তৃতীয় লিঙ্গ নিয়োগ পেল বরিশাল সিটি করপোরেশনে 

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মাইদুল ইসলাম অভিকে মজুরিভিত্তিক চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৫টায় নিয়োগপত্র তুলে দেন সিটির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। মজুরিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মাইদুল ইসলাম অভি বরিশাল নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। যোগদানের দিন থেকে মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন অভি। তিনি কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাকে সম্মানজনক জায়গায় দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। নিয়োগপত্র গ্রহণকালে তৃতীয় লিঙ্গের অন্য নাগরিকরাও উপস্থিত ছিলেন অভির সঙ্গে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিককে সিটি করপোরেশনে নিয়োগের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন নাগরিকরা। সিটি প্রশাসক শিরীনের এই উদ্যোগ সমাজ থেকে অবহেলা ও বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে অন্যদেরকেও উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন তারা। এদিকে সিটি করপোরেশনে চাকরির সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাইদুল ইসলাম অভি। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিসিসি প্রশাসকের প্রতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো মানুষদের সমাজে প্

তৃতীয় লিঙ্গ নিয়োগ পেল বরিশাল সিটি করপোরেশনে 
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) মাইদুল ইসলাম অভিকে মজুরিভিত্তিক চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেল ৫টায় নিয়োগপত্র তুলে দেন সিটির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। মজুরিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মাইদুল ইসলাম অভি বরিশাল নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। যোগদানের দিন থেকে মাসিক ১৬ হাজার ৫০০ টাকা বেতন পাবেন অভি। তিনি কোন শাখায় দায়িত্ব পালন করবেন তা এখনো নির্ধারণ না হলেও তাকে সম্মানজনক জায়গায় দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। নিয়োগপত্র গ্রহণকালে তৃতীয় লিঙ্গের অন্য নাগরিকরাও উপস্থিত ছিলেন অভির সঙ্গে। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠি তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিককে সিটি করপোরেশনে নিয়োগের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন নাগরিকরা। সিটি প্রশাসক শিরীনের এই উদ্যোগ সমাজ থেকে অবহেলা ও বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে অন্যদেরকেও উৎসাহিত করবে বলে মনে করেন তারা। এদিকে সিটি করপোরেশনে চাকরির সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মাইদুল ইসলাম অভি। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিসিসি প্রশাসকের প্রতি। তিনি বলেন, ‘আমাদের মতো মানুষদের সমাজে প্রতিনিয়ত নানা অবহেলা ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হয়। একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিল। এখন থেকে আমি সম্মানজনকভাবে নিজের জীবনযাপন করতে পারব। এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নিকট আমি চিরকৃতজ্ঞ।’ প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, ‘তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী আমাদের সমাজেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এবং আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। এই ছোট একটি উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা বার্তা দিতে চাই যে, মেধা ও সুযোগ পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow