ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতি ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত কাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্তও যানজট পুরোপুরি নিরসন হয়নি; বরং ধীরগতিতে চলাচল করা যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ গত তিন মাস ধরে চলছে। কাজের সুবিধার্থে এক পাশ বন্ধ রেখে অপর পাশ দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে ওই বিকল্প লেনও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সেখান থেকে কাদা-পানি ছড়িয়ে
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার অংশে সংস্কারকাজের ধীরগতি ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট খানাখন্দের কারণে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশ দিন-রাত কাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলছে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আমতলী এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেখারচর এলাকা থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ঢাকামুখী লেনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্তও যানজট পুরোপুরি নিরসন হয়নি; বরং ধীরগতিতে চলাচল করা যানবাহনের সারি আরও দীর্ঘ হতে থাকে।
হাইওয়ে পুলিশ জানায়, কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাস সংলগ্ন আমতলী এলাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ গত তিন মাস ধরে চলছে। কাজের সুবিধার্থে এক পাশ বন্ধ রেখে অপর পাশ দিয়ে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে ওই বিকল্প লেনও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সেখান থেকে কাদা-পানি ছড়িয়ে পাশের ভালো সড়কও নষ্ট হচ্ছে। ফলে যানবাহন বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে, যা প্রতিদিন দীর্ঘ যানজটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এড়াতে কিছু চালক উল্টো পথে চলাচলের চেষ্টা করেন। এতে যানজট আরও বেড়ে যায় এবং উভয় দিকেই যান চলাচল ব্যাহত হয়। শুক্রবার সকালেও একই কারণে আলেখারচর থেকে সুয়াগাজী পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এতে শত শত যানবাহন ও হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।
যানজট নিয়ন্ত্রণে ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার একাধিক মোবাইল টিমের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, ‘গত তিন মাস ধরে এই অংশে সংস্কারকাজ চলছে। এরই মধ্যে আশপাশের অংশও ভেঙে যাচ্ছে। যানবাহনের তীব্র চাপ ও দীর্ঘ যানজট নিয়ন্ত্রণে গত তিন দিন ধরে আমাদের সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। দ্রুত সড়ক সংস্কার না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামতের জন্য সওজ বিভাগকে বারবার অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’
শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই কর্মকর্তা জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ জরুরি সাময়িক মেরামত কাজ শুরু করেছে। একপাশ দিয়ে যানচলাচল অব্যাহত আছে। ধীরলয়ে যানবাহন চলাচল করছে। তবে যানজট রয়েছে। আমাদের চেষ্টাও অব্যাহত আছে। তিনি আরও বলেন, কিছুটা ধীরে হলেও যানজট কমবে।
হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কীর্তিমান চাকমা বলেন, বৃষ্টি হলেই আমতলী এলাকার ভোগান্তি নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়ায়। গত তিন থেকে চার সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কের এই অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মূল সড়কের পাশাপাশি বিকল্প লেনেও বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। গত দুই দিনে শুধু এই স্থানেই অন্তত চারটি মালবাহী ট্রাক গর্তে আটকে যায়। পরে রেকার দিয়ে সেগুলো সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে দীর্ঘ সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি একাধিকবার সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিনই যানজট বাড়ছে এবং জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে।
যানজটে আটকে থাকা কয়েকজন ট্রাক ও বাসচালক জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক ঘণ্টা বেশি সময় লাগছে। এতে জ্বালানি অপচয়ের পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও বাড়ছে।
যাত্রীরা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই আমতলী এলাকায় একই ধরনের দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। দীর্ঘ সময় যানবাহনে আটকে থাকায় নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছেন। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার করে মহাসড়কে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা এবং আমতলী অংশের সংস্কারকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
What's Your Reaction?