ডিএসইর এজিএম নাসির রেজার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, জিডি

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) নাসির উদ্দিন রেজার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন ডিএসইর সদ্য চাকরিচ্যুত এক নারী কর্মকর্তা। এ ঘটনায় তিনি খিলক্ষেত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে ডিএসইর মনিটরিং বিভাগে কর্মরত থাকার সময় তার তৎকালীন সরাসরি সুপারভাইজার নাসির উদ্দিন রেজা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন। নাসির রেজা বিভিন্ন সময় অসময়ে বার্তা পাঠাতেন, ভিডিও কল দিতেন এবং পরোক্ষভাবে অনৈতিক ইঙ্গিত করতেন। একপর্যায়ে অফিসের ক্যান্টিনের সামনে তাঁকে সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাবও দেওয়া হয়। বিষয়টি তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ও বর্তমানে অ্যাক্টিং সিআরও শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন ওই নারী কর্মকর্তা। পরে বাধ্য হয়ে তৎকালীন সিআরও জিয়াউল হাসান খানকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানান তিনি।‎‎এরপর থেকে নাসির রেজা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে নাসির রেজা প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনিক সহ

ডিএসইর এজিএম নাসির রেজার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, জিডি

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার (এজিএম) নাসির উদ্দিন রেজার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন ডিএসইর সদ্য চাকরিচ্যুত এক নারী কর্মকর্তা। এ ঘটনায় তিনি খিলক্ষেত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

জিডিতে তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালে ডিএসইর মনিটরিং বিভাগে কর্মরত থাকার সময় তার তৎকালীন সরাসরি সুপারভাইজার নাসির উদ্দিন রেজা তার ব্যক্তিগত ও সামাজিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি ও উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন।

নাসির রেজা বিভিন্ন সময় অসময়ে বার্তা পাঠাতেন, ভিডিও কল দিতেন এবং পরোক্ষভাবে অনৈতিক ইঙ্গিত করতেন। একপর্যায়ে অফিসের ক্যান্টিনের সামনে তাঁকে সরাসরি অনৈতিক প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

বিষয়টি তৎকালীন বিভাগীয় প্রধান ও বর্তমানে অ্যাক্টিং সিআরও শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ করেন ওই নারী কর্মকর্তা। পরে বাধ্য হয়ে তৎকালীন সিআরও জিয়াউল হাসান খানকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানান তিনি।

‎এরপর থেকে নাসির রেজা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন এবং তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরবর্তীতে নাসির রেজা প্রভাবশালী মহল ও প্রশাসনিক সহায়তায় মানবসম্পদ বিভাগে (এইচআর) বদলি হয়ে আসেন।

অভিযোগকারীর দাবি, সেই পদের সুযোগ নিয়ে কোনো কারণ দর্শানো বা সতর্কবার্তা ছাড়াই কেবল প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ছাঁটাই তালিকায় তার নাম যুক্ত করে দেওয়া হয়।

‎এই নারী বলেন, একজন সিঙ্গেল মাদার হিসেবে ঢাকা শহরে সন্তান নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে আমার চাকরিটিই ছিল একমাত্র সম্বল। কাজের কোনো ত্রুটি ছাড়া কেবল কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় আমাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, যা মানবাধিকার ও শ্রম আইনের চরম লঙ্ঘন।

‎তিনি অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, মানবিক ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে চাকরি পুনর্বহাল এবং ডিএসইতে নারী কর্মীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

ডিএসইতে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় অন্যায্য চাকরিচ্যুতির অভিযোগ এনে স্বপদে পুনর্বহাল ও বিচারের দাবিতে সিএমজেএফ ও বিএসইসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

‎তিনি বলেন, ‎ কর্মজীবনে তার বিরুদ্ধে কাজ বা শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোনো অনিয়ম কিংবা গাফিলতির অভিযোগ ছিল না। ডিএসই কর্তৃপক্ষও কখনো তাকে কোনো নোটিশ বা সতর্কবার্তা দেয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে নাসির রেজা জাগো নিউজকে বলেন, তার পদে থেকে কোনো কর্মীকে বদলি বা চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য ব্যবস্থাপনা ও বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমরা যে পজিশনে চাকরি করি, সেখানে একটা পিয়নকে ট্রান্সফার করার ক্ষমতাও আমাদের হাতে নেই। এমডি পর্যন্ত অ্যাপ্রুভাল লাগে। আমরা ক্লারিক্যাল ও ডেস্ক জব করি। একজন এক্সিকিউটিভের চাকরি খাওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।

নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে নাসির রেজা বলেন, অভিযোগটি প্রায় সাড়ে ছয় থেকে সাত বছর আগের ঘটনা। এত দীর্ঘ সময় পর বিষয়টি সামনে আসায় তিনি বিস্মিত। তার দাবি, ওই সময় ব্যবহৃত তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল এবং সেটি তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না।

তিনি বলেন, আমার একটা দুর্বল পাসওয়ার্ড ছিল। ওই সময় আমার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল। এখন সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে আমরা অনেক সচেতন। ওই অ্যাকাউন্টটা তখন আমার কন্ট্রোলেই ছিল না। এখন জানি না, কোথা দিয়ে কী হয়েছে।

চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্তের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই দাবি করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীর চাকরি ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত ও বোর্ডের অনুমোদনের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে শেষ হয়েছিল। তিনি নিজেকে কেবল ওই প্রক্রিয়ার বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাসির বলেন, আমি শুধু যারা হ্যান্ডওভার করে আমাদের সেপারেশনের, সেখানে সর্বশেষ ডাকা হয়েছিলাম। উনি নাকি সিনক্রিয়েট করছিলেন, সুইসাইড করবে, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন পরিস্থিতি ম্যানেজ করার জন্য আমাকে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু উনি আমাকেই ফাঁসিয়ে দিলেন।

অভিযোগকে নিজের জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ উল্লেখ করে নাসির বলেন, বিষয়টি যেহেতু আইনি প্রক্রিয়ায় গেছে, তাই তিনি আইনগতভাবেই এর মোকাবিলা করবেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার কথাও জানান তিনি।

তিনি বলেন, যেহেতু উনি আইনে গেছেন, আমি ফেস করবো এবং আমি উনার বিরুদ্ধে মানহানি মামলা করবো। আমার যে ক্ষতি করলেন, এই ক্ষতি উনি কখনো পূরণ করতে পারবেন না। কারণ আমরা মিডল ক্লাস ভাই, আমাদের আছে আত্মসম্মানবোধটুকু। অন্য কিছু নেই আমাদের।

নিজের পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদার কথা উল্লেখ করে নাসির বলেন, আমরা ক্লার্কের মতো পরিশ্রম করি, মাস শেষে কিছু বেতন পাই, সংসার চালাই। আছে আত্মসম্মানবোধটুকু। এইটুকু নিয়ে খেলা করা হচ্ছে আজকে চাকরি চলে যাওয়ার পরে। যেখানে আমার কোনো হাত নেই।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযোগকারী কর্মী প্রায় সাড়ে ছয় বছর আগে তার অধীনে ছিলেন। তবে বর্তমান অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করে নাসির বলেন, উনি আমার আন্ডারে ছিলেন সাড়ে ছয় বছর আগে সর্বশেষ। আমি তো এইটুকুই বললাম। বাকিটুকু বুঝে নেন।

যোগাযোগ করা হলে ডিএসইর চাকরিচ্যুত নারীকর্মী জাগো নিউজকে বলেন, হ্যাঁ, আমি গতকাল রাতে থানায় জিডি করেছি। নাসির সাহেব আমাকে আগে বিভিন্নভাবে উক্ত করতেন। আমি সুযোগ দেয়নি বলে, তিনি এখন ক্ষমতা দেখিয়ে আমার চাকরি খেয়ে দিয়েছেন।

এমএএস/এমএএইচ/

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow