ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে ইরান সফরে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী, উদ্দেশ্য কী?
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ইরানে গেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ কাজিম আল-জায়েদি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরান পৌঁছেছেন আল-জায়েদি। এ সফরে ইরান ও ইরাকের মধ্যে সহযোগিতা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, তেহরান ও বাগদাদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা কর্মসূচি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাশাপাশি দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি আরবাইন তীর্থযাত্রা এবং ইরানের শহিদ নেতার প্রতি ইরাকিদের শ্রদ্ধা নিবেদনকে দুই জাতির ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তেহরানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি এবং তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাঘের ঘালিবাফ ও মাসুদ পেজেশকিয়ান। আরও পড়ুন হরমুজের বিকল্প পথ / ইরাকের সঙ্গে ৬০০০ কোটি ডলারের ৪৮ চুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রের বাগে ইরান? পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশের সব খাতে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে ইরানে গেছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি ফালিহ কাজিম আল-জায়েদি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরান পৌঁছেছেন আল-জায়েদি। এ সফরে ইরান ও ইরাকের মধ্যে সহযোগিতা কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, তেহরান ও বাগদাদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক পরিচালনার জন্য একটি সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা কর্মসূচি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। পাশাপাশি দুই দেশের গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তিনি আরবাইন তীর্থযাত্রা এবং ইরানের শহিদ নেতার প্রতি ইরাকিদের শ্রদ্ধা নিবেদনকে দুই জাতির ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) তেহরানে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি এবং তার সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাঘের ঘালিবাফ ও মাসুদ পেজেশকিয়ান।
পেজেশকিয়ান বলেন, দুই দেশের সব খাতে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক জোরদারে একটি সহযোগিতা কর্মসূচি দ্রুত প্রণয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান ও ইরাকের নিরাপত্তা পরস্পরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ইউরোপের আঞ্চলিক সহযোগিতা মডেলের মতো একটি সমন্বিত রেল ও সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হলে দুই দেশের মধ্যে ট্রানজিট, বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আরও বাড়বে।
এছাড়া, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং বিশেষ করে সীমান্ত এলাকায় বিদ্যমান নিরাপত্তা চুক্তিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি তেহরানের প্রতি বাগদাদের কৌশলগত অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ইরাকের ভূখণ্ড কখনোই ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি তৈরির ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।
সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরানের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে বাগদাদ সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি আরও জানান, বাণিজ্য, স্বাস্থ্যসেবা ও উচ্চশিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে চুক্তি চূড়ান্ত করতে তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক মন্ত্রীরা তেহরান সফর করছেন। এর লক্ষ্য হলো দুই দেশের পারস্পরিক সদিচ্ছাকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দেওয়া।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইরাক সরকারের সঙ্গে প্রায় ৬০০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের ৪৮ টি চুক্তি ও অংশীদারিত্বে সই করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি। এসব চুক্তির মধ্যে পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালির বিকল্প পথে তেল রপ্তানির অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ২০২৮ সালের মধ্যে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেএম
What's Your Reaction?
