ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ১৫ : পরিচয় মিলল ১২ জনের

যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত ১২ জনের পরিচয় মিলেছে। সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে এই দুর্ঘটনা ঘটে।  স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসা রড বোঝাই ট্রাকের ওপর যাত্রীরা ছিলেন। তারা উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট-১২-৫৪৭১) মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত ১০ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।  নিহতদের মধ্যে ১২ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- নওগাঁর মান্দা থানার রাজেন্দ্রবাড়ী গ্রামের সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), রহিমের ছেলে বাদশা (৩২), মো. একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব (২০), সুলতানের ছেলে তারেক (২০), একই থানার পাকুরিয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গ

ট্রাক খাদে পড়ে নিহত ১৫ : পরিচয় মিলল ১২ জনের
যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহত ১২ জনের পরিচয় মিলেছে। সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে এই দুর্ঘটনা ঘটে।  স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসা রড বোঝাই ট্রাকের ওপর যাত্রীরা ছিলেন। তারা উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাক (ঢাকা-মেট্রো-ট-১২-৫৪৭১) মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত ১০ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।  নিহতদের মধ্যে ১২ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- নওগাঁর মান্দা থানার রাজেন্দ্রবাড়ী গ্রামের সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), রহিমের ছেলে বাদশা (৩২), মো. একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব (২০), সুলতানের ছেলে তারেক (২০), একই থানার পাকুরিয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গিয়াস (২০) ও তার ভাই মাইনুল (২৮), একই জেলার নিয়ামতপুর থানার মালঞ্চী গ্রামের সাইদুলের ছেলে সারিকুল(২৫), এছাড়া রাজশাহীর তানোর থানার বাতানপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থানার নজরুল (৬০), সদরের মামুন (৪৫)। বাকীদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।  আহতদের মধ্যে ৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- নওগাঁর মান্দা থানার ডেমরা গ্রামের মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), একই থানার হোসেনপুরের আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান (৩৫), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন (৩০), পাকুরিয়া গ্রামের সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), একই গ্রামের ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), একই থানার রাজেন্দ্রবাড়ি গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬), ডেমরা গ্রামের শহিদুলের ছেলে সমেজ (২৭) এবং নাটোর জেলার মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (৩২)। তারা সবাই নোয়াখালীতে বসবাস করে হরেক মালের ব্যবসা করতেন। রডবোঝাই ট্রাকে কম ভাড়ায় ঈদ করতে তারা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছিলেন। এদিকে উদ্ধার কাজের কারণে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানাগেছে। যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সেতুগামী স্টক ইয়ার্ড বাইপাস সড়কে এদিন প্রায় একই সময়ে বালুবোঝাই ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে রংপুরে যাওয়ার পথে মোস্তাফিজুর রহমান (৩২) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল আগের তুলনায় স্বাভাবিক রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।  দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।  

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow