তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের দাবিতে বিনাজের নারী নেত্রীবৃন্দের

তামাকবিরোধী অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম নিয়ে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুরে ইউসেপ কার্যালয়ে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারনী গবেষণা)–এর উদ্যোগে তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)–এর সদস্যদের অংশগ্রহণে আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপ ক্যাম্পেইনের কৌশল নির্ধারণ বিষয়ে একটি সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় দেশের ৮ টি বিভাগের ২৩ টি জেলা থেকে মোট ৩০ জন তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট) সদস্য অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উবিনীগ-এর পরিচালক সীমা দাস সীমু। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান তামাক কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল, ফলে তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে যথেষ্ট নয়, এবং কার্যকর রাজস্ব সংগ্রহের জন্য উপযক্ত নয়। তামাকবিরোধী অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন উবিনীগ-এর প্রোজেক্ট-কো-অর্ডিনেটর হাসানুল হাসিব আল গালিব। তিনি উল্লেখ করেন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৩ শতাংশ)। কার্যকরভাবে তামাকের ব্যবহার কমাতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে সব স্তরের জন্য একটি নির্দিষ্ট করারোপ করে মূল্য বৃদ্ধির কথা বলেন। কর

তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের দাবিতে বিনাজের নারী নেত্রীবৃন্দের

তামাকবিরোধী অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম নিয়ে আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুরে ইউসেপ কার্যালয়ে উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারনী গবেষণা)–এর উদ্যোগে তামাক বিরোধী নারী জোট (তাবিনাজ)–এর সদস্যদের অংশগ্রহণে আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপ ক্যাম্পেইনের কৌশল নির্ধারণ বিষয়ে একটি সক্ষমতা বৃদ্ধি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কর্মশালায় দেশের ৮ টি বিভাগের ২৩ টি জেলা থেকে মোট ৩০ জন তাবিনাজ (তামাক বিরোধী নারী জোট) সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন উবিনীগ-এর পরিচালক সীমা দাস সীমু। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমান তামাক কর ব্যবস্থা অত্যন্ত জটিল, ফলে তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে যথেষ্ট নয়, এবং কার্যকর রাজস্ব সংগ্রহের জন্য উপযক্ত নয়।

তামাকবিরোধী অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেন উবিনীগ-এর প্রোজেক্ট-কো-অর্ডিনেটর হাসানুল হাসিব আল গালিব। তিনি উল্লেখ করেন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি (৩৫.৩ শতাংশ)। কার্যকরভাবে তামাকের ব্যবহার কমাতে নিম্ন ও মধ্যম স্তরের সিগারেট একীভূত করে সব স্তরের জন্য একটি নির্দিষ্ট করারোপ করে মূল্য বৃদ্ধির কথা বলেন।

কর্মশালার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত তামাক কর কাঠামো উপস্থাপন করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, আতাউর রহমান মাসুদ। উপস্থাপনায় তিনি বলেন, কার্যকর কর বৃদ্ধি করা হলে প্রায় ৫ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লক্ষ ৭২ হাজার -এর বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। এবং আগের অর্থবছরের চেয়ে ৪৪ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্ব আয় হবে। যা জনস্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করা যেতে পারে।

সন্মানীত অতিথির বক্তব্যে তাবিনাজ-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফরিদা আখতার বলেন, দেশের বেশিরভাগ দরিদ্র নারী জনগোষ্ঠী ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ করেন যা মুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী। নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার খুচরা মূল্য ৬০ টাকা ও ১০ গ্রাম গুলের খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা এবং উভয় ক্ষেত্রে ২ টাকা সুনির্দিষ্ট করারোপের প্রস্তাব করেন।

তামাকজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় দুই লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটে। ২০২৪ সালে তামাকের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা এই খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের (৪০ হাজার কোটি টাকা) দ্বিগুণের বেশি। তামাক ব্যবহার নিরুৎসাহিতকরণে ও কার্যকর রাজস্ব সংগ্রহে সিগারেটের বর্তমান নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে ১০ শলাকার প্যাকেটের সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য ১০০ টাকা করা এবং ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট করের প্রস্তাব করেন তাবিনাজ-এর নারী নেত্রীবৃন্দ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow