ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে ঠাকুরগাওয়ের ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করতে পারেনি কোন শিক্ষার্থী। এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ ফেল করা এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮টি, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ঠাকুরগাঁও জেলায়। এমন ফল বিপর্যয়ের পর তদন্ত সাপেক্ষে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলছে জেলা শিক্ষা বিভাগ। শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হলো- সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৪, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৭, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৫, তেওয়ারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৫ এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৩। এ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে সকলে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাশের হার শূন্য। তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দারিদ্রতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত স্কুলে

ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে ঠাকুরগাওয়ের ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করতে পারেনি কোন শিক্ষার্থী। এ বছর দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে শতভাগ ফেল করা এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৮টি, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠান ঠাকুরগাঁও জেলায়।

এমন ফল বিপর্যয়ের পর তদন্ত সাপেক্ষে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলছে জেলা শিক্ষা বিভাগ। শতভাগ ফেল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি হলো- সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৪, অনভারডিঘি উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৭, মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৫, তেওয়ারিগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৫ এবং হরিপুর উপজেলার রামপুর ভাতুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও এর পরিক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৩। এ ৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে অকৃতকার্য হয়েছে সকলে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাশের হার শূন্য।

তবে ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে দারিদ্রতা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত স্কুলে উপস্থিতি, বাল্য বিবাহ সহ জোর করে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়া কে দায়ী করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকগণ।

সদর উপজেলার আকচা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নারে আলম সিদ্দিকি জানান, ১৯৯৫ সালে এমপিও ভুক্তির পর থেকে এ প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত ১১ জন শিক্ষক শিক্ষকা রয়েছে। আমি মনে করি বাচ্চারাও যেমন অমনোযোগী ঠিক তেমনি শিক্ষকদেরও গাফিলতি রয়েছে। অনেক শিক্ষক সময়মত ক্লাশে এটেন্ড করেনা। এছাড়াও যেসব বাচ্চারা বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়ার মত না, তারাও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে এমন ফল হয়েছে।

মাধবপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ জানান, আমাদের এখানে এবারি প্রথম বাচ্চারা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। আমাদের এখানকার বাচ্চারা একটু বড় হতে না হতেই তাদের পরিবার থেকে বিয়ে দিয়ে দেয়। ফলে ভালো শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ে যায়। দারিদ্রতার কারনেই অবিভাবকরা এমন সিদ্ধান্ত নেয়। এছাড়াও আমাদের মত প্রতিষ্ঠানগুলির কোন ভালো বিল্ডিং নেই, নেই বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য কোন ল্যাব।

জেলা শিক্ষা অফিসার শাহিন আকতার জানান, গতবার যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খারাপ রেজাল্ট করেছিলো তাদের আমরা সঠিক পরামর্শ দিয়েছি এবয় তা কআজে লেগেছে। এবারো আমরা তাই করবো এবং তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা ও পরামর্শ নেয়া হবে এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow