ঢাবির বাসে দম্পতির পাশাপাশি বসা নিয়ে বিরোধ, হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘আনন্দ’ বাসে এক দম্পতির পাশাপাশি বসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের মারধর ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী ও তার স্বামীসহ কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভূইগড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বাসে এক ছাত্র ও ছাত্রী পাশাপাশি বসলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের আলাদা বসতে বলেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী জানান, পাশে বসা ব্যক্তি তার স্বামী। এরপরও তাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়। পরিচয় নিয়ে এক পর্যায়ে বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ওই দম্পতির গন্তব্যস্থলে বাস পৌঁছালে একদল যুবক বাসে উঠে শিক্ষার্থীদের মারধর ও ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেন বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, হামলাকারীদের সংখ্যা ৩০-৪০ জনের মতো ছিল। কী ঘটেছিল বাসে আনন্দ বাসের কার্যকরী কমিটি ২০২৫-২৬-এর সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারেকের ভাষ্য, বাসের সামনের দিকে এক ছেলে ও মেয়েকে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখে তাদের আ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘আনন্দ’ বাসে এক দম্পতির পাশাপাশি বসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে শিক্ষার্থীদের মারধর ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী ও তার স্বামীসহ কয়েকজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ভূইগড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, বাসে এক ছাত্র ও ছাত্রী পাশাপাশি বসলে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের আলাদা বসতে বলেন। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী জানান, পাশে বসা ব্যক্তি তার স্বামী। এরপরও তাকে পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়। পরিচয় নিয়ে এক পর্যায়ে বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।
পরে ওই দম্পতির গন্তব্যস্থলে বাস পৌঁছালে একদল যুবক বাসে উঠে শিক্ষার্থীদের মারধর ও ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেন বাসে থাকা শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, হামলাকারীদের সংখ্যা ৩০-৪০ জনের মতো ছিল।
কী ঘটেছিল বাসে
আনন্দ বাসের কার্যকরী কমিটি ২০২৫-২৬-এর সভাপতি তরিকুল ইসলাম তারেকের ভাষ্য, বাসের সামনের দিকে এক ছেলে ও মেয়েকে পাশাপাশি বসে থাকতে দেখে তাদের আলাদা বসতে বলা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ছেলেমেয়ে পাশাপাশি বসার নিয়ম নেই জানিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে পেছনের সিটে বসাতে বলা হয়।
তারেকের দাবি, ওই ছাত্রী প্রথমে পাশের ব্যক্তিকে তার ভাই হিসেবে উল্লেখ করেন। পরে ওই ব্যক্তি পেছনের সিটে গিয়ে বসেন। এরপর ওই ছাত্রীর পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং তার পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া হয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়।
তারেক বলেন, পরে ওই ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরও কিছু তথ্য দেখাতে বলা হলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীকে নামিয়ে দেওয়ার পর তার গন্তব্যে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক বাসে উঠে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তারেকের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাসে উঠে প্রথমে গালাগালি করেন এবং পরে শিক্ষার্থীদের মারধর শুরু করেন। এ সময় কয়েকজন ছাত্রীও হেনস্তার শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযুক্ত বলছেন ভিন্ন কথা
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রীর বক্তব্য ভিন্ন। তার দাবি, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী এবং নারায়ণগঞ্জে থেকে নিয়মিত আনন্দ বাসে যাতায়াত করেন।
তার ভাষ্য, বৃহস্পতিবার থিসিসের কাজ শেষে সন্ধ্যার বাসে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। রাত হওয়ায় তার স্বামী সঙ্গে ছিলেন। বাসে যাত্রী কম থাকায় তারা পাশাপাশি বসেছিলেন।
তিনি দাবি করেন, বাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের একসঙ্গে বসা নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দেওয়ার পরও তাদের আলাদা বসতে বলা হয়। পরে তার স্বামী পেছনের সিটে চলে যান।
এ শিক্ষার্থীর অভিযোগ, এরপর বাসের কয়েকজন শিক্ষার্থী তার ছাত্রত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং পরিচয়পত্র দেখতে চান। তিনি পরিচয়পত্র, বিশ্ববিদ্যালয়ের ই-মেইল, রেজিস্ট্রেশন ও ভর্তি-সংক্রান্ত তথ্য দেখালেও তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
তার দাবি, এ সময় তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী তার সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। পরে বাস থেকে নামার সময় তিনি বিষয়টি নিয়ে পরিবহন অফিসে জানান।
তার বাবা এলাকার পরিচিত হওয়ায় কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে আসেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি ও তার স্বামী পরিস্থিতি সামাল দিয়ে বাস থেকে নেমে যান।
তার বিরুদ্ধে হামলা করানোর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, তিনি কাউকে দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করাননি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাসে বসা নিয়ে ওই ছাত্রীর সঙ্গে অন্য শিক্ষার্থীদের বিরোধ হয়। পরে তার স্বামী ফোন করে স্থানীয় কয়েকজন যুবককে জড়ো করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাসটি ওই ছাত্রীর গন্তব্যস্থলে পৌঁছালে স্থানীয় যুবকরা বাসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের মারধর করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওসি জানান, মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত ছাত্রীর স্বামীকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল বলেন, ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও দাবিও যাচাই করা হবে।
প্রক্টর বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সূত্রপাত বা কার দায় কতটুকু এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। তবে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের উদ্যোগ
ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা ও আনন্দ বাস কমিটির সদস্যরা ফতুল্লা থানায় যান এবং মামলা প্রক্রিয়ায় অংশ নেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক মো. আসিফ আব্দুল্লাহ জানান, বাসে হামলার ঘটনায় ফতুল্লা থানায় মামলা করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) আনন্দ রুটের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হবে।
আগেও ঢাবির বাসে হামলার অভিযোগ
এদিকে, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে হামলার কয়েকটি ঘটনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এর আগে ‘ক্ষণিকা’ বাসে কলেজ শিক্ষার্থীদের হামলা এবং ‘অর্জন’ বাসকে ঘিরেও হামলার ঘটনা ঘটে বলে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেছেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
বর্তমান ঘটনায় শিক্ষার্থীদের দাবি, হামলায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে কারা ছিলেন, সেটিও তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে, হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রী তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ ও কারা হামলায় জড়িত ছিলেন, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
এএমএ
What's Your Reaction?