তেলের দাম আবার ১০০ ডলার ছাড়াল, গ্যাসেও বাড়ছে চাপ
বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবার জটিল হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার (২৬ মে) তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান সংকট, সরবরাহে বিঘ্ন এবং বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে ব্যবহৃত নৌযানে নতুন হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। এর আগে গত মাসের শেষ দিকে সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার কারণে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনেক ব্যবসায়ী ধারণা করেছিলেন, কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো আবার তেল রপ্তানি শুরু করতে পারবে। সেই প্রত্যাশায় সোমবার ব্রেন্টের দাম প্রায় ৯৭ ডলারে নেমে এসেছিল। আরও পড়ুন>>বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতনভারত ১০ দিনে ৩ বার বাড়ালো তেলের দাম, পাকিস্তান কমালো ২ বারমে মাসেই ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে তেলের দাম, বিশ্
বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলায় ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার আশা কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আবার জটিল হয়েছে। এর ফলে মঙ্গলবার (২৬ মে) তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান সংকট, সরবরাহে বিঘ্ন এবং বাজারে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও মাইন পেতে ব্যবহৃত নৌযানে নতুন হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবারও ১০০ ডলারের সীমা অতিক্রম করে। এর আগে গত মাসের শেষ দিকে সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার কারণে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলার ছাড়িয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনেক ব্যবসায়ী ধারণা করেছিলেন, কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো আবার তেল রপ্তানি শুরু করতে পারবে। সেই প্রত্যাশায় সোমবার ব্রেন্টের দাম প্রায় ৯৭ ডলারে নেমে এসেছিল।
আরও পড়ুন>>
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
ভারত ১০ দিনে ৩ বার বাড়ালো তেলের দাম, পাকিস্তান কমালো ২ বার
মে মাসেই ১৫০ ডলার ছাড়াতে পারে তেলের দাম, বিশ্বজুড়ে মন্দার শঙ্কা
জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এইচএফআই রিসার্চ গত সপ্তাহে বলেছে, তেলের বাজার হয়তো এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখান থেকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা কঠিন হতে পারে।
ডাচ ব্যাংক রাবোব্যাংকের বৈশ্বিক কৌশলবিদ মাইকেল এভারি বলেন, প্রতিবারই মনে হয় এবার হয়তো সমাধান হবে, এবার জ্বালানি প্রবাহ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক সপ্তাহ ধরে সরবরাহে ব্যাঘাতের কারণে বৈশ্বিক তেল মজুত কমে গেছে। অন্যদিকে, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমে পরিবহন জ্বালানির চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বড় উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালি সংকট এখন বৈশ্বিক বাজারের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের একটি হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল এ পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলের উৎপাদন প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ব্যারেল কমে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জরুরি তেল মজুত থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল সরবরাহ দিয়ে কিছু ঘাটতি পূরণ করা হচ্ছে। তবে জুলাইয়ের পর এই ব্যবস্থাও শেষ হতে পারে।
মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান বলেছে, তেলের বৈশ্বিক মজুত এখন ‘সংকটজনকভাবে কম’ অবস্থায় রয়েছে।
ব্যাংকটি আরও বলেছে, বাজার এখনও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার দিকে তাকিয়ে আছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মজুতের ঘাটতির কারণে বাজারে চাপ থাকবে।
গ্যাস বাজারেও বাড়ছে চাপ
শুধু তেলের দাম নয়, ইউরোপেও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এইচএসবিসির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের গ্যাস মজুত সক্ষমতার মাত্র ৩৭ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে। গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় এটি অনেক কম।
এদিকে যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দামও বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে পেট্রলের গড় দাম এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কেএএ/
What's Your Reaction?