ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পরও ‘চুপ’ কেন ইরান?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার পরও এক রহস্যময় নীরবতা বজায় রেখেছে ইরান। সাধারণত এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তেহরানের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এবার তেহরানের বাতাসে কেবলই নীরবতা। তবে এই নীরবতা কোনো উদাসীনতা নয়, বরং একে অত্যন্ত ‘সতর্ক অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তেহরানের উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, তারা কেবল বর্তমানের এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাবছে না; বরং তারা পুরো পরিস্থিতির একটি সামগ্রিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করছে। ইরানের এই দীর্ঘ নীরবতার নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে- প্রথমত, এই নীরবতার মূলে রয়েছে গভীর অবিশ্বাস। ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের চুক্তি ও আলোচনায় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। বিশেষ করে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সরে যাওয়ার ঘটনা তাদের দৃষ্টিতে বড় উদাহরণ। ফলে শুধু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো ইরানের কাছে যথেষ্ট নয়—তারা পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। আরও পড়ুন>>যুক্তরাষ্ট্রকে কি বিশ্ব

ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর পরও ‘চুপ’ কেন ইরান?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার পরও এক রহস্যময় নীরবতা বজায় রেখেছে ইরান। সাধারণত এ ধরনের বড় আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তেহরানের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এবার তেহরানের বাতাসে কেবলই নীরবতা। তবে এই নীরবতা কোনো উদাসীনতা নয়, বরং একে অত্যন্ত ‘সতর্ক অবস্থান’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের সরকারি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তেহরানের উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো জানাচ্ছে, তারা কেবল বর্তমানের এই যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাবছে না; বরং তারা পুরো পরিস্থিতির একটি সামগ্রিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করছে।

ইরানের এই দীর্ঘ নীরবতার নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে-

প্রথমত, এই নীরবতার মূলে রয়েছে গভীর অবিশ্বাস। ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, যুক্তরাষ্ট্র অতীতের চুক্তি ও আলোচনায় প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। বিশেষ করে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সরে যাওয়ার ঘটনা তাদের দৃষ্টিতে বড় উদাহরণ। ফলে শুধু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো ইরানের কাছে যথেষ্ট নয়—তারা পুরো প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

আরও পড়ুন>>
যুক্তরাষ্ট্রকে কি বিশ্বাস করা যায়? ইতিহাস কী বলে
ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিনিদের মনে প্রশ্ন
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দিয়ে ৮ কোটি মানুষের জীবন বাঁচানো যেত: জাতিসংঘ

দ্বিতীয়ত, ইরান এখন ‘সামগ্রিক চিত্র’ নিয়ে ভাবছে। তাদের দৃষ্টিতে মূল প্রশ্ন হচ্ছে—পরবর্তী আলোচনা হলে সেটি কী শর্তে হবে এবং সেই শর্ত বাস্তবায়নের গ্যারান্টি কী। তাই তারা যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিয়ে ভবিষ্যৎ দরকষাকষির অবস্থান শক্ত করছে।

তৃতীয়ত, এটি একটি কৌশলগত নীরবতা। সরাসরি প্রতিক্রিয়া দিলে কূটনৈতিক অবস্থান প্রকাশ পেয়ে যায়। কিন্তু নীরব থাকলে প্রতিপক্ষ—বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন—অনিশ্চয়তায় থাকে, যা আলোচনায় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

চতুর্থত, অভ্যন্তরীণ ও সামরিক প্রস্তুতির দিকও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। ইরান প্রকাশ্যে কিছু না বললেও তারা সমান্তরালভাবে সম্ভাব্য আলোচনা এবং সংঘাত—দুই পরিস্থিতির জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে তাদের হাতে নমনীয়তা থাকে।

সবশেষে, ইরান বার্তা দিচ্ছে—তারা আলোচনার বিরোধী নয়, কিন্তু ‘বিশ্বাস’ ছাড়া কোনো অগ্রগতি সম্ভব নয়। অর্থাৎ, নীরবতা মানে অস্বীকৃতি নয়; বরং এটি একটি সতর্ক অপেক্ষা, যেখানে তারা দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবে কী পদক্ষেপ নেয়।

সূত্র: আল-জাজিরা
কেএএ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow