ঠিকাদারের ‌‘গাফিলতিতে’ ঝুলে আছে ছয় লেন প্রকল্পের কাজ

ছয় বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র দুই শতাংশ ৪১৮৭ কোটি থেকে ব্যয় বেড়ে ৬৬২৬ কোটি টাকা ডিসেম্বরের পর অর্থায়নে অনাগ্রহ বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘদিন রাস্তা খুঁড়ে রাখায় জনভোগান্তি চরমে। ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে ধীরগতিতে এগোচ্ছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের নির্মাণকাজ। এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে অর্ধেক। নির্মাণকাজে কচ্ছপগতির কারণে মহাসড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এতে জনভোগান্তি চরমে পৌছেছে। প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদও শেষ হতে চলেছে ডিসেম্বরে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় প্রকল্পের অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংকের উইকেয়ার কর্তৃপক্ষও অধিকতর অর্থায়নে আগ্রহ হারিয়েছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা নিয়েও দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা। আরও পড়ুন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশ যেন মরণফাঁদ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বহুল প্রত্যাশিত ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কালীগঞ্জ এলাকার ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ

ঠিকাদারের ‌‘গাফিলতিতে’ ঝুলে আছে ছয় লেন প্রকল্পের কাজ
  • ছয় বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র দুই শতাংশ
  • ৪১৮৭ কোটি থেকে ব্যয় বেড়ে ৬৬২৬ কোটি টাকা
  • ডিসেম্বরের পর অর্থায়নে অনাগ্রহ বিশ্বব্যাংকের
  • দীর্ঘদিন রাস্তা খুঁড়ে রাখায় জনভোগান্তি চরমে।

ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে ধীরগতিতে এগোচ্ছে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের নির্মাণকাজ। এখন পর্যন্ত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে অর্ধেক। নির্মাণকাজে কচ্ছপগতির কারণে মহাসড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এতে জনভোগান্তি চরমে পৌছেছে।

প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদও শেষ হতে চলেছে ডিসেম্বরে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় প্রকল্পের অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংকের উইকেয়ার কর্তৃপক্ষও অধিকতর অর্থায়নে আগ্রহ হারিয়েছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা নিয়েও দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বহুল প্রত্যাশিত ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ছয় লেন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কালীগঞ্জ এলাকার ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করেছে। এরই মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের উই কেয়ার প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক সব সুযোগ-সুবিধা ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও মহাসড়কের নির্মাণ কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

‘শুনেছি জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে জমি বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার ও তাদের প্রতিনিধির খামখেয়ালিপনায় পুরো রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। গর্তের কারণে যানবাহন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে’

অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়া সত্ত্বেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড এবং লট-১ এর দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স ফার্মের স্থানীয় প্রতিনিধি কাজ পরিচালনায় গড়িমসি করছে।

ঠিকাদারের ‌‘গাফিলতিতে’ ঝুলে আছে ছয় লেন প্রকল্পের কাজ

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কাজ করেছে সরকারের ছয়টি বিভাগ। মূলত এসব দপ্তর প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরিতে সময়ক্ষেপণ করেছে। ফলে জমি অধিগ্রহণে ধীরগতি দেখা দেয়।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে চার হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় অনুমোদিত এ প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। কাজের অগ্রগতি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডাইরেক্টর জোঁ পেম ও অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন। তারা ১৯ জুলাই ঝিনাইদহ সফর করে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। সফরকালে তারা জানান, আগামী ডিসেম্বর প্রকল্পের মেয়দ শেষ হচ্ছে। এটা বর্ধিত হবে কি-না তা বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত হবে।

‘প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদও শেষ হতে চলেছে ডিসেম্বরে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের আশানুরূপ অগ্রগতি না হওয়ায় প্রকল্পের অর্থায়নকারী বিশ্বব্যাংকের উইকেয়ার কর্তৃপক্ষও অধিকতর অর্থায়নে আগ্রহ হারিয়েছে। ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা নিয়েও দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা’

তবে তিন সপ্তাহের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ।

তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘এ কাজে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। বরং দ্রুততার সঙ্গে অধিগ্রহণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি যাতে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সহায়ক হয়, সেভাবেই আমরা অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’

ভোমরা, বেনাপোল ও মোংলা বন্দরের মালামাল উত্তরবঙ্গসহ দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছানোর একমাত্র সড়কপথ ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক। সড়কজুড়ে কচ্ছপগতির এই কাজের কারণে চরম বিপাকে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।

ওসমান গণি নামের একজন পরিবহন মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‌‘শুনেছি জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে জমি বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার ও তাদের প্রতিনিধির খামখেয়ালিপনায় পুরো রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। গর্তের কারণে যানবাহন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’

‘জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি পাওয়ার পরও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র দুই শতাংশ কাজ হয়েছে। কাজের গতি বাড়ানোর জন্য বারবার তাগিদ ও চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো তোয়াক্কা করছেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’

কাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে তারা কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

ঠিকাদারের ‌‘গাফিলতিতে’ ঝুলে আছে ছয় লেন প্রকল্পের কাজ

তবে লট-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‌‘আগে জমি অধিগ্রহণে ধীরগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শুরু করতে পারেনি। মার্চ ও জুলাই মাসে আমরা বেশ কিছু জুমি বুঝে পেয়েছি। তাই এখন কাজও দ্রুত গতিতে বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে আমাদের কাজ ১০ শতাংশের মতো এগিয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে সড়কের কাজ দৃশ্যমান শুরু হবে বলে আশা করছি।’

চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কোনোভাবেই কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে জানান লট-২ ও ৩ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি পাওয়ার পরও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র দুই শতাংশ কাজ হয়েছে। কাজের গতি বাড়ানোর জন্য বারবার তাগিদ ও চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো তোয়াক্কা করছেন না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এম শাহাজান/এসআর/এএসএম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow