ডুমস্ক্রোলিংয়ের ফাঁদে আটকে যাচ্ছেন না তো? আসক্তি কমাবেন যেভাবে

ডুমস্ক্রোলিংয়ে আসক্ত নন এমন মানুষ কমই আছেন। এই লাইন পড়ে আপনার মনে প্রথমেই প্রশ্ন আসছে ডুমস্ক্রোলিং আবার কি? আচ্ছা একটু সহজ করে বলি, ঘুমানোর আগে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য ফোন হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার একের পর এক পোস্ট, ভিডিও বা রিল দেখতে দেখতে কখন যে এক ঘণ্টা কেটে গেছে, তা টেরই পাননি। এমন অভিজ্ঞতা এখন অনেকেরই। এই অভ্যাসেরই একটি নাম আছে ডুমস্ক্রোলিং। সম্প্রতি এমন কিছু অ্যাপ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যেগুলো ব্যবহারকারীদের অযথা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার সময় কমাতে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট সময়ের পর অ্যাপ লক করা, বিরতি নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়া, এমনকি স্ক্রলিংয়ের মাঝেই সচেতনতামূলক বার্তা দেখানোর মতো নানা ফিচারের মাধ্যমে এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অ্যাপ নয়, নিজের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। ডুমস্ক্রোলিং কী? ডুমস্ক্রোলিং হলো এমন একটি অভ্যাস, যেখানে মানুষ বারবার নেতিবাচক খবর, উদ্বেগজনক পোস্ট বা অন্তহীন সোশ্যাল মিডিয়া ফিড স্ক্রল করতে থাকে, যদিও জানে এতে সময় নষ্ট হচ্ছে বা মানসিক চাপ বাড়ছে। ‘আর মাত্র একটি পোস্ট’ বা ‘আর একটি ভি

ডুমস্ক্রোলিংয়ের ফাঁদে আটকে যাচ্ছেন না তো? আসক্তি কমাবেন যেভাবে

ডুমস্ক্রোলিংয়ে আসক্ত নন এমন মানুষ কমই আছেন। এই লাইন পড়ে আপনার মনে প্রথমেই প্রশ্ন আসছে ডুমস্ক্রোলিং আবার কি? আচ্ছা একটু সহজ করে বলি, ঘুমানোর আগে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য ফোন হাতে নিয়েছিলেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার একের পর এক পোস্ট, ভিডিও বা রিল দেখতে দেখতে কখন যে এক ঘণ্টা কেটে গেছে, তা টেরই পাননি। এমন অভিজ্ঞতা এখন অনেকেরই। এই অভ্যাসেরই একটি নাম আছে ডুমস্ক্রোলিং।

সম্প্রতি এমন কিছু অ্যাপ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, যেগুলো ব্যবহারকারীদের অযথা সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করার সময় কমাতে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট সময়ের পর অ্যাপ লক করা, বিরতি নেওয়ার কথা মনে করিয়ে দেওয়া, এমনকি স্ক্রলিংয়ের মাঝেই সচেতনতামূলক বার্তা দেখানোর মতো নানা ফিচারের মাধ্যমে এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু অ্যাপ নয়, নিজের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে।

ডুমস্ক্রোলিং কী?

ডুমস্ক্রোলিং হলো এমন একটি অভ্যাস, যেখানে মানুষ বারবার নেতিবাচক খবর, উদ্বেগজনক পোস্ট বা অন্তহীন সোশ্যাল মিডিয়া ফিড স্ক্রল করতে থাকে, যদিও জানে এতে সময় নষ্ট হচ্ছে বা মানসিক চাপ বাড়ছে। ‘আর মাত্র একটি পোস্ট’ বা ‘আর একটি ভিডিও’ দেখার প্রবণতাই ধীরে ধীরে দীর্ঘ সময়ের স্ক্রলিংয়ে পরিণত হয়। অ্যালগরিদমভিত্তিক সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীর আগ্রহ অনুযায়ী নতুন নতুন কনটেন্ট দেখাতে থাকে। ফলে থামতে চাইলেও অনেকের পক্ষে সহজে স্ক্রল বন্ধ করা সম্ভব হয় না।

ডুমস্ক্রোলিংয়ের প্রভাব

অতিরিক্ত ডুমস্ক্রোলিং শুধু সময় নষ্ট করে না, এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

  • মনোযোগ কমে যেতে পারে।
  • উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বাড়তে পারে।
  • ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।
  • কাজ বা পড়াশোনার উৎপাদনশীলতা কমে যায়।
  • বাস্তব জীবনের সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

যেভাবে সাহায্য করতে পারে নতুন অ্যাপ

বর্তমানে অনেক ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যাপ রয়েছে, যেগুলো ফোন ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন সুবিধা দেয়। যেমন-

  • নির্দিষ্ট সময়ের পর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ সাময়িকভাবে ব্লক করে।
  • প্রতিদিন কতক্ষণ স্ক্রল করেছেন, তার হিসাব দেখায়।
  • অতিরিক্ত সময় ব্যবহার করলে বিরতি নেওয়ার নোটিফিকেশন দেয়।
  • লক্ষ্য নির্ধারণ করে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
  • কিছু অ্যাপ স্ক্রল শুরু করার আগে কয়েক সেকেন্ড অপেক্ষা করতে বলে, যাতে ব্যবহারকারী ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এসব ফিচার ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে কার্যকর হতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা নিজের অজান্তেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করেন।

ডুমস্ক্রোলিং কমানোর সহজ উপায়

অ্যাপ ব্যবহার করলেও কিছু ব্যক্তিগত অভ্যাস বদলানো জরুরি।

  • ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন সরিয়ে রাখুন। এতে ঘুমের মান ভালো থাকবে।
  • সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন। সারাদিনে কয়েকবার সীমিত সময় ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
  • অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ করুন। বারবার নোটিফিকেশন ফোন হাতে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায়।
  • ফোনকে হাতের নাগালের বাইরে রাখুন। কাজ বা পড়াশোনার সময় ফোন অন্য ঘরে রাখলে মনোযোগ বাড়তে পারে।
  • স্ক্রলিংয়ের বিকল্প খুঁজুন। বই পড়া, হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো ধীরে ধীরে এই অভ্যাস কমাতে সাহায্য করতে পারে।

প্রযুক্তি ব্যবহার করুন, কিন্তু প্রযুক্তির দাস হবেন না

স্মার্টফোন ও সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার মানসিক চাপ ও সময় অপচয়ের কারণ হতে পারে। ডুমস্ক্রোলিং কমাতে নতুন অ্যাপগুলো সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হলো সচেতনভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করা। নিজের জন্য কিছু সীমা নির্ধারণ করতে পারলে শুধু সময়ই বাঁচবে না, মানসিক স্বস্তিও অনেকটাই ফিরে আসবে।

কেএসকে

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow