ঈদ উদযাপন করে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় ফিরছে মানুষ। বুধবার (২ এপ্রিল) ভোর থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকাগামী ট্রেন ছেড়ে আসতে শুরু করে। দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ফিরতি যাত্রার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে ৮টি আন্তঃনগর ট্রেন।
তবে ঈদের ছুটি শেষ না হওয়ায় ফিরতি ট্রেনে যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। কোনো শিডিউল বিপর্যয়ও নেই। এতে ঢাকায় ফেরা যাত্রীরা স্বস্তির যাত্রার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা থেকে অনেক মানুষ গ্রামে যাচ্ছেন। তাদের অধিকাংশই হয়তো ঈদে ছুটি পাননি, কিংবা বিশেষ কারণে যেতে পারেননি। এখন তারা পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে যাচ্ছেন।
বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
স্টেশনে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, আজ ভোর থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ফিরতি যাত্রায় ঢাকায় এসেছে ৮টি আন্তঃনগর ট্রেন।
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে সারাদেশে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে ১৯টি ট্রেন। এগুলোর মধ্যে ১৫টি আন্তঃনগর এবং চারটি কমিউটার ট্রেন।
ভিড়-বিলম্ব না থাকায় ফিরতি যাত্রায়ও স্বস্তি
ঈদযাত্রার মতো ট্রেনে ফিরতি যাত্রায় স্বস্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। শিডিউল বিপর্যয় এবং ভিড়ে ঠেলাঠেলি করার মতো পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি তাদের।
দুপুর পৌনে ২টার দিকে সিল্কসিটি ট্রেনে চাটমোহর থেকে ঢাকায় ফেরা শাহীন আলম জাগো নিউজকে বলেন, ট্রেন একেবারে রাইট টাইমে এসেছে। কোনো ভিড় নেই। হ্যাসেল ফ্রি। এমন ভোগান্তিহীন যাত্রা করা গেলে ভাড়া কিছুটা বেশি নিলেও সমস্যা নেই।
দুই মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে রাজশাহী থেকে ঢাকায় ফেরা আসাদুজ্জামান খান বলেন, ছুটি শেষ হয়নি। তবুও আগেই চলে এলাম। পরে ভিড় আরও বাড়তে পারে, সেজন্য ফিরতি যাত্রার টিকিট আগেই করে রেখেছিলাম। নিরিবিলি বাচ্চাদের নিয়ে আসতে পারলাম।
ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা ছাড়ছে বহু মানুষ
এদিকে, ঈদের তৃতীয় দিনেও ঢাকা থেকে গ্রামের উদ্দেশ্যে যাচ্ছে অনেক মানুষ। তাদের অনেকে ঈদে ছুটি পাননি। অনেকে আবার বিশেষ কারণে যেতে পারেননি।
চট্টগ্রাম অভিমুখী সুবর্ণ এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে যাচ্ছেন আসমা আক্তার। তিনি একটি পোশাকের শো-রুমে বিক্রয়কর্মীর কাজ করেন। ঈদের আগেরদিন অর্থাৎ চাঁদরাতেও কাজ করতে হয়েছে। ফলে ঈদে গ্রামে পরিবারের কাছে যেতে পারেননি। মাঝে একদিন বিশ্রাম নিয়ে আজ গ্রামে ফিরছেন।
আসমা আক্তার বলেন, ঢাকায় সহকর্মীদের সঙ্গে ঈদ করেছি। এখন গ্রামে যাচ্ছি। ঈদের আগে ছুটি ছিল না। ঈদের পর থেকে ছুটি পেয়েছি। এক সপ্তাহের জন্য গ্রামে যাচ্ছি। ঈদে আমাদের ছুটিটা এমনই।
জানতে চাইলে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার শাহাদাত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এবার ঈদযাত্রা একেবারেই ভোগান্তিহীন হয়েছে। ফিরতি যাত্রাও আশা করি স্বস্তিদায়কই হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে রেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। যাত্রীরা যাতে নিরাপদে ও স্বস্তিতে ফিরতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ফিরতি যাত্রাটা মূলত আজ শুরু হয়েছে। কিছু আন্তঃনগর ট্রেন গতকাল সন্ধ্যা বা রাত থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসেছিল। সেগুলো ভোরের দিকে পৌঁছেছে। এখনো যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। টিকিট ছাড়া কোনো যাত্রীকে ভ্রমণ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ফলে বগিতে তেমন ঠেলাঠেলি বা গাদাগাদি নেই।
এএএইচ/এমএইচআর/এমএস