তাহলে সান্তোসেই থাকছেন নেইমার!

2 months ago 6

ব্রাজিলের ফুটবলের পোস্টারবয় নেইমার মানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। কখনও পায়ের জাদুতে, কখনও বা ক্লাব বদলের গুঞ্জনে। সম্প্রতি ইউরোপের ক্লাবগুলোর আগ্রহের মাঝেও ৩৩ বছর বয়সী তারকা চূড়ান্ত করেছেন নিজের ভবিষ্যৎ—ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসেই থাকছেন আরও এক বছর। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইউওএল জানাচ্ছে, এই সপ্তাহেই চুক্তিতে সই করবেন নেইমার।

সান্তোস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো তেইশেইরা মঙ্গলবার নেইমারের বাবা ও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকে বসেন। বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ জুন, তবে নতুন চুক্তির আওতায় নেইমার থাকবেন আরও এক বছর, যেখানে থাকছে পারফরম্যান্স ভিত্তিক ইনসেনটিভ এবং ম্যাচ ও গোলসংখ্যার ওপর ভিত্তি করে বোনাস।

সান্তোসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, নেইমারের আগের চুক্তি অনুযায়ী বকেয়া থাকা ১৩ মিলিয়ন ইউরো ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে।

সম্প্রতি গুঞ্জন ছিল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে আগ্রহী কিছু ইউরোপিয়ান ক্লাব নেইমারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তুরস্কের ক্লাব ফেনারবাচে, যাদের কোচ হোসে মরিনহো স্বয়ং। তবে শেষ পর্যন্ত নেইমার বেছে নিয়েছেন ঘরের ক্লাব সান্তোসকে, যেখানে তিনি জানুয়ারিতে আল-হিলাল থেকে ফিরে এসেছেন।

সান্তোসে ফিরে আসার পর ১২ ম্যাচে ৩ গোল ও ৩ অ্যাসিস্ট করেছেন এই ফরোয়ার্ড। ক্লাবের সঙ্গে আবারও মানিয়ে নিতে থাকা নেইমার এখন পুরোপুরি ফোকাসড নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়ায়।

সবচেয়ে বড় লক্ষ্য অবশ্য সামনে—২০২৬ বিশ্বকাপ। উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দিতে চান নেইমার। নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে ঘিরেই তৈরি করছেন সেলেসাওয়ের আক্রমণভাগ। আনচেলত্তি এরইমধ্যে বলেছেন,

‘নেইমার দলে অপরিহার্য। সে মাঠে যে কোনো জায়গায় খেলতে পারে, আমরা তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করছি।’

নেইমার সান্তোসের সঙ্গে চুক্তিতে সই করার পরই শুক্রবার আবারও অনুশীলনে ফিরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর সেইসঙ্গে শুরু হবে তার আরেক অধ্যায়—যেখানে একদিকে স্বপ্ন বিশ্বকাপ, অন্যদিকে ক্লাব ফুটবলে সান্তোসকে আবারও গৌরবের পথে ফেরানো।

বয়স যতই হোক, নেইমারের ভেতরের আগুন এখনো নেভেনি। ইউরোপের ঝলমলে অফার নয়, ঘরের মাঠেই আবারও আলো ছড়াতে প্রস্তুত ব্রাজিলিয়ান ম্যাজিশিয়ান। আর সেই আলো হয়তো আবারও পথ দেখাবে সেলেসাওকে—২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে।

Read Entire Article