ডিভোর্স দিয়ে ১০৯ কোটি টাকা পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী

প্রায় ২৩ বছর ধরে চলা এক দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী  অবশেষে তার সাবেক স্বামী ভদ্রেশ গোহিলের বিরুদ্ধে চলা বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় ৬.৬ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৮৫ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি টাকায় ১০৯ কোটি ৪৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬ টাকা।) পাওয়ার অধিকার অর্জন করেছেন। বৃহস্পতিবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার সূত্রপাত ২০০২ সালে, তখন বর্ষা গোহিল স্বামীর পরকীয়া ও অযৌক্তিক আচরণের অভিযোগে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। সে সময় দম্পতির তিন সন্তান ছিল এবং আর্থিক নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে বর্ষা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড ও পরিবারের একটি গাড়ি গ্রহণ করেন। তবে তিনি সবসময় সন্দেহ করতেন যে তার স্বামী প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। বছরের পর বছর সেই সন্দেহের পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বদলে যায় যখন ভদ্রেশ গোহিল নাইজেরিয়ার এক কর্মকর্তার সঙ্গে জড়িত একটি বড় অর্থপাচার কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হন। তদন্তে উঠে আসে, তিনি অফশোর কোম্পানি ও বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি পাউন্ড স্থানান্তরে সহায়তা করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অর্থপাচার, জালিয়াতি ও প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে

ডিভোর্স দিয়ে ১০৯ কোটি টাকা পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী

প্রায় ২৩ বছর ধরে চলা এক দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটেছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নারী  অবশেষে তার সাবেক স্বামী ভদ্রেশ গোহিলের বিরুদ্ধে চলা বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলায় ৬.৬ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৮৫ কোটি রুপি বা বাংলাদেশি টাকায় ১০৯ কোটি ৪৮ লাখ ৮৭ হাজার ৬৬ টাকা।) পাওয়ার অধিকার অর্জন করেছেন।

বৃহস্পতিবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার সূত্রপাত ২০০২ সালে, তখন বর্ষা গোহিল স্বামীর পরকীয়া ও অযৌক্তিক আচরণের অভিযোগে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন। সে সময় দম্পতির তিন সন্তান ছিল এবং আর্থিক নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে বর্ষা প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ড ও পরিবারের একটি গাড়ি গ্রহণ করেন। তবে তিনি সবসময় সন্দেহ করতেন যে তার স্বামী প্রকৃত সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

বছরের পর বছর সেই সন্দেহের পক্ষে কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি বদলে যায় যখন ভদ্রেশ গোহিল নাইজেরিয়ার এক কর্মকর্তার সঙ্গে জড়িত একটি বড় অর্থপাচার কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত হন।

তদন্তে উঠে আসে, তিনি অফশোর কোম্পানি ও বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোটি কোটি পাউন্ড স্থানান্তরে সহায়তা করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অর্থপাচার, জালিয়াতি ও প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং ২০১১ সালে ১০ বছরের কারাদণ্ড পান।

ফৌজদারি মামলার তদন্তে এমন বিপুল সম্পদের সন্ধান মেলে, যা বিবাহবিচ্ছেদের সময় প্রকাশ করা হয়নি। পরে প্রসিকিউটররা প্রায় ২৮ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পদ জব্দের উদ্যোগ নেয়, যেগুলো বিভিন্ন দেশে পরিচালিত কোম্পানির মাধ্যমে গোপন রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

এই নতুন তথ্যের ভিত্তিতে বর্ষা গোহিল পুনরায় আর্থিক নিষ্পত্তির বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করেন। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতে গড়ায়।

২০১৫ সালে এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত জানান, কোনো ব্যক্তি যদি বিবাহবিচ্ছেদের সময় সম্পদের তথ্য গোপন করেন, তাহলে তিনি সেই গোপনীয়তার সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। ফলে বর্ষাকে মামলাটি পুনরায় খোলার অনুমতি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে মামলাটি উচ্চ আদালতে যায়। বিচারক পর্যবেক্ষণ করেন, জব্দ সম্পদের একটি অংশ বৈধ উৎস থেকে অর্জিত হয়েছিল এবং তা বৈবাহিক সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত। তিনি প্রায় ৬.৬৬ মিলিয়ন পাউন্ডকে ‘অকলুষিত’ সম্পদ হিসেবে চিহ্নিত করে পুরো অর্থ বর্ষা গোহিলকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রায়ে বিচারক বলেন, স্বামীর অসততা ও তার পরিণতি চরম পর্যায়ের। তিনি ভদ্রেশ গোহিলকে অসৎ বলেও মন্তব্য করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow