দাফনে বাধা বড় ছেলের, উঠানে পড়ে ছিল বাবার মরদেহ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের কারণে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি ঘটেছে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজার রহমান (৭৫) মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বার্ধক্যের কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তবে সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে দাফনে আপত্তি তোলেন। এ ঘটনা
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে পারিবারিক বিরোধের কারণে বাবার মরদেহ দাফনে বাধা দিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে স্ট্যাম্পে লিখিত সমঝোতার মাধ্যমে এবং উভয় পক্ষের স্বাক্ষরের পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে নাগেশ্বরী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পয়রাডাঙ্গা বাজার এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজিজার রহমান (৭৫) মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বার্ধক্যের কারণে মারা যান। পরদিন বুধবার বেলা ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তবে সম্পত্তি ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবদ্দশায় আজিজার রহমান বাড়িভিটাসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে টাইগারের নামে লিখে দেন। এ নিয়ে প্রথম পক্ষের ছেলে আবদুল হাকিমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানাজায় অংশ নিতে এলাকাবাসী জড়ো হলে হাকিম সম্পত্তির সমবণ্টন নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে দাফনে আপত্তি তোলেন। এ ঘটনায় জানাজা স্থগিত হয়ে যায়। মরদেহ কাফন পরানো অবস্থায় বাড়ির আঙিনায় খাটিয়ায় রাখা ছিল।
দিনভর স্থানীয় মুরুব্বি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিরা দুই পক্ষকে নিয়ে একাধিক দফায় বৈঠক করেন। সন্ধ্যার পরও সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অবশেষে রাত ১০টার দিকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। বসতভিটার ২১ শতাংশ জমির মধ্যে দুই ভাই ৮ শতাংশ করে পাবেন এবং অবশিষ্ট অংশ বোনের প্রাপ্য হিসাবে থাকবে। পাশাপাশি আবাদি জমি আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সুষ্ঠু তদারকির মাধ্যমে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করা হয় এবং এতে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করে। সমঝোতার পর রাত ১১টার দিকে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
প্রতিবেশী খয়বর আলী, আক্কাছ আলীসহ অনেকে বলেন, একটা দুঃখজনক ঘটনা ঘটছে। উনি বেঁচে থাকতে একটা সুরাহা করলে আজ এ ঘটনা ঘটত না।
আব্দুল হাকিম অভিযোগ করে বলেন, তার বাবার প্রথম স্ত্রীর চার সন্তান তিনিসহ জোসনা, ময়না ও আজিমন বিবিকে রেখে তার মা জয়গুন মারা যান। এরপর তার বাবা আজিজার রহমান রহিমা নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রহিমার পক্ষের এক ছেলে রফিকুল ইসলাম ও এক মেয়ে আকলিমা রয়েছে। জীবদ্দশায় তাদের বাবা গোপনে পরের স্ত্রীর সন্তান রফিকুল ইসলাম ও আকলিমাকে গোপনে সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর অভিযোগ করলেও তারা আমলে নেয়নি এবং সেটি বিরোধ চলে আসছিল। এ কারণে দাফনে বাধা দেওয়া হয়েছে।
নাগেশ্বরী থানার ওসি আবদুল্লা হিল জামান বলেন, এ ঘটনায় থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। বিষয়টি আমার জানা নেই।
What's Your Reaction?