দলের ব্যর্থতায় পদ ছাড়ছেন জার্মানির কোচ, দায়িত্ব নিচ্ছেন কে?
বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ইউলিয়ান নাগলসমান। যদিও জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি) এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’ ও ‘স্কাই জার্মানি’ জানিয়েছে, ডিএফবির সঙ্গে বৈঠকের পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই কোচ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ফ্রাঙ্কফুর্টে ডিএফবির সদর দপ্তরে প্রায় তিন ঘণ্টার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হয় এবং এরপরই নাগলসমান দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ডিএফবির পক্ষ থেকেও তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মানির দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাগলসমান। তার সঙ্গে ডিএফবির চুক্তি ছিল ২০২৮ সালের ইউরো পর্যন্ত। তবে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর চুক্তির আরও প্রায় দুই বছর বাকি থাকতেই দায়িত্ব ছাড়তে হলো তাকে।
এবারের বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। ফলে টানা তৃতী
বিশ্বকাপে হতাশাজনক বিদায়ের পর জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ইউলিয়ান নাগলসমান। যদিও জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি) এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি, তবে জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’ ও ‘স্কাই জার্মানি’ জানিয়েছে, ডিএফবির সঙ্গে বৈঠকের পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই কোচ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ফ্রাঙ্কফুর্টে ডিএফবির সদর দপ্তরে প্রায় তিন ঘণ্টার একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিশ্বকাপে দলের ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হয় এবং এরপরই নাগলসমান দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ডিএফবির পক্ষ থেকেও তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে জার্মানির দায়িত্ব নিয়েছিলেন নাগলসমান। তার সঙ্গে ডিএফবির চুক্তি ছিল ২০২৮ সালের ইউরো পর্যন্ত। তবে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর চুক্তির আরও প্রায় দুই বছর বাকি থাকতেই দায়িত্ব ছাড়তে হলো তাকে।
এবারের বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হেরে বিদায় নেয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি। এর আগে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল দলটি। ফলে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলো জার্মানরা। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ব্রাজিল বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছিল তারা।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর নাগলসমান নিজের হতাশার কথা প্রকাশ করলেও শুরুতে পদত্যাগে আগ্রহী ছিলেন না। তিনি বলেছিলেন, শুধু একটি টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হওয়ার কারণে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার মানুষ তিনি নন। বরং ডিএফবি আস্থা রাখলে দলের দায়িত্ব চালিয়ে যেতে প্রস্তুত ছিলেন।
নাগলসমানের ভাষায়, ‘ফুটবল সংস্থা যদি আমাকে দায়িত্বে রাখতে চায়, তাহলে আমি অবশ্যই কাজ চালিয়ে যাব। ফুটবলের বাস্তবতা আমি জানি। অনেকেই হয়তো চাইবে আমি চলে যাই, কিন্তু সংস্থা যদি আমার ওপর বিশ্বাস রাখে, তাহলে আমি দায়িত্বে থাকতে চাই।’
তবে শেষ পর্যন্ত সেই আস্থা আর বজায় থাকেনি। ডিএফবির সঙ্গে বৈঠকের পর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই তিনি দায়িত্ব ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে জার্মান সংবাদমাধ্যম।
নাগলসমানের বিদায়ের পর জার্মান জাতীয় দলের নতুন কোচ কে হবেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। এ মুহূর্তে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন লিভারপুলের সাবেক সফল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ।
২০২৪ সালে লিভারপুলের দায়িত্ব ছাড়ার পর বর্তমানে রেড বুল গ্রুপের ‘গ্লোবাল হেড অব ফুটবল’ হিসেবে কাজ করছেন ক্লপ। বিশ্বকাপ চলাকালে জার্মান টেলিভিশনে বিশ্লেষক হিসেবেও নিয়মিত দেখা গেছে তাকে।
বিশ্বকাপের মাঝেই ক্লপ জানিয়েছিলেন, জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ এলে তিনি তা বিবেচনা করবেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি প্রস্তুত আছি। ফুটবল সংস্থা যদি চায়, তাহলে ২০২৮ সালের ইউরো পর্যন্ত দায়িত্ব নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আর যদি না চায়, সেটাও পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিতে পারে। দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার মানুষ আমি নই।’
তবে জার্মানির বিদায়ের পর নিজের নাম নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি ক্লপ। তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটা আমি জানি। কিন্তু এখন এ বিষয়ে কথা বলার সঠিক সময় নয়।’
স্কাই জার্মানির দাবি, ডিএফবি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত রয়েছেন ক্লপ। জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের পছন্দের তালিকাতেও তার নামই সবচেয়ে ওপরে রয়েছে। ফলে নাগলসমানের বিদায়ের পর জার্মান জাতীয় দলের ডাগআউটে ইয়ুর্গেন ক্লপকে দেখার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি।