টিপু সুলতানের গুচ্ছ গুচ্ছ কবিতা
শীতের সঙ্গে মুদ্রিত এক প্রজ্ঞার চোরাস্রোতের গল্প মনে এলে এই আশ্বিনে, আমার সোমত্ত অক্ষতরূপ এক ঘুমন্ত রমণীর পাশে সমরাস্ত্র করে রাখি জেগে আছি, জানালার নিকটে পৃথিবী শুদ্ধ— দেখা মিলেছিল বহুবর্ণিল মৃদু শীতের সঙ্গে সে যোগাযোগ নগরীর প্রবেশদ্বারে পরিচয়, নাম—ঠিকানা টাঙানো সাইনবোর্ড সকলই মুখ তোমার; ছিল মসৃণ সন্দেহ, প্রেম; সে ছিল পুরোনো গন্ধ—প্রেরিত উপঢৌকন, মুদ্রার হরফ ভেঙে বেরিয়ে এল, বেড়াল— কাগজে আঁকানো তাবু ছেঁড়া নির্মিত জোছনা এমন দুর্গসময়ে পৃথিবীর পাশাপাশি যাত্রা— বেইলিরোড থিকা হাঁটা ধরে কমলাপুর যাচ্ছি রংধনু বিকেল হেমন্ত ফুরিয়ে যাওয়া দিন শেষে উঁকি দেয়, রংধনু বিকেল— পরিচর্যাহীন বয়স্ক ফসলি নাট্যমঞ্চ, নিজের মতো সে রংটুকু গিলে নেয় —মৃত ফুলের শরীর, অদৃশ্য হাত থিকা ফস্কাচ্ছে—দীর্ঘ যাত্রা, মাটির মুখোমুখি কতগুলো বর্ণনা পরে নিচ্ছি সুস্বাস্থ্য সম্পর্ক, শুক্রবারের ছুটি; ধরো, উদ্বেগ বাড়িয়ে উপযুক্ত হয়ে উঠেছে ফিল্মি পোস্টারে রঙিন মানুষগুলো —ঢুকে পড়ে গুচ্ছ গুচ্ছ চারা শিশু এমনকি সবুজ রোদ্দুর, তাতেও সংযুক্ত আমি অবাধ্য সিরিজ এক কেবল মৃত মাছের চোখ থিকা সন্দেহ
শীতের সঙ্গে
মুদ্রিত এক প্রজ্ঞার চোরাস্রোতের গল্প মনে এলে
এই আশ্বিনে, আমার সোমত্ত অক্ষতরূপ
এক ঘুমন্ত রমণীর পাশে সমরাস্ত্র করে রাখি
জেগে আছি, জানালার নিকটে পৃথিবী শুদ্ধ—
দেখা মিলেছিল বহুবর্ণিল মৃদু শীতের সঙ্গে
সে যোগাযোগ নগরীর প্রবেশদ্বারে
পরিচয়, নাম—ঠিকানা টাঙানো সাইনবোর্ড
সকলই মুখ তোমার; ছিল মসৃণ সন্দেহ, প্রেম;
সে ছিল পুরোনো গন্ধ—প্রেরিত উপঢৌকন,
মুদ্রার হরফ ভেঙে বেরিয়ে এল, বেড়াল—
কাগজে আঁকানো তাবু ছেঁড়া নির্মিত জোছনা
এমন দুর্গসময়ে পৃথিবীর পাশাপাশি যাত্রা—
বেইলিরোড থিকা হাঁটা ধরে কমলাপুর যাচ্ছি
রংধনু বিকেল
হেমন্ত ফুরিয়ে যাওয়া দিন শেষে উঁকি দেয়,
রংধনু বিকেল—
পরিচর্যাহীন বয়স্ক ফসলি নাট্যমঞ্চ,
নিজের মতো সে রংটুকু গিলে নেয়
—মৃত ফুলের শরীর,
অদৃশ্য হাত থিকা ফস্কাচ্ছে—দীর্ঘ যাত্রা,
মাটির মুখোমুখি কতগুলো বর্ণনা
পরে নিচ্ছি
সুস্বাস্থ্য সম্পর্ক, শুক্রবারের ছুটি;
ধরো, উদ্বেগ বাড়িয়ে উপযুক্ত হয়ে উঠেছে
ফিল্মি পোস্টারে রঙিন মানুষগুলো
—ঢুকে পড়ে গুচ্ছ গুচ্ছ চারা শিশু
এমনকি সবুজ রোদ্দুর, তাতেও সংযুক্ত আমি
অবাধ্য সিরিজ এক
কেবল মৃত মাছের চোখ থিকা সন্দেহ জেগে ওঠে
অতিথির নরক গুলজারে অবাধ্য সিরিজ এক
—রোমের পাশাপাশি ঘুমানো কর্কশ রাতে
রমণী কোথায় লুকিয়ে যায়,
নৃশংস নৃত্যের একক ঘন্টাধ্বনি নেমে আসে—
অবাধ্য গুটিকয় অট্টহাসির কেশরে নগ্ন রূপখ্যাতি
কাছিমের দিগন্তে পাথরের যৌথ সভা—
নদীর ধমনি ফেটে বেরোয়
ভেজা মানুষের কোলাহল—নুনমাখানো শরীর;
মহামান্য অভিধানের পাশাপাশি লেখা হল,
প্রাচীন জাহাজে কতগুলো গ্রাম, শহর—
করিডোর ভরতি জীবনের নিকটতম আঁকানো
ইশকুল ফেরা প্রতিবেশী, শিশুর রাস্তা,
একটি শিং ভাঙা মহিষের অই বিভ্রম সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত...
দূরের পাখি
সন্ধ্যার লগ্ন ধরে শরতের আকাশ ফেলে রেখে গেছে
...দূরের পাখি,
জলের ফাঁদে পড়া যুবতীরা স্নান সারানো শরীরে
মাখিয়ে নিচ্ছে
—লোশনের নেবুবন, রোদ ও ফুলঘ্রাণে বাদামি প্রেম;
একটা শরীর জড়ায়া—দ্বিধাহীন ইশারা ও প্রতীক্ষার
পশনে ছড়ায়া দিই পেন্সিল, কাগজের ছায়া—
দীর্ঘ নদী আঁকিয়ে, সামাজিক ঘরে ঝুলিয়ে রাখা
বয়সের ব্যক্তিগত নতুন লেখাটি—
আবার লিখি, নোটবুকের পৃষ্ঠায়—অনেক চাওয়া ছিল
হলুদ জারুল পাতায় একটি লাল পিঁপড়ে
নৃত্যপরা আর চুমুলগ্ন নীরবতার দিকে তাকায়া...
শালবন থিকা প্রজাপতি ওড়ে,
বোবা আকাশের ছিন্নভিন্ন যুবতীর কালো চুল যেন!
নৃত্যের বর্ণনা
পেন্টাগনের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে দৌড়ে এল
আমাদের ছেলেমেয়েরা,
মুগ্ধ হয়ে ঢুকে পড়ে এক তিব্র লহমায়...
হাতে লাগানো বিন্দাসচুমু, করতলে
ঘুমিয়ে থাকা অন্য প্রাণ—
মেঘের পাল, শরতের হাওয়া
সীমান্তবর্তী শহরে প্রকাশ্য ওড়ায়
—বাণিজ্য ফুল, কৃষিখামার, বন—
সেসব খুনসুটি দস্যিপনায় ফোটে
প্রেতের অপমান!
বার্ধক্য মানুষের বুক থিকা আনন্দনৃত্যের বর্ণনা
তোমাকে দিতে চেয়েছি
বালুর উতপ্ত প্রপাতেও কচ্ছপ জেগে থাকার মতো;
বাহানার কেন্দ্রবিন্দু
গোধূলির ভাঙা আলোয় মৌন পাতাগুলোর
ত্বক থিকা পিঁপড়াদের স্ট্যাচু হাসে,
এমন রোমাঞ্চ আর বাহানার কেন্দ্রবিন্দু মেপে
জেনেছি,
স্মোকিংয়ে আরেকটা দীর্ঘায়ু ধরাব—
সমগ্র আলিঙ্গনের ওপাশে অক্সিজেন,
প্রসারিত সমাধিক্ষেত্র থিকা
ব্ল্যাক পৃথিবীতে মিলনঋতুর গাউন খুলেছে
মাশরুমযুক্ত মাংসের স্যাচুচ পেস্তা;
যুবতী তোমার চুপ থাকা ভাষার ইরেজারে—
অসমাপ্ত কথাগুলোর বেলুন ওড়ানো গুঞ্জনে,
করি আনন্দের অনুভূতি, শিশুদের কুচকাওয়াজ!
বাড়িটির কথা
কচ্ছপের খোলস থিকা পুরনো বাড়িটির কথা
হাপর দিয়ে ওঠে,
নিকট আত্মীয়ের মতো;
মুঠো ভরা—সমুদ্র, পাহাড়, ও অমৃত ছায়াপথ;
সুহৃদি নাভীর কোমলতা আর নাচবৃন্ত
গোপন রেখে
স্বযত্নের এই মাটি—প্রাণের স্পর্শ,
পণ্যঠাসা বাজার
বিশেষ এক ফাল্গুনে বিদগ্ধ করেছিল,
সংসার চিহ্ন;
চা বিক্রেতার সাধারণ আয়োজনে—
প্রস্তুত থেকেছি
তোমাকে দেখার সমর্পণ,
গন্তব্য—ত্বকের নিচে নীল শিরার ঢেউ
মিইয়ে নেয় বিবিধ হাওয়া,
সৌন্দর্যের বিস্তারিত ক্যারাভান খুবলে খায় আমার!
পঞ্চাশটি চুমু
টেবিলে দুপুর নেমেছে
—সদ্য প্রান্তরে দাঁড়ায়া পোস্টার যুক্ত দেয়াল,
ন্যাড়া গাছটির পূর্বপুরুষেরা
শহরজুড়ে অর্ধমৃত ভাস্কর্য হয়ে ওঠে
অথচ সে দুপুরে, নাগরিক মুখ,
মাটির স্বভাবে
রমণীর নির্ভরতম প্রেম—
সবুজ শিমগাছটির মতো পেঁচিয়ে ওঠানো
শীত ভোরে—প্রণয়জ্বর,
আর্টযুক্ত নরম ত্বকের সমগ্রতা
এইসব আবগাহনে কী নিয়ে যাবে
—আমাদের, গভীরতম মুখোমুখি
হলিডে ঘড়ির ব্যাকরণ ভেঙে
ফরমালিন মুক্ত পঞ্চাশটি চুমু, অপেক্ষা করে।
কবি পরিচিতি। টিপু সুলতান। জন্ম : ১২ অক্টোবর ১৯৮৬
প্রকাশিত কবিতার বই :
গৃহ কারাগার, বাইসাইকেল, সেলাই, পাখি না ব্ল্যাকবোর্ড
দেখা ও কথা হোক কবিতার বর্ণনায়...
What's Your Reaction?