টেন্ডার না পেয়ে যুবদল নেতার হুমকি 

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার না পাওয়ায় উপজেলা যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ধোলাই স্টেশনারি ও খাদ্য সরবরাহসংক্রান্ত টেন্ডার হয়। সেই টেন্ডারে দরদাতা হিসেবে ১০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে বাধন ট্রেডার্স ১ম দরদাতা হওয়ায় তার নামে ওয়ার্ক অর্ডার প্রস্তুত হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেবের কার্যালয়ে মেধা টেড্রার্সের প্রোপাইটর আলমাসসহ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছানুরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে টেবিল থাপড়িয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের মাধ্যমে মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সৃষ্টি করেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ১১ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে।  মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঐ হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেন।  ডেন্টাল বিভাগের ডা. মো. গোলাম মাওলা মানববন্ধনে বলেন, অতীতেও তারা আমাদের ফার্মেসিতে এসে টিকিট ছাড়া ঔষধ

টেন্ডার না পেয়ে যুবদল নেতার হুমকি 

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেন্ডার না পাওয়ায় উপজেলা যুবদল নেতার বিরুদ্ধে মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ধোলাই স্টেশনারি ও খাদ্য সরবরাহসংক্রান্ত টেন্ডার হয়। সেই টেন্ডারে দরদাতা হিসেবে ১০ জন অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে বাধন ট্রেডার্স ১ম দরদাতা হওয়ায় তার নামে ওয়ার্ক অর্ডার প্রস্তুত হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেবের কার্যালয়ে মেধা টেড্রার্সের প্রোপাইটর আলমাসসহ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছানুরের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে টেবিল থাপড়িয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজের মাধ্যমে মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সৃষ্টি করেন।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ১১ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। 

মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঐ হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম বন্ধ রেখে ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা মানববন্ধন ও কর্মবিরতি পালন করেন। 
ডেন্টাল বিভাগের ডা. মো. গোলাম মাওলা মানববন্ধনে বলেন, অতীতেও তারা আমাদের ফার্মেসিতে এসে টিকিট ছাড়া ঔষধ চেয়েছিল, না পাওয়ায় হুমকি ধামকি ও গালিগালাজ করে। শেষ পর্যন্ত গতকাল টেন্ডার কাজ না পাওয়ায় আমাদের উপজেলা কর্মকর্তা নীলরতন দেবের ওপর সন্ত্রাসী হামলা করেছে। এর প্রতিবাদে আজকে আমরা কর্ম বিরতি রেখেছি ও মানববন্ধনের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি। অন্যথায় আগামীকাল থেকে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করব। 

হাসপাতালের ক্যাশিয়ার বুলবুল আহম্মেদ বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমাদের স্যারের উপর এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও মব সৃষ্টি করেছে তারা। আমার জানামতে নিয়মমাফিক টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। কিন্তু তারা সরকারী দলের লোক হওয়ায় প্রভাব খাটাচ্ছে। তাদের কথা হল আমরা স্থানীয় লোক, নিয়ম কানুন বাদ দেন, টেন্ডারের কার্যক্রম স্থগিত করে আমাদের নামে ওয়ার্ক অর্ডার দেন। তাদের এ ধরনের অন্যায়মূলক দাবি মেনে না নেওয়ায় বিভিন্ন ধরনের হুমকি ভয়ভীতিসহ গালিগালাজ করে। স্যারের সঙ্গে এ ধরনের অন্যায় জুলুম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই, পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে ঐ সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। 

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নীল রতন দেব জানান, অনলাইনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু তারা দলীয় প্রভাবে আমার সাথে কার্যালয়ের ভিতরে সন্ত্রাসী কায়দায় মব সৃষ্টি করবে এটা আমি আশা করি নাই। প্রমাণ হিসেবে সিসি ক্যামেরার ফুটেজও আছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ভবিষ্যত নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় একটি জিডি করেছি। 

এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতা হাছানুর বলেন, ঐ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। 

উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম জানান, আমি সোস্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি দেখতে পেয়েছি, তবে সরকারি অফিসে এমন কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই শোভনীয় নয়। যদি সত্যি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে তাহলে এর দায়ভার দল নেবে না, ব্যক্তিকেই নিতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দল তার ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।

অফিসার ইনচার্জ (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ১০ থেকে ১২ জন জড়িত ছিল। তাদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি হয়েছে। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 
 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow