আসবো আসবো করে বেশ কবার ট্রেন ফেল করেছিল ‘জংলি’। নির্মাতা এম রাহিমের তাড়া ছিল না। অভিনেতা সিয়ামেরও ছিল না ফার্স্ট হওয়ার তাগিদ। তিনি কেবল চেয়েছিলেন ঈদে তার ছবি মুক্তি পাবে, এইই তার আনন্দ। প্রতিযোগিতা নয়, অংশগ্রহণের মধ্যদিয়ে ক্যারিয়ার গ্রাফ এঁকে যাচ্ছেন এই তরুণ। কিন্তু এই ঈদুল ফিতরে এসে মনে হচ্ছে, অভিনেতা সিয়াম জিতে গেলেন!
অনেকগুলো ছেঁড়া ছেঁড়া সুতো জোড়া দিয়ে সিয়ামের বিজয় নিশ্চিত করা যেতে পারে। যদিও সিয়াম ও তার অভিনীত সিনেমার পিছিয়ে পড়ার রয়েছে অনেকগুলো পয়েন্ট। ঈদে যতগুলো সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, সবগুলোই ‘হিরো-কেন্দ্রীক’। বড় বড় তারকা তারা। শাকিব খান, মোশাররফ করিম, আফরান নিশো, নামগুলো জ্বলজ্বলে! তাদের পাশে সিয়াম আহমেদ, অল্প কয়েকটি সিনেমার হিরো। এবার তার ছবি পেয়েছেও সবচেয়ে কম হল। ছবির নির্মাতা নতুন। ছোট্ট এ বাজারে বিনিয়োগ তুলে আনার ক্ষিপ্রতা এখনও হয়নি তার।
পবিত্র ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া সিনেমার সংখ্যা ছয়। নিয়মিত পর্দার সিনেমা হল ৮০ ও মৌসুমী হল আরও ৯০টি। এ হলগুলোর মধ্যে ১২০টি চালাচ্ছে শাকিব খানের ‘বরবাদ’, ১৬টি আফরান নিশোর ‘দাগি’, ২১টি শাকিব খানের বিলম্বিত ছবি ‘অন্তরাত্মা’। মোশাররফ করিম অভিনীত ‘চক্কর ৩০২’ চলছে শুধু ব্লকবাস্টার সিনেমাস, লায়ন ও স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখাগুলোতে। সিয়াম অভিনীত ‘জংলি’ দেখা যাচ্ছে কেবল মাল্টিপ্লেক্সগুলোতে, শো সংখ্যাও নেহায়েত কম। ‘জিন-৩’-এর অবস্থা অবশ্য আর একটু নাজুক। কেবল হলসংখ্যা বিবেচনায় নিলেই দেখা যায় ‘বরবাদ’ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। যদিও এরই মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে শাকিব খানের ‘অন্তরাত্মা’। অন্যদিকে বাড়ানো হয়েছে ‘দাগি’র শো সংখ্যা। অপরিবর্তিত অবস্থা কেবল সিয়ামের ‘জংলি’র!
- আরও পড়ুন
- ভালোবাসার গানটি নিয়ে যে কারণে উচ্ছ্বসিত সিয়াম
- এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পাবে জংলি
- সিয়ামের জন্মদিনে নতুন সিনেমার পোস্টার
ঢাকার ছবির বাজারে জোর পূর্বক একটি বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে – শাকিব খানের সিনেমা তার নামে চলে! এই ঈদে বার্তাটি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। হলসংখ্যার বিচারে ‘বরবাদ’ এগিয়ে ও ব্যবসাসফল হওয়ার পথে। অন্যদিকে ‘অন্তরাত্মা’ ব্যর্থতার কাফন হাতে অপেক্ষমান। দুটোই শাকিব খানের সিনেমা। অথচ তার নামের সঙ্গে প্রতারণা করলো যেন তার প্রচারভাগ্য! ঈদের ছবির দৌড়ে পেছন থেকে গুনলে পাওয়া যাবে সজল-ফারিয়ার ‘জিন-৩’, মোশাররফদের ‘চক্কর ৩০২’ ও শাকিব-দর্শনার ‘অন্তরাত্মা’। ঈদের ছবি হিসেবে লড়ছে কেবল ‘বরবাদ’, ‘দাগি’ ও ‘জংলি’।
‘বরবাদ’ শাকিব খানের সিনেমা। গণ-অভ্যুত্থানের পরের প্রথম ঈদে সবচেয়ে বড় আয়োজনের সিনেমা। প্রচার-প্রচারণায় অনন্য, ভয়ানক তার ট্রেলার, অভিনেতার বিধ্বংসী লুক, কোটি কোটি ভক্ত শাকিবের। ছবির মূল অভিনেত্রী ভারতীয়। একজন আইটেম গার্ল, তিনিও ভারতীয়। কলকাতার অভিনেতা যিশু সেনগুপ্ত আছেন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে। ছবিটি ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে প্রযোজনা করা হয়েছে। ছবির শুটিংও হয়েছে ভারতে। এমন হাইভোল্টের ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা সহজ কথা নয়।
‘দাগি’ ছবির প্রযোজক চরকি, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রযোজনা সংস্থা। প্রচার-প্রচারণায় ছবিটির নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম। এতে অভিনয় করা আফরান নিশো সারা পৃথিবীর বাংলা কনটেন্ট গ্রাহকদের ভালোবাসার প্রতীক। নিশোর ‘সুড়ঙ্গ’ নানান বিবেচনায় ছিল মুক্তির বছরের সেরা সিনেমা। দীর্ঘ বিরতির পর তার দ্বিতীয় সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ থাকবে অবধারিতভাবে। সুতরাং ‘দাগি’ দাগ রেখে যাবে, ঈদের চাঁদ যেভাবে বাড়তে থাকে, সেভাবে বাড়বে তার দর্শক।
- আরও পড়ুন
- সিনেপ্লেক্স থেকে নামানো হয়েছে শাকিবের ‘অন্তরাত্মা’
- ‘মুজিব’ সিনেমার পর দীর্ঘ বিরতিতে এলো ফারিয়ার ‘জ্বীন'
- পাইরেসির কবলে শাকিবের ‘বরবাদ’, থানায় জিডি
‘জংলি’র গল্পটা সংগ্রামের। অনেক সময় নিয়ে বানানো সিনেমা এটি। একদল তরুণ এই সিনেমা বানাতে নেমেছে, যারা মূলত সিনেমা নয়, নেমেছে আবেগের তাড়া খেয়ে, সিনেমার প্রতি ভালোবাসার চাপে। ‘পাবলিক রিলেশনে’ পিছিয়ে পড়া সিয়াম, সংগ্রামী বুবলী, নব্বই দশকের অন্যতম সেরা গানের মানুষ প্রিন্স মাহমুদ এই তরুণ দলের তুরুপের তাস। ভালোবাসা বাজি ধরে সিনেমার প্রতিযোগিতায় নেমেছে ওরা।
ঝড়ে শুটিংসেট চুরমার হয়ে যাওয়ার পর থমকে গিয়েছিলেন নির্মাতা এম রাহিম। তবে টলেননি তিনি। ধৈর্য্য নিয়ে শেষ করেছেন ছবিটি। নিজস্ব গল্প, নিজস্ব নায়ক-নায়িকা আর বুকভর্তি ভালোবাসা ‘জংলি’র পুঁজি। এতসব কারণে ছবিটাকে এগিয়ে রাখাই যায়, সিয়ামকে ও রাহিমকে বিজয়ী ঘোষণা করা যায়। সিয়ামদের পরের ছবিটা সুপারহিট হতে পারে, ‘জংলি’ সেকথাই বলে দিচ্ছে।
আরএমডি/জিকেএস