তরুণীর অভিযোগে আদালতের কাঠগড়ায় টিকটক, মেটা ও ইউটিউব

বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছিল। কিন্তু বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। তবে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে জুরির সামনে এসব অভিযোগের জবাব দিতে যাচ্ছে টিকটক, মেটা ও গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউব। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ শুনানি শুরু হবে।  আদালতের নথিতে কেজেএম নামে উল্লেখিত ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী ও তার মা কারেন গ্লেন টিকটক, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) এবং ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো জেনেশুনেই এমন আসক্তিকর ফিচার তৈরি করেছে যা তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। এসব ফিচার তাকে আত্মহানি ও আত্মহত্যামূলক চিন্তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবক, শিশু অধিকারকর্মী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি খাতের হুইসেলব্লোয়াররা এসব সামাজিক মাধ্যম নিয়ে নানা অভিযোগ করে আসছিল। তাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের অতিরিক্ত স্ক্রলিংয়ে আসক্ত করে, বুলিং সহজ করে, ঘুমের ক্ষতি করে এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রে একাধিকবার কংগ্র

তরুণীর অভিযোগে আদালতের কাঠগড়ায় টিকটক, মেটা ও ইউটিউব

বিশ্বব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছিল। কিন্তু বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। তবে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতে জুরির সামনে এসব অভিযোগের জবাব দিতে যাচ্ছে টিকটক, মেটা ও গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউব। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এ শুনানি শুরু হবে। 

আদালতের নথিতে কেজেএম নামে উল্লেখিত ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী ও তার মা কারেন গ্লেন টিকটক, মেটা (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম) এবং ইউটিউবের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কোম্পানিগুলো জেনেশুনেই এমন আসক্তিকর ফিচার তৈরি করেছে যা তরুণীর মানসিক স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। এসব ফিচার তাকে আত্মহানি ও আত্মহত্যামূলক চিন্তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবক, শিশু অধিকারকর্মী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তি খাতের হুইসেলব্লোয়াররা এসব সামাজিক মাধ্যম নিয়ে নানা অভিযোগ করে আসছিল। তাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিশোরদের অতিরিক্ত স্ক্রলিংয়ে আসক্ত করে, বুলিং সহজ করে, ঘুমের ক্ষতি করে এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের দিকে ঠেলে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রে একাধিকবার কংগ্রেসে হাজির হয়ে প্রযুক্তি নির্বাহীরা এসব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের অভিভাবকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছেন প্রযুক্তি জায়ান্টরা। তবুও দেশটিতে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য শাস্তি বা কঠোর নিয়ন্ত্রণের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

কেজিএম-এর মামলায় ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি। তবে এই মামলার রায় মেটা, টিকটক, ইউটিউব ও স্ন্যাপের বিরুদ্ধে করা এক হাজারের বেশি অনুরূপ ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণ মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।

লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এই বিচার কয়েক সপ্তাহ ধরে চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে মেটা, টিকটক ও ইউটিউবের শীর্ষ নির্বাহীদের সাক্ষ্য দিতে আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা কেজিএম মাত্র ১০ বছর বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার শুরু করেন। তার মা তৃতীয় পক্ষের সফটওয়্যার দিয়ে অ্যাকাউন্ট ব্লক করার চেষ্টা করলেও তা কার্যকর হয়নি। অভিযোগে বলা হয়, এসব প্ল্যাটফর্ম এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শিশুরা অভিভাবকের সম্মতি এড়িয়ে যেতে পারে।

ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও স্ন্যাপচ্যাটের অসীম স্ক্রল, নোটিফিকেশন ও কনটেন্ট সাজেশন ফিচার কেজিএম-কে বাধ্যতামূলকভাবে প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তোলে। এতে তার মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে।

কেজিএম অভিযোগ করেন, ইনস্টাগ্রামে তিনি বুলিং ও সেক্সটরশন-এর শিকার হন। সেখানে অপরাধীরা আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ বা আরও ছবি দাবি করে।

সূত্র: সিএনএন

কে এম

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow