তিস্তা সেচ খালের সংস্কার ও পরিদর্শন সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে তিস্তা সেচ খালের সংস্কার ও পরিদর্শন সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাজীব ব্রিজের কাছে পরিদর্শন সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে এলাকাবাসী এই অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, পরিদর্শন সড়কের পিচ হাত দিলেই উঠে আসছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা প্রধান খালের বগুড়া সেচ খালের বাম ডাইকে (০ কি.মি. হতে ৬.৩৭ কি.মি.) পরিদর্শন রাস্তা মেরামত এবং বগুড়া সেচ খালের ০ কি.মি. হতে ৬.৩০ কি.মি. উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণ কাজ করা হচ্ছে। এসব কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিদর্শন সড়ক নিম্নমানের কাজ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এবং উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণে সেচ খালের বেড ও অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে মাটি তুলে লুটপাটের চেষ্টা করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, তিস্তা প্রধান খালের বগুড়া সেচ খালের বাম ডাইকে (০ কি.মি. হতে ৬.৩৭ কি.মি.) পরিদর্শন রাস্তা মেরামত কাজ (প্যাকেজ নং-সৈয়দপুর/পরিদর্শন-রাস্তা-১) ঠাকুরগাঁওয়ের জামাল হোসেন নামের ঠিকাদার ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা দরপত্র মূল্যে ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি কার্যাদেশ পান। এই কাজটি ২০
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে তিস্তা সেচ খালের সংস্কার ও পরিদর্শন সড়ক মেরামত কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার রাজীব ব্রিজের কাছে পরিদর্শন সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে এলাকাবাসী এই অনিয়ম দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। তারা অভিযোগ করেন, পরিদর্শন সড়কের পিচ হাত দিলেই উঠে আসছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তা প্রধান খালের বগুড়া সেচ খালের বাম ডাইকে (০ কি.মি. হতে ৬.৩৭ কি.মি.) পরিদর্শন রাস্তা মেরামত এবং বগুড়া সেচ খালের ০ কি.মি. হতে ৬.৩০ কি.মি. উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণ কাজ করা হচ্ছে। এসব কাজ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, পরিদর্শন সড়ক নিম্নমানের কাজ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে এবং উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণে সেচ খালের বেড ও অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে মাটি তুলে লুটপাটের চেষ্টা করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, তিস্তা প্রধান খালের বগুড়া সেচ খালের বাম ডাইকে (০ কি.মি. হতে ৬.৩৭ কি.মি.) পরিদর্শন রাস্তা মেরামত কাজ (প্যাকেজ নং-সৈয়দপুর/পরিদর্শন-রাস্তা-১) ঠাকুরগাঁওয়ের জামাল হোসেন নামের ঠিকাদার ১ কোটি ৩৮ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা দরপত্র মূল্যে ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি কার্যাদেশ পান। এই কাজটি ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সমাপ্ত হওয়ার কথা। অপরদিকে, বগুড়া সেচ খালের ০ কি.মি. হতে ৬.৩০ কি.মি. উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণ কাজ (প্যাকেজ নং-সৈয়দপুর/বগুড়া সেচখাল-০১) ঢাকার নিয়াজ মনা জেভি নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ৬ কোটি ৬৫ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা দরপত্র মূল্যে কাজটি ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি মাসে কার্যাদেশ পায় এবং ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বরের মধ্যে এটি সমাপ্ত হওয়ার শর্ত রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বগুড়া সেচ খালের বাম ডাইকে (০ কি.মি. হতে ৬.৩৭ কি.মি.) পরিদর্শন রাস্তা মেরামত কাজে স্থানীয়রা হাত দিলেই পিচ পাথর উঠে আসছে। নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর ব্যবহার করা হয়েছে এবং পূর্বের রাস্তার ধুলো পরিষ্কার না করেই তার উপর পিচ ঢালাই করা হয়েছে। ফলে নিম্নমানের কাজ হওয়ায় কয়েকদিনের মধ্যেই পিচ উঠে আসছে। অপরদিকে, উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণের কাজটি সেচ খালের বেড থেকে মাটি তুলে বাঁধে দেওয়া হয়েছে এবং অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে ভেক্যু দিয়ে মাটি কেটে ডাইকে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
এ সময় স্থানীয়রা বলেন, "আমরা নিম্নমানের কাজ চাই না, আমরা শতভাগ কাজ চাই। লুটপাটের নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারের লোকজন হুমকি দিচ্ছে।" অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে স্থানীয়রা পরিদর্শন সড়ক ও খালের ডাইকের পাশে মঙ্গলবার ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছেন। এসময় বক্তব্য রাখেন সাবেক ইউপি সদস্য তৈয়ব আলী, আব্দুল মজিদ, সেকেন্দার আলী, নাজমুল হক, রুপালী বেগম, মকবুল হোসেন, সোনা বাবু প্রমুখ।
মধ্যরাজিব ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ বলেন, "দায়সারা কাজেই যেন তাদের কাজ। নিম্নমানের বিটুমিন ও পাথর দিয়ে পরিদর্শন সড়ক করা হয়েছে। দেখেন হাত দিলেই পিচ উঠে আসছে। আমরা ভালো মানের কাজ চাই।" স্থানীয় সাবেক মেম্বার তৈয়ব আলী বলেন, "আমরা নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ করতে গেলে ঠিকাদারের লোকজন আমাদের হুমকি দেয়। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবগত করলেও তারাও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।" কেতা মামুদ বলেন, "উভয় ডাইক শক্তিশালীকরণের কাজটি যেন দুর্বলকরণের কাজে পরিণত হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাতের অন্ধকারে সেচ খালের বেড থেকে মাটি তুলে ডাইকে দিয়েছে এবং অধিগ্রহণকৃত জমি থেকে মাটি কেটেও ডাইকে দেয়। অথচ বাইরে থেকে মাটি এনে ডাইকে দিয়ে শক্তিশালীকরণের কাজটি দুর্বলকরণের কাজে পরিণত হয়েছে।" এছাড়া যা লোক দেখানো কাজ হচ্ছে তা মাটির বদলে দেওয়া হচ্ছে ধুলা।
বক্তারা পরিদর্শন সড়ক নিম্নমানের কাজ, খালের মাটি কেটে ডাইকের শক্তিশালীকরণের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও কাজের শতভাগ গুণগতমানের দাবি জানান।
সাব ঠিকাদার বাসু দেব জানান, তারা ডাইক শক্তিশালীকরণে ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুযায়ী কাজ করছেন। তিনি ডাইক শক্তিশালীকরণে অধিগ্রহণকৃত জমি ও খালের বেডের মাটি কাটার কথা অস্বীকার করেন।
সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখিনুজ্জামান ও সহকারী প্রকৌশলী মাহামুদুল হাসানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
What's Your Reaction?