দাওয়াত খেয়ে যে দোয়া পড়বেন

18 hours ago 8

ঈদের মৌসুমে অনেকেই দাওয়াত করে থাকেন। কেউ দাওয়াত করলে দাওয়াত গ্রহণ করা উচিত যদি দাওয়াত গ্রহণ করার মতো সময়-সুযোগ থাকে এবং ওই দাওয়াতে গেলে শরিয়তের কোনো বিধান লঙ্ঘিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে। নবিজি (সা.) মুসলমান ভাইয়ের দাওয়াত গ্রহণ করাকে তার একটি হক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন,

حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ خَمْسٌ رَدُّ السَّلَامِ وَعِيَادَةُ الْمَرِيضِ وَاتِّبَاعُ الْجَنَائِزِ وَإِجَابَةُ الدَّعْوَةِ وَتَشْمِيتُ الْعَاطِسِ

একজন মুসলমানের অপর মুসলমানের ওপর পাঁচটি অধিকার রয়েছে; সালামের জওয়াব দেওয়া, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া, জানাজায় অংশগ্রহণ করা, দাওয়াত কবুল করা এবং হাঁচিদাতা ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে জবাবে ‘ইয়ারহামুকাল্লাহ’ বলা। (সহিহ মুসলিম: ১৮৫)

সাহাবিরা দাওয়াত করলে নবিজি (সা.) সাধারণত দাওয়াতে যেতেন এবং খাওয়ার পর মেজবানের কল্যাণ ও বরকতের জন্য দোয়া করতেন। আমরাও কারো বাসায় দাওয়াত খেলে নবিজিকে (সা.) অনুসরণ করে এভাবে দোয়া করতে পারি। আমরা এখানে দুটি দোয়া উল্লেখ করছি:

১. কোনো সাহাবির বাড়িতে দাওয়াত খেলে নবিজি (সা.) দোয়া করতেন,

أَكَلَ طَعَامَكُمُ الْأَبْرَارُ وَصَلَّتْ عَلَيْكُمُ الْمَلَائِكَةُ وَأَفْطَرَ عِنْدَكُمُ الصَّائِمُونَ

উচ্চারণ: আকালা তাআমাকুমুল আবরারু ওয়া সাল্লাত আলাইকুমুল মালাইকা আফতারা ওয়া আফতারা ইনদাকুমুস সাইমুন।

অর্থ: আপনাদের খাবার থেকে নেক ব্যক্তিরা আহার করুন, ফেরেশতাগণ আপনাদের জন্য ইস্তিগফার করুন এবং রোজাদারগণ আপনাদের কাছে ইফতার করুন।

আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত একদিনি নবিজি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদ ইবনে উবাদার (রা.) বাড়িতে যান। সাদ (রা.) তার সামনে কিশমিশ পেশ করেন। নবিজি (সা.) তা খেয়ে এ দোয়া করেন। (শারহুস সুন্নাহ: ৩৩২০)

২. কোনো সাহাবির বাসায় দাওয়াত খেলে নবিজি অনেক সময় এ দোয়াটিও করতেন,

‏ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِيمَا رَزَقْتَهُمْ وَاغْفِرْ لَهُمْ وَارْحَمْهُمْ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বারিক লাহুম ফিমা রাজাকতাহুম ওয়াগফির লাহুম ওয়ারহামহুম।

অর্থ: হে আল্লাহ! তাদের যে রিজিক দিয়েছ তাতে বরকত দান করুন, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদের প্রতি দয়া করুন।

আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একদিন আমার বাবার কাছে এলেন। আমরা তার জন্য খাবার পরিবেশন করলে তিনি তা খেলেন। তারপর খেজুর আনা হলে তিনি তা খেতে থাকলেন এবং মধ্যমা ও তর্জনী একত্র করে খেজুরের বিচি ফেলে দিতে লাগলেন। তারপর পানীয় আনা হলে তিনি তা পান করলেন, তারপর পানপাত্র তার ডান পাশের ব্যক্তিকে দিলেন। বিদায় নেওয়ার সময় আমার বাবা তার সওয়ারীর লাগাম ধরে বললেন, আমাদের জন্য দোয়া করুন। তখন তিনি এ দোয়া করলেন। (সুনানে তিরমিজি: ৩৫৭৬)

ওএফএফ/এএসএম

Read Entire Article