তামাকের অবৈধ বিজ্ঞাপন সংবলিত দোকান অপসারণ অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে তামাকের অবৈধ বিজ্ঞাপন সংবলিত দোকান অপসারণ অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানায় সংগঠনটি। এতে বলা হয়, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে অভিযান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। উচ্ছেদ অভিযানে দেখা গেছে, এসব দোকানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শুধুমাত্র তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল। দোকানগুলো দীর্ঘদিন তামাকজাত দ্রব্যের পয়েন্ট অব সেল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে এসব দোকানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অর্থায়নে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। আরও পড়ুন ‘চিনি ছাড়া চা খাওয়া’ স্বাস্থ্য সচেতনতা নাকি নতুন ট্রেন্ড বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দোকানগুলোতে ডিসপ্লে, ব্র্যান্ডিং এবং সিগারেটের খালি মোড়ক প্রদর্শন করে তামাকজাত দ্রব্যের প্রচারণা করা হচ্ছিল। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের তামাক ব্যবহারে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উদ্যোগে তামাকের অবৈধ বিজ্ঞাপন সংবলিত দোকান অপসারণ অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান উচ্ছেদে ধারাবাহিকভাবে অভিযান কর্মসূচি পরিচালনা করছে। উচ্ছেদ অভিযানে দেখা গেছে, এসব দোকানের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শুধুমাত্র তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে স্থাপন করা হয়েছিল। দোকানগুলো দীর্ঘদিন তামাকজাত দ্রব্যের পয়েন্ট অব সেল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করে এসব দোকানে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অর্থায়নে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা চালানো হচ্ছিল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দোকানগুলোতে ডিসপ্লে, ব্র্যান্ডিং এবং সিগারেটের খালি মোড়ক প্রদর্শন করে তামাকজাত দ্রব্যের প্রচারণা করা হচ্ছিল। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণদের তামাক ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছিল।
বাটা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডিএনসিসির প্রতি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিয়মিত, পরিকল্পনা অনুযায়ী ও ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
সংগঠনটি জানায়, সরকার এ বছর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তামাক কোম্পানিগুলোর আগ্রাসী বিপণন কৌশল নিয়ন্ত্রণে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ সংশোধনের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করেছে। সংশোধিত আইনের ধারা ৫-এ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষভাবে, ধারা ৫(চ) অনুযায়ী তামাকজাত দ্রব্য ও অন্যান্য পণ্যের ব্র্যান্ড, মোড়ক বা প্যাকেটের সাদৃশ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া ধারা ৫(ছ) অনুযায়ী বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, কৌটা, খালি বা নমুনা মোড়ক প্রদর্শনসহ যে কোনো উপায়ে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তাদের ভাষ্য, অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে, সরকার আইন বাস্তবায়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও তামাক কোম্পানিগুলো এখনো নানান কৌশলে বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। এটি শুধু রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘনই নয়, বরং সরকারের জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, তামাক নিয়ন্ত্রণ এবং একটি তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথেও বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
সংগঠনটি বলছে, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা) মনে করে, ডিএনসিসির চলমান অভিযান রাজধানীতে তামাকের বিজ্ঞাপন বন্ধ এবং আইন বাস্তবায়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান শুধু অব্যাহত রাখাই নয়, বরং আরও জোরালোভাবে ঢাকা শহরের সব এলাকায় এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ ধরনের কার্যক্রম নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এসএম/কেএসআর
What's Your Reaction?

