। 

বহুমাত্রিক এই জালিয়াতি টিকিয়ে রাখতে অপরাধীরা আগে থেকেই একাধিক ব্যাক-আপ সাইট তৈরি করে রাখছে, যেন একটি ব্লক বা বন্ধ হলে অন্যটি দিয়ে প্রতারণা চালানো যায়। অথচ ফুটবল অনুরাগীদের জানা থাকা দরকার, বিশ্বকাপের বৈধ টিকেট পাওয়ার একমাত্র অফিসিয়াল ঠিকানা হলো fifa.com/tickets; এর বাইরে সব পথই অবৈধ।

এদিকে খোদ টিকেটের আকাশচুম্বী দাম নিয়ে এমনিতেই বিশ্বজুড়ে ফ্যান সংগঠনগুলোর মাঝে ক্ষোভ চলছে। ‘ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপপর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রিয় দলের প্রতিটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে একজন সমর্থকের পকেট থেকে গড়ে খসে যাবে প্রায় ৬ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলার। 

টিকেটের এই চড়া মূল্যের বাজারে সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরা যাতে সাইবার অপরাধীদের শিকারে পরিণত না হন, সে জন্য ইসেট কিছু সুরক্ষামূলক পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটির মতে, যেকোনো লেনদেনের আগে ওয়েবসাইটের ইউআরএল খুঁটিয়ে যাচাই করা এবং ‘অবিশ্বাস্য রকমের সস্তা’ বা লোভনীয় কোনো লিংকে ক্লিক না করাই এই মুহূর্তে নিরাপদ থাকার প্রধান উপায়। 

মাঠের বল গড়ানোর আগেই এই সাইবার জালিয়াতদের রুখে দিতে ফিফা এখন তাদের আইনি ও প্রযুক্তিগত নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow