ড. ইউনূসের ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা কমিয়ে ৬ মাস করার আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধার মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে ৬ মাস করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ-সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রস্তাবিত নথি সোমবার (২৭ এপ্রিল) কালবেলার হাতে এসেছে। নথির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত বিধিমালায় মেয়াদের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট না থাকায় ২০০২ সালের পূর্বদৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এই নতুন প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রস্তাবের আলোকে একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জানানো হবে। তবে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় জানায়নি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র কয়েকদিন আগে ড. ইউনূস নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২ দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। ওই

ড. ইউনূসের ‘ভিভিআইপি’ মর্যাদা কমিয়ে ৬ মাস করার আলোচনা
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (ভিভিআইপি) হিসেবে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সুবিধার মেয়াদ এক বছর থেকে কমিয়ে ৬ মাস করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ-সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রস্তাবিত নথি সোমবার (২৭ এপ্রিল) কালবেলার হাতে এসেছে। নথির তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত বিধিমালায় মেয়াদের বিষয়টি সুনির্দিষ্ট না থাকায় ২০০২ সালের পূর্বদৃষ্টান্ত অনুসরণ করে এই নতুন প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রস্তাবের আলোকে একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে তা প্রজ্ঞাপন আকারে জানানো হবে। তবে, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময় জানায়নি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এরপর প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালন শেষে গত ফেব্রুয়ারিতে পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র কয়েকদিন আগে ড. ইউনূস নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ২ দিন আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি এ-সংক্রান্ত গেজেট জারি করা হয়। ওই গেজেটে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তির সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে এক বছর করা হয়। নথিতে প্রধানত ৩টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। ১. সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানরা তাদের পদত্যাগ বা দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখ থেকে পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ভিআইপি মর্যাদা পাবেন। ২. বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) আইন, ২০২১-এর অধীনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ১ বছরের জন্য ভিআইপি ঘোষণা করে জারি করা এসআরও (৪৬-আইন/২০২৬) বাতিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ৩. শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, আগের প্রজ্ঞাপনটি বাতিল হলেও ড. ইউনূস ভিআইপি হিসেবে যে সুবিধাগুলো পাচ্ছিলেন, তা আগামী ১৬ আগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকবে। নথিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (Special Security Force) আইন, ২০২১’ এবং ‘রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান উপদেষ্টা ও অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধিমালা, ২০২৫’-এ ভিআইপি ঘোষণার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া বা মেয়াদের কথা উল্লেখ নেই। ২০০১ সালে এই মেয়াদ ১ বছর থাকলেও ২০০২ ও ২০০৬ সালে তা কমিয়ে ৩ মাস করা হয়েছিল। সেই পূর্বদৃষ্টান্তগুলো বিবেচনা করেই এখন ৬ মাসের একটি সময়সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই প্রস্তাবনাটি নথিতে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটি কার্যকর হলে প্রাক্তন শীর্ষ পদাধিকারীদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা তৈরি হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow