ট্রাম্প যেভাবে যুদ্ধে জড়ালেন: হোয়াইট হাউজের ভেতরের কথা
[যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্প কীভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিয়ে গেলেন? এই নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে এই যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউসে নেপথ্য আলোচনার অনুপুঙ্খ বিবরণ । এই সকল বৈঠকে যারা অংশ নিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেইসব কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক এবং নিবিড় যোগাযোগ, আলোচনা এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই এই রিপোর্ট। হোয়াইট হাউস এই রচনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। জোনাথন সোয়ান, দ্য টাইমস এর হোয়াইট হাউস রিপোর্টার, ট্রাম্পের প্রশাসন বিষয়ক খবর কভার করেন। ম্যাগি হেবারম্যান, দ্য টাইমস এর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি, তাঁর রিপোর্টের বিষয় হচ্ছে: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প। তাদের দুজনের যৌথভাবে রচিত প্রকাশিতব্য বই \'রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্ট অফ ডোনাল্ড ট্রাম্প\'। এই লেখাটি তাদের বইয়ের একটি অধ্যায়। এই নিবন্ধটি ৮ এপ্রিল, ২০২৬ নিউইর্য়ক টাইমসের নিউইর্য়ক সংস্করণের সেকশন এ, প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। এটি তাদের লেখার হবহু অনুবাদ নয়। তাঁদের নিবন্ধের অনুসরণে কিছুটা সংক্ষেপে লেখাটি তৈরি করেছেন মনজুরুল আহসান বুলবুল] ১. ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বহনকারী কালো এসইউভি হোয়াই
[যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্প কীভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নিয়ে গেলেন? এই নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে এই যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউসে নেপথ্য আলোচনার অনুপুঙ্খ বিবরণ । এই সকল বৈঠকে যারা অংশ নিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেইসব কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক এবং নিবিড় যোগাযোগ, আলোচনা এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতেই এই রিপোর্ট। হোয়াইট হাউস এই রচনা সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। জোনাথন সোয়ান, দ্য টাইমস এর হোয়াইট হাউস রিপোর্টার, ট্রাম্পের প্রশাসন বিষয়ক খবর কভার করেন। ম্যাগি হেবারম্যান, দ্য টাইমস এর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি, তাঁর রিপোর্টের বিষয় হচ্ছে: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প। তাদের দুজনের যৌথভাবে রচিত প্রকাশিতব্য বই 'রেজিম চেঞ্জ: ইনসাইড দ্য ইম্পেরিয়াল প্রেসিডেন্ট অফ ডোনাল্ড ট্রাম্প'। এই লেখাটি তাদের বইয়ের একটি অধ্যায়। এই নিবন্ধটি ৮ এপ্রিল, ২০২৬ নিউইর্য়ক টাইমসের নিউইর্য়ক সংস্করণের সেকশন এ, প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। এটি তাদের লেখার হবহু অনুবাদ নয়। তাঁদের নিবন্ধের অনুসরণে কিছুটা সংক্ষেপে লেখাটি তৈরি করেছেন মনজুরুল আহসান বুলবুল]
১. ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বহনকারী কালো এসইউভি হোয়াইট হাউসে পৌঁছায় ১১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার আগেই । ইসরাইলের নেতা বহু মাস ধরেই ইরানে বড় একটি অভিযান চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিয়ে আসছিলেন । মার্কিন এবং ইসরাইলের কর্মকর্তারা প্রথমে বসলেন ওভাল অফিসের কেবিনেট রুমে। এরপর নেতানিয়াহুকে নিয়ে যাওয়া হলো নীচ তলায় সিচুয়েশন রুমে, যেখানে নেতানিয়াহু খুবই গোপনীয় একটি উপস্থাপনা দেবেন ইরানের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে । এই সিচুয়েশন রুম কোন বিদেশি নেতাদের সাথে সাক্ষাতের জন্য কদাচিৎ ব্যবহার করা হয়। বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সচরাচর এই রুমের যে মেহগিনী টেবিলে বসেন আজ সেখানে বসলেন না, তিনি বসলেন এমন জায়গায় যেখান থেকে দেয়াল জুড়ে ঝুলানো বড় পর্দাটি সরাসরি দেখা যায় ।
নেতানিয়াহু বসেছেন বিপরীত দিকে, প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি । নেতানিয়াহুর পেছনেই বসেছেন ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের পরিচালক ডেভিড বার্নিয়া এবং ইসরাইলের কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। তারা যেন যুদ্ধকালীন নেতাকে ঘিরে রেখেছেন। টেবিলের অদূরেই বসেছেন হোয়াইট হাউসের চীফ অব স্টাফ সুসি উইলস, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্ক রুবিও নির্ধারিত আসনেই বসেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সাধারণতঃ পাশাপাশি বসেন, আজও তাই বসেছেন, তাদের সাথে আছেন সিআইএ প্রধান জেরেড কুশনার-ট্রাম্পের মেয়ের জামাই এবং ইরানের সাথে আলোচনায় অন্যতম মুখ, ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ। বৈঠকের কোন কিছুই যাতে ফাঁস না হয় সেজন্য অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা সীমিত রাখা হয়েছে।
কেবিনেটের অন্য সদস্যরা জানতেও পারেন নি আসলে কি হচ্ছে । ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আজারবাইজান সফরে, স্বল্প সময়ে তাঁর পক্ষে এসে এই বৈঠকে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী একঘণ্টার উপস্থাপনায় নেতানিয়াহু তুলে ধরেন ইরানে বড় সামরিক অভিযান চালানোর এখনই কেন উপযুক্ত সময়। ১১ফেব্রুয়ারী নেতানিয়াহু সিচুয়েশন রুমের সবাইকে একথা বুঝাতে সক্ষম হন যে, ইরানে রেজিম চেঞ্জ ( ক্ষমতার পালাবদল) এর জন্য এটিই মোক্ষম সময়। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের যৌথ মিশন ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সমাপ্তি ঘটাতে পারে। এক পর্যায়ে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সামনে একটি ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করেন, যেখানে দেখানো হয়, ইরানের কট্টরপন্থী সরকারের পতন হলে কারা দেশটি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারেন। প্রথমেই দেখানো হয় রেজা পাহলভীর ছবি।
ইরানের শাহের পুত্র রেজা এখন ওয়াশিংটন প্রবাসী। ইরানের ভিন্নমতালম্বী এই নেতা ধর্মনিরপেক্ষ ইরানের নেতা হিসেবে নিজেকে আলোচনায় রেখেছেন । নেতানিয়াহু এবং তাঁর টিম এই যুদ্ধে প্রায় নিশ্চিত বিজয়ী হওয়ার বর্ণনা তুলে ধরে জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা যাবে, ইরান সরকার এতটাই দুর্বল হয়ে পড়বে যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণও তারা ধরে রাখতে পারবে না, এমনকি তারা প্রতিবেশী দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোর খুবই কম ক্ষতি করতে সক্ষম হবে। মোসাদের গোয়েন্দারা এমন ধারণাও দেন যে, ইরানে বিক্ষুব্ধ জনতা সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আসবে, ইসরাইলী গোয়েন্দারাদের সহায়তায় তারা দাঙ্গা ছড়িয়ে বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলতে পারবে। পাশাপাশি লাগাতার বোমা বর্ষণ ইরানে সরকার উৎখাত ত্বরান্বিত করবে।
ইসরাইল এমন সম্ভাবনাও তুলে ধরে যে, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা গেলে ইরাক থেকে উত্তর পশ্চিমাঞ্চল সীমান্ত দিয়ে ইরানের কুর্দি গ্রুপগুলো দেশে ঢুকে পড়বে এবং সরকার পতনের আন্দোলনকে শক্তি জোগাবে । নেতানিয়াহু উপস্থাপনায় ছিলেন প্রবল আত্মবিশ্বাসী। তাঁর লক্ষ্য ছিল রুমের সবচাইতে ক্ষমতাধর মানুষ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প সব শুনে তাঁর স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বললেন: সাউন্ডস গুড টু মি- আমার কাছেতো ভালোই মনে হচ্ছে। এই মন্তব্যেই নেতানিয়াহু বুঝতে পারেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইলের অভিযানে ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে। ট্রাম্প তাঁর মনস্থির করে ফেলেছেন এমন ধারণা শুধু নেতানিয়াহুরই মনে হয়নি, প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারাও এমন মনে করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহু এবং তাঁর গোয়েন্দাদের প্রতিশ্রুতি দেখে গভীরভাবে সন্তুষ্ট হয়েছেন।
গত জুনে ইরানের সাথে যুদ্ধেও নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের মধ্যে এমন সন্তুষ্টি দেখা গিয়েছিল। এর আগে ১১ ফেব্রুয়ারি ক্যাবিনেট রুমে সমবেত মার্কিন কর্মকর্তাদের সন্তুষ্টির জন্য ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে কেন তিনি হুমকি মনে করেন। সিচুয়েশন রুমে উপস্থিত মার্কিন কর্মকর্তারা নেতানিয়াহুর কাছে এই অভিযানের ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে চান। নেতানিয়াহু বলেন, কোনো অভিযান না চালানোই অভিযান চালানোর জন্য বড় ঝুঁকি। তিনি বলেন অভিযান না চালানো হলে, ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এবং পারমাণবিক কর্মসূচির প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করতে ইরানকে যে সময় দেয়া হবে সেটাই বরং বড় ক্ষতির কারন হবে। সিচুয়েশন রুমে উপস্থিত সবাই এটা বুঝতে পারছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় মিত্রদের বিপুল ব্যায়ে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের আগেই কম খরচে ও কম সময়ে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মজুত গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। নেতানিয়াহুর উপস্থাপনা এবং ট্রাম্পের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া মার্কিন গোয়েন্দাদের পরবর্তী জরুরি কৌশল নির্ধারণে স্পষ্ট বার্তা দেয় । রাতের মধ্যেই পর্যবেক্ষক দল প্রেসিডেন্টকে দেয়া ইসরাইলি টিমের উপস্থাপনার সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেন।
২. পরদিন ১২ই ফেব্রুয়ারি সিচুয়েশন রুমে পৃথক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে মার্কিন গোয়েন্দাদের এই পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন অবহিত করা হয়। ট্রাম্প বৈঠকে আসার আগেই দুইজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা ট্রাম্পের বিশ্বস্ত গ্রুপের সদস্যদের ব্রিফ করেন। অই গোয়েন্দারা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ, তারা ইরানের রাষ্ট্রীয় পদ্ধতি এবং এর ভিতরে-বাইরের শক্তি সম্পর্কে সম্যকভাবে অবহিত। তারা নেতানিয়াহুর উপস্থাপনাকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেন। প্রথমত: খুন- আয়াতুল্লাহকে হত্যা করা। দ্বিতীয়ত: ইরানের ক্ষমতা দুর্বল করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি হুমকির বিষয, তৃতীয়ত: ইরানের ভিতরে জনবিস্ফোরণ ঘটানো এবং চতুর্থত: ক্ষমতার পালাবদল ঘটিয়ে দেশ পরিচালনার জন্য একজন ধর্মনিরপেক্ষ নেতাকে ক্ষমতায় বসানো। মার্কিন গোয়েন্দাদের পর্যবেক্ষণে অভিমত, মার্কিন গোয়েন্দা এবং সেনা সহায়তায় প্রথম দুটি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। পরের দুটি নেতানিয়াহুর নিজস্ব ক্ষেত্র, যেখানে ইরাক থেকে কুর্দিদের ইরানে ঢুকিয়ে দেয়া- পুরোটাই বাস্তবতার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন বৈঠকে আসেন তখন মি. র্যাটক্লিফ তাকে ব্রিফ করেন। সিআইএ পরিচালক শুধু বলেন, ইরানে ক্ষমতায় পালাবদলে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনা প্রহসনমূলক। এই পর্যায়ে মার্ক রুবিও এটাকে ‘ বাজে কথা’ বলে মন্তব্য করেন। র্যাটক্লিফ মন্তব্য করেন, যে-কোনো সংঘাতে নানা অনিশ্চয়তা থাকে, ক্ষমতার পালাবদলও হতে পারে কিন্তু এটাকে অর্জনযোগ্য লক্ষ্য বলা যায় না । অনেকেই আলোচনায় অংশ নেন। এর মধ্যেই আজারবাইজান থেকে ফিরে এসেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মি. ভ্যান্স। তিনি ‘রেজিম চেঞ্জ’ বিষয়ে অনেকটাই সন্দেহপোষণ করেন। প্রেসিডেন্ট সরাসরি জেনারেল কেইনের মত জানতে চান, জেনারেল, আপনি কি মনে করেন? জেনারেলের জবাব: ইসরাইলিদের সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতাপ্রসূত মত হলো, তারা সব বাড়িয়ে বলে, তাদের পরিকল্পনাও সব সময় সুপরিকল্পিত হয় না। তারা জানে আমাদেরকে তাদের প্রয়োজন, তাই তারা বাড়তি কথা বলে।
প্রেসিডেন্ট দ্রুতই অবস্থাটা নিজের মত করে মেপে নেন। বলেন: রেজিম চেঞ্জ তাদের সমস্যা। তবে বুঝা গেল না এটা ইরানের নাকি ইসরাইলের সমস্যা। তবে তার মূল কথা হলো, যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টি নেতানিয়াহুর প্রস্তাবের তৃতীয় এবং চতুর্থ অংশের লক্ষ্য অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর উপস্থাপনার প্রথম ও দ্বিতীয় লক্ষ্যের দিকে স্থির হলেন: আয়াতুল্লাহ এবং ইরানের শীর্ষ নেতাদের হত্যা এবং ইরানের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করা। জেনারেল কেইন, যাকে প্রেসিডেন্ট র্যাজিন কেইন বলে ডাকেন - প্রেসিডেন্টকে মনে করিয়ে দিলেন যে, তিনি অনেক আগেই বলেছিলেন, অনেকের ধারণার আগেই ইরানের পতন হবে। প্রেসিডেন্ট বিমান বাহিনীর সাবেক এই যোদ্ধার প্রতি এতটাই সন্তুষ্ট যে তাঁকে শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টা পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
জেনারেল কেইন ইরানের সাথে যুদ্ধের ব্যাপারে গভীর উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে প্রেসিডেন্টের প্রতি যে-কোনো মতামত দিতে তিনি খুবই সতর্ক থাকেন। জেনারেল কেইন পরবর্তীকালে তাঁর সহকর্মী এবং প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনায় বলেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সামরিক সরঞ্জামের উপর চাপ বাড়াবে। কারণ এধরনের সরঞ্জামের একটা বড় অংশ ইউক্রেন যুদ্ধে এবং ইসরাইলে সরবরাহ করা হয়েছে। তিনি হরমুজ প্রণালি নিয়ে তার উদ্বেগের কথা জানান। কিন্তু প্রেসিডেন্ট এসব উদ্বেগ উড়িয়ে দেন। তার ধারণা এই যুদ্ধ হবে স্বল্প সময়ের যুদ্ধ। জেনারেল কেইনের অবস্থানটি ছিল সামরিক পরামর্শক এবং প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের মাঝামাঝি।বলাইবাহুল্য একটি জটিলতার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিলেন সবাই।
প্রেসিডেন্ট বলতে পারতেন, তাহলে এরপর কি ? কিন্তু ট্রাম্প যা শুনতে পছন্দ করেন তাই শুনতে চান। জেনারেল কেইনের কৌশল তার আগের চেয়ারম্যান জে.মার্ক এ. মিলির চাইতে ভিন্ন। জেনারেল মিলি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সব সময় প্রেসিডেন্টের সাথে তর্ক করতেন এবং প্রেসিডেন্টকে কান্ডজ্ঞানহীন কোনো সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রাখা তার কর্তব্য মনে করতেন। প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একজনের পর্যবেক্ষণ, ট্রাম্পের একটি অভ্যাস হচ্ছে, জেনারেল কেইনের পরামর্শ কে কৌশলগত উপদেষ্টার মতের সাথে মিলিয়ে একধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করা। একদিকে জেনারেল কেইন যেমন অভিযানের সমস্যা তুলে ধরতেন, অন্যদিকে বলা হতো ইরানে অভিযান চালানোর মধ্য দিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের সকল সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। চেয়ারম্যানের কাছে এর ভিন্ন পর্যবেক্ষণ রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের কৌশল হলো প্রথমটি বাতিল করা।
যেমন, চেয়ারম্যান কখনো প্রেসিডেন্টকে এই কথা বলেননি যে, ইরানের সাথে যুদ্ধ একটি ভয়ানক ধারণা, কিন্তু জেনারেল কেইনের সহকর্মীরা মনে করেন আসলে তিনি এমনটিই ভাবছিলেন। নেতানিয়াহুর মতই অবিশ্বস্ত ছিলেন প্রেসিডেন্টের অনেক উপদেষ্টাও। 'আমেরিকা প্রথম' নীতি বা প্রেসিডেন্টের অভিযান বিরোধী টিমের চাইতে নেতানিয়াহু ছিলেন প্রেসিডেন্টের বেশি ঘনিষ্ঠ। এটাই দীর্ঘদিনের সত্য । দুই মেয়াদকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর বিদেশ নীতিতে যত চ্যালেন্জ মোকাবেলা করেছেন তাতে ইরানের অবস্থান বেশ দূরেই ছিল । তিনি মনে করতেন ইরানের শাসকদের যুদ্ধ করার এবং পারমাণবিক অস্ত্রের ক্ষমতা বেশ বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ । বিয়টি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্পের ইচ্ছার সাথে মিলে যায়। ১৯৭৯ সনে ইরানের শাসকগোষ্ঠী যখন ক্ষমতা নেয় তখন ট্রাম্পের বয়স মাত্র ৩২, কিন্তু এই ' মোল্লা' শাসিত ইরানকে পরাস্ত করার ইচ্ছা তার তখন থেকেই।
এখন ৪৭ বছর পরে ইরানের ক্ষমতায় পালাবদল ঘটাতে তিনিই হতে পারেন আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট। ২০২০ সালে ইরানের জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর ট্রাম্প যে ইরানের হত্যা তালিকায় আছেন প্রকাশ না করলেও তাঁর মনে ভিতর কাজ করে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে ট্রাম্প এটা বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন যে, মার্কিন সৈন্যরা এখন আরও শক্তিশালী। বিশেষ করে ৩রা জানুয়ারি ভেনিজুয়েলায় অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে আনার পর এই আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। এই অভিযানে আমেরিকার কোনো ক্ষতি হয়নি। অভিযানের সাফল্য প্রমাণ করে, মার্কিন সেনাবাহিনী এখন অপ্রতিরোধ্য। কেবিনেটের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সবচেয়ে বড় সমর্থক ছিলেন যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ। রুবিও তাঁর সহযোগীদের মিশ্র অবস্থানের কথা জানান। তিনি মনে করতেন ইরানের সাথে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান হবে না। তিনি যুদ্ধের চাইতে ইরানকে বড ধরনের চাপে রাখার পক্ষেই ছিলেন। তবে তিনি এ বিষয়ে ট্রাম্পকে কিছু জানাননি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি এর পক্ষেই শক্ত অবস্থান নেন।
মিস উইলস এই যুদ্ধের ফল কি হতে পারে সেটা কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলেন তবে তিনি সামরিক বিষযে যুক্ত হতে চাননি। তিনি উপদেষ্টাদের মতামত জানতেই আগ্রহী ছিলেন। তাঁর সহকর্মীরা জানান, তিনি আসলে সবার সামনে তার মতামত জানাতে আগ্রহ বোধ করেননি। তিনি মনে করেন এই মুহূর্তে প্রেসিডেন্টের জেনারেল কেইন, র্যাটক্লিফ এবং রুবিওর মতামত শোনাটাই জরুরি। তারপরেও তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। এই যুদ্ধের ফলে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি সহ বিভিন্ন বিষয়ে দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনে এবং ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষভাগে হাউজে ডেমোক্র্যাটদের জন্য বিব্রততর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। তবে শেষে তিনি অভিযানের পক্ষেই অবস্থান নেন। একমাত্র ভাইস প্রেসিডেন্ট ছাড়া আর কেউ ইরান যুদ্ধের সাফল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ বা যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা করেন নি। ভ্যান্স তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার জুড়েই সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছেন ।
তিনি সরাসরিই বলেন: ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ হবে খুবই ব্যয়বহুল এবং সম্পদের বিরাট অপচয়। তবে জানুয়ারিতে যখন ইরানে হত্যাকাণ্ড চলছিল, যখন ট্রাম্প ইরানকে হত্যা বন্ধ করার কথা বলেছিলেন তখন তিনি ট্রাম্পকে একটি সীমারেখা টেনে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে তখন ভ্যান্সের মত ছিল সীমিত অভিযান চালানোর, যেমনটি ২০১৭ সনে সিরিয়াতে করা হয়েছিল, যখন বেসামরিক নাগরিকদের উপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। ভাইস প্রেসিডেন্ট মনে করেন ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তন করতে যাওয়া হবে একটা দুর্যোগের মত। তিনি যে কোনো অভিযানের বিরুদ্ধেই ছিলেন তবে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন ট্রাম্প তার নিজস্ব স্টাইলে কিছু একটা করবেন।
তিনি এটাকে সীমিত আকারের মধ্যে রাখতে সচেষ্ট ছিলেন। কিন্তু যখন তিনি দেখলেন প্রেসিডেন্ট বড় আকারের অভিযানের চিন্তা করছেন তখন তাঁর পরামর্শ ছিলো এমন কিছু করুন যাতে দ্রুত লক্ষ্য অর্জন করা যায়। সহকর্মীদের সামনেই ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্টকে এই বলে সতর্ক করেন যে, এই যুদ্ধ বহুমাত্রিক জটিলতা তৈরি করবে এবং প্রাণহানি হবে অনেক বেশি। এই যুদ্ধে ট্রাম্প তাঁর রাজনৈতিক মিত্র এবং অনেক ভোটারের সমর্থনও হারাতে পারেন, কারণ তাঁর প্রতিশ্রুতি ছিল 'আর কোনো যুদ্ধ নয়'। তিনি বলেন, আমেরিকার অভ্যন্তরেও এর নানামাত্রিক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে । ভাইস প্রেসিডেন্ট আরও সতর্ক করেন, ইরান কি পরিমাণ সামরিক শক্তি নিয়ে প্রতিরোধ গড়বে সেটা অনুমান করা মুশকিল, এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিও হতে পারে ভিন্ন রকম।
যুদ্ধের পর ইরানে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেন । তাঁর মতে , ইরানের হাতে আছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিতরে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যার শুরু হবে জ্বালানি সংকট দিয়ে । ট্রাম্পের খুবই ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক টাকার কার্লসন ওভাল অফিসে ট্রাম্পকে এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন অনেকবার। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, ইরানের সাথে যুদ্ধ ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিকেই ধ্বংস করবে। যুদ্ধ শুরুর কিছুদিন আগে ট্রাম্প কার্লসনকে ফোন করে বলেছিলেন: আমি জানি আপনি উদ্বিগ্ন, কিন্তু এটা ঠিকমতোই চলবে। কার্লসন জানতে চান: কীভাবে ? ট্রাম্পের জবাব: সবসময় এরকমই হয়। শেষ দিকে আমেরিকা এবং ইসরাইলের মধ্যে আরো গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় যুদ্ধ শুরুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়, আয়াতুল্লাহ খামেনি শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করবেন। প্রকাশ্য দিনের বেলায় এই বৈঠকে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ নেতাদের নিশ্চিহ্ন করে দেয়া সম্ভব হবে, এটাই সুবর্ণসুযোগ।
ট্রাম্প ইরানকে আলোচনায় আরেকবার সুযোগ দিতে চান, আলোচনার নামে সময় নিয়ে আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে তার কৌশলগত সামরিক শক্তি বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে। প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টারা জানান, যুদ্ধের বিরুদ্ধে তিনি মনস্থির করেন কয়েক সপ্তাহ আগেই। তবে কখন শুরু করবেন এটা ঠিক করতে পারেননি। তাগাদা অসে নেতানিয়াহুর কাছ থেকে ' এখনই সময়, দ্রুতই আগাতে হবে।' ঠিক সে সময়ই জেনেভাতে ইরানের কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনারত মি.কুশনার এবং মি. উইটকফকে ডেকে পাঠানো হয়। ওমান এবং সুইজারল্যান্ডে তিন দফা আলোচনায় তারা একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চূড়ান্ত পর্যায়ে ছিলেন। এই আলোচনায় ইরানকে পারমাণবিক জ্বালানি দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। এটি একটি কৌশল ছিল এটা বুঝার জন্য যে ইরান কি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বেসামরিক উদ্যোগের জন্যই ব্যবহার করছে নাকি বোমা বানানোর শক্তি অর্জন করছে। ইরান তাদের জন্য অমর্যাদাকর বলে এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। মি. কুশনার এবং মি. উইটকফ প্রেসিডেন্টকে সব জানান। তারা এটাও বলেন এই আলোচনা দীর্ঘসময় ধরে চলতে পারে। প্রেসিডেন্টকে তারা কোনো আশার কথা শোনাতে পারেন নি।
৩. ২৬ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টায় সিচুয়েশন রুমে চূড়ান্ত বৈঠক বসে। এখন সবার অবস্থান পরিষ্কার। আগের বৈঠকগুলোতে সবই আলোচনা হয়েছে, সবাই সবার অবস্থান জানেন, বৈঠক চলে দেড় ঘণ্টা। প্রেসিডেন্ট তার নির্ধারিত আসনেই বসেছেন। ডানে ভাইস প্রেসিডেন্ট, পরে মিস. উইলস, মি. র্যাটক্লিফ, হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ডেভিড ওয়ারিংটন, যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেউং, প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট, জেনারেল কেইন, যুদ্ধমন্ত্রী হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও সবাই বসেছেন নিজ নিজ আসনে। যুদ্ধ পরিকল্পনার টিম এতই সংক্ষিপ্ত যে, যাদের যুদ্ধের প্রাথমিক চ্যালেন্জ মোকাবেলা করতে হবে সেই অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট, জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট এমন কি জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ডকেও এই বৈঠকে ডাকা হয়নি। সভা শুরু করেন প্রেসিডেন্ট নিজেই । মি. হেগসেথ এবং জেনারেল কেইন আক্রমণের ধারাবাহিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। প্রেসিডেন্ট বলেন , তিনি উপস্থিত সবার কথাই শুনতে চান। ভাইস প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবিরোধী অবস্থান সবার জানা। তবুও তিনিই প্রথমে বললেন, মি. প্রেসিডেন্ট?
বিষয়টি খুবই খারাপ হবে, তবু ও আপনি যদি এটা করতই চান আমি আপনাকে সমর্থন দেবো। মিস উইলস: প্রেসিডেন্ট যদি মনে করেন এটা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য জরুরি তাহলে তিনি এগুতে পারেন। রাাটক্লিফ যুদ্ধ শুরুর বিষয়ে কোনো মত না দিয়ে নতুন গোয়েন্দা তথ্য হাজির করেন। জানানো হয় : তেহরানে শীর্ষ নেতাদের নিয়ে আয়াতুল্লাহ খামেনির বৈঠকের বিষয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। সিআইএ পরিচালক প্রেসিডেন্টকে বলেন, ইরানে ক্ষমতার পালাবদল সম্ভব, তবে এটা কীভাবে হবে? আমরা যদি শুধু শীর্ষ নেতাকে হত্যা করি তাহলে সম্ভবত এই লক্ষ্য অর্জিত হবে না । প্রেসিডেন্টের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কথা বলেন হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা মি. ওয়ারিংটন। তিনি বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা কীভাবে বিয়য়টি প্রেসিডেন্টের কাছে উপস্থাপন করেছেন তার উপর এর আইনগত বৈধতা নির্ভর করে। তিনি কোনো ব্যক্তিগত মত দিতে চাননি, তবুও প্রেসিডেন্টের অনুরোধে বলেন: একজন প্রাক্তন মেরিন হিসেবে তিনি জানেন, বছর কয়েক আগে ইরান একজন মার্কিন সৈন্যকে হত্যা করেছিল। বিষয়টি ব্যক্তিগত ভাবে গভীর কষ্টের।
তিনি বলেন, যদি ইসরাইল সর্বাত্মকভাবে আক্রমণে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রও সেভাবেই অভিযান চালাতে পারে। মি. চেউয়াং জনমত নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ বলেন: যুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি দিয়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতায়। বিদেশে যুদ্ধ করার জন্য জনগণ তাঁকে ভোট দেয়নি। তিনি এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন। তিনি নিজের কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত নেবেন সেটাই সঠিক। জেনারেল কেইন একেবারেই চুপ। শুধু বলেন: যদি অভিযানের নির্দেশ দেয়া হয় সেনাবাহিনী প্রেসিডেন্টের নির্দেশ কার্যকর করবে। মার্ক রুবিও সোজাসুজি মত দেন, যদি আমাদের লক্ষ্য হয় ক্ষমতার পালাবদল বা গণঅভ্যুত্থানকে সহায়তা করা তাহলে এ ধরনের অভিযানে না যাওয়াই ভালো। আর যদি লক্ষ্য হয় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা তাহলে সেই সক্ষ্য আমরা অর্জন করতে পারবো। সবাই প্রেসিডেন্টের মনোভাব বুঝেই কথা বলেন। সব শুনে প্রেসিডেন্টের মন্তব্য; আমার মনে হয় আমাদের এটা করা উচিৎ। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না, এবং নিশ্চিত করতে হবে যাত ইরান ইসরাইল বা ঐ অঞ্চলের কোনো দেশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করতে না পারে। জেনারেল কেইন বলেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে তিনি যেন আগামীকাল বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। পরদিন বিকেলে, জেনারেল কেইনের প্রস্তাবিত সময়ের ২২ ঘন্টা আগে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে বসেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন: 'অপারেশন এপিক ফিউরী অনুমোদিত, অভিযান চলবে, শুভ কামনা । ' এভাবেই শুরু হলো ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ।
লেখক : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।
এইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?