থানচিতে গাইডদের মোরাল পুলিশিংয়ের তীব্র নিন্দা এটবের
বান্দরবানের থানচিতে পর্যটক ও ট্রাভেল লিডারদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, গাইড সিন্ডিকেটের ‘মোরাল পুলিশিং’ এবং প্রশাসনের নীরবতার তীব্র নিন্দা ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেকিং ট্যুর অপারেটরস বাংলাদেশ ‘এটব’। রোববার (৯ আগস্ট) এটবের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে থানচিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যটন এলাকায় গাইডদের সৃষ্ট নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নিয়ে এটবের সব সদস্যের অংশগ্রহণে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় থানচিতে পর্যটকদের ওপর চলা ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং স্থানীয় কিছু অসাধু গাইডের বেপরোয়া অপরাধ কর্মকাণ্ডে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে উঠে এসেছে যে, গাইড মোহাম্মদ মামুন, সই সোঁ মারমা, তৌহিদ এবং তাদের সহযোগীরা থানচিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা নিজেদের আইন প্রণেতা ভেবে পর্যটকদের ওপর বেআইনি ‘মোরাল পুলিশিং’ চালিয়ে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চক্রের বিরুদ্ধে বারবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার পরও তাদের স্থায়ীভাবে অপসারণ না করা এবং প্রশাসন
বান্দরবানের থানচিতে পর্যটক ও ট্রাভেল লিডারদের ওপর বর্বরোচিত হামলা, গাইড সিন্ডিকেটের ‘মোরাল পুলিশিং’ এবং প্রশাসনের নীরবতার তীব্র নিন্দা ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রেকিং ট্যুর অপারেটরস বাংলাদেশ ‘এটব’।
রোববার (৯ আগস্ট) এটবের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে থানচিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও পর্যটন এলাকায় গাইডদের সৃষ্ট নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নিয়ে এটবের সব সদস্যের অংশগ্রহণে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় থানচিতে পর্যটকদের ওপর চলা ধারাবাহিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং স্থানীয় কিছু অসাধু গাইডের বেপরোয়া অপরাধ কর্মকাণ্ডে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
সভায় সর্বসম্মতিক্রমে উঠে এসেছে যে, গাইড মোহাম্মদ মামুন, সই সোঁ মারমা, তৌহিদ এবং তাদের সহযোগীরা থানচিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা নিজেদের আইন প্রণেতা ভেবে পর্যটকদের ওপর বেআইনি ‘মোরাল পুলিশিং’ চালিয়ে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই চক্রের বিরুদ্ধে বারবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দেওয়ার পরও তাদের স্থায়ীভাবে অপসারণ না করা এবং প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা দেখে আমাদের সংগঠনের সবার মনে তীব্র সন্দেহ দানা বেঁধেছে যে, এই সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের পেছনে খোদ স্থানীয় প্রশাসনেরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ইন্ধন রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি থানচিতে ঘটে যাওয়া এক বর্বরোচিত ঘটনায়, আমাদের সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি নিবন্ধিত না হলেও আমাদেরই পর্যটন পরিবারের একজন সদস্য নাজমুল ও তার দলের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়। তার স্ত্রীসহ নারী পর্যটকদের অত্যন্ত অমানবিক ও লজ্জাজনকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এমনকি গাইড মামুন প্রকাশ্যে নাজমুলকে সাঙ্গু নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেয়, যা যেকোনো সভ্য সমাজে সম্পূর্ণ অকল্পনীয় ও ভীতিকর। পর্যটন শিল্পকে বাঁচানোর খাতিরে আমরা এতদিন ধৈর্য ধারণ করলেও, গাইডদের এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এখন সব সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
এমতাবস্থায়, আমাদের সংগঠন থেকে প্রশাসনের সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এর মাধ্যমে যদি দ্রুত ও সন্তোষজনক কোনো সুরাহা না হয়, তবে আমাদের এই সহযোদ্ধা নাজমুল ও তার পরিবারের পাশে ‘এটব’ সর্বশক্তি নিয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে।
এটব জানিয়েছে, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছি— অভিযুক্ত মামুন, সই সোঁ মারমা, তৌহিদ ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায়, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আমরা ‘অ্যাটেম্পট টু মার্ডার’ (হত্যাচেষ্টা), প্রাণনাশের হুমকি, নারী পর্যটক হেনস্তা ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে আদালতে কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা মামলা দায়ের করতে বাধ্য হব।
থানচির পর্যটন শিল্পের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং সাধারণ পর্যটকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করে এটব।
এমএমএআর
What's Your Reaction?