ডিজিটাল পেমেন্টে ফি চালুর পথে ভারত

ভারতে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্‌ম ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) ব্যবহার করে লেনদেনের ক্ষেত্রে আবারও মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বা মার্চেন্ট ফি চালুর পথ তৈরি হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশটির পেমেন্ট-সংক্রান্ত আইনে সংশোধনের প্রস্তাব মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) হলো এমন একটি ফি, যা ডিজিটাল লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ও পেমেন্ট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করে থাকেন। বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলোর একটি ইউপিআই। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন রুপি লেনদেন হয়েছে, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল ২৯ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন রুপি (৩১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। (১ বিলিয়ন = ১০০ কোটি এবং ১ ট্রিলিয়ন = ১ লাখ কোটি) বর্তমানে ইউপিআইভিত্তিক লেনদেনের বাজারে সবচেয়ে বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টের ফোনপে (PhonePe) ও অ্যালফাবেটের গুগল পে (Google Pay)। ডিজিটাল পেমেন্ট খাতের নির্বাহীরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, ইউপিআই লেনদেনে কোনো ধরনের ফি না থাকায় পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্

ডিজিটাল পেমেন্টে ফি চালুর পথে ভারত

ভারতে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্‌ম ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই) ব্যবহার করে লেনদেনের ক্ষেত্রে আবারও মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) বা মার্চেন্ট ফি চালুর পথ তৈরি হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশটির পেমেন্ট-সংক্রান্ত আইনে সংশোধনের প্রস্তাব মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে।

মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) হলো এমন একটি ফি, যা ডিজিটাল লেনদেন প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ও পেমেন্ট সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করে থাকেন।

বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলোর একটি ইউপিআই। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন রুপি লেনদেন হয়েছে, যার মোট আর্থিক মূল্য ছিল ২৯ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন রুপি (৩১৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। (১ বিলিয়ন = ১০০ কোটি এবং ১ ট্রিলিয়ন = ১ লাখ কোটি)

বর্তমানে ইউপিআইভিত্তিক লেনদেনের বাজারে সবচেয়ে বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়ালমার্টের ফোনপে (PhonePe) ও অ্যালফাবেটের গুগল পে (Google Pay)।

ডিজিটাল পেমেন্ট খাতের নির্বাহীরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, ইউপিআই লেনদেনে কোনো ধরনের ফি না থাকায় পেমেন্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আয় করতে পারছে না। ফলে এই খাতের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নতুন বিনিয়োগ ধরে রাখা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট সংশোধনের একটি বিল উত্থাপন করেছেন।

শিল্পসংশ্লিষ্ট এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই সংশোধনের মাধ্যমে ডিজিটাল পেমেন্টে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চালুর আইনি ভিত্তি তৈরি হবে।

তবে সূত্রগুলো স্পষ্ট করেছে, এমডিআরের হার কত হবে বা কোন কোন লেনদেনে এটি প্রযোজ্য হবে- সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি না থাকায় সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। এ বিষয়ে ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও জাতীয় পেমেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভারতে বর্তমানে ক্রেডিট কার্ডে সাধারণত প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর ও ডেবিট কার্ডে সর্বোচ্চ ০ দশমিক ৯ শতাংশ এমডিআর নেওয়া হয়। তবে ইউপিআই লেনদেনে এখন পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের কোনো এমডিআর দিতে হয় না।

বিবেচনায় দুটি বিকল্প

বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত দুটি সূত্র জানিয়েছে, নীতিনির্ধারকরা বর্তমানে দুটি প্রধান বিকল্প বিবেচনা করছেন।

প্রথম বিকল্প অনুযায়ী, নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি মূল্যের লেনদেনে এমডিআর আরোপ করা হতে পারে।

দ্বিতীয় বিকল্প অনুযায়ী, কোনো ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভারের ভিত্তিতে এমডিআর নির্ধারণ করা হতে পারে।

আরেকটি প্রস্তাব অনুযায়ী, শুধু বড় ব্যবসায়ীদের ওপর এই চার্জ আরোপ করা হবে। একই সঙ্গে ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ইউপিআই পেমেন্ট আগের মতোই বিনা খরচে রাখা হবে।

সরকারি একটি সূত্র জানিয়েছে, যেসব ব্যবসায়ীর বার্ষিক টার্নওভার ১ কোটি ৫০ লাখ রুপির বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ২ হাজার রুপির বেশি মূল্যের ইউপিআই লেনদেনে ০ দশমিক ৩ থেকে ০ দশমিক ৫ শতাংশ এমডিআর আরোপের একটি প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্রকাশিত জেফারিজ (Jefferies)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ হাজার রুপির বেশি মূল্যের লেনদেন মোট মার্চেন্ট পেমেন্টের মাত্র ৪ শতাংশ হলেও মোট লেনদেনমূল্যের প্রায় ৬৭ শতাংশ এই শ্রেণির লেনদেন থেকেই আসে।

ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা চালু হলে ভারতের পেমেন্ট শিল্পে ৫০ বিলিয়ন থেকে ১০০ বিলিয়ন রুপির নতুন রাজস্বের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে পেটিএম (Paytm) ও পাইন ল্যাবস (Pine Labs)-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো লাভবান হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে ব্যবহৃত বিনিময় হার অনুযায়ী, ১ মার্কিন ডলারের সমান ৯৫ দশমিক ৩৮ ভারতীয় রুপি।

সূত্র: রয়টার্স

এসএএইচ

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow