দাফনের ২৩ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন, ময়নাতদন্তের নির্দেশ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দাফনের ২৩ দিন পর আদালতের নির্দেশে এয়ার আহমদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কাটাগাং কবরস্থান থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়।  নিহত এয়ার আহমদ ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম জোয়ার এলাকার আলী আকবর মাঝি বাড়ির গনি আহমদের ছেলে। মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল রাতে এয়ার আহমদ তার অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে শ্বশুরবাড়ি ফেনী জেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। ওই দিন রাত ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়ির পাশেই তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (মস্তাননগর) নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ভোরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই পারিবারিকভাবে তাকে দাফন করা হয়। তবে মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক দাবি করে গত ৭ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী বিবি খতিজা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশ

দাফনের ২৩ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন, ময়নাতদন্তের নির্দেশ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দাফনের ২৩ দিন পর আদালতের নির্দেশে এয়ার আহমদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের কাটাগাং কবরস্থান থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়। 

নিহত এয়ার আহমদ ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম জোয়ার এলাকার আলী আকবর মাঝি বাড়ির গনি আহমদের ছেলে।

মামলার বিবরণ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল রাতে এয়ার আহমদ তার অসুস্থ স্ত্রীকে দেখতে শ্বশুরবাড়ি ফেনী জেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়াজপুর গ্রামে যাচ্ছিলেন। ওই দিন রাত ১১টার দিকে শ্বশুরবাড়ির পাশেই তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (মস্তাননগর) নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ভোরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই পারিবারিকভাবে তাকে দাফন করা হয়।

তবে মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক দাবি করে গত ৭ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী বিবি খতিজা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে সোমবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের এবং ফেনী মডেল থানা পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহতের স্ত্রী বিবি খতিজা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামীকে নেয়াজপুর গ্রামের কামাল হোসেনসহ কয়েকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে। প্রথমে আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি এবং আসামিরা আমাকে মামলা না করতে হুমকি দেওয়ায় ভয় পেয়ে লাশ দাফন করেছিলাম। পরে আমি ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করি। পুলিশ প্রধান আসামি কামালকে গ্রেপ্তার করেছে। 

নিহতের জামাতা মো. ইউসুফ বলেন, আমার শ্বশুর অত্যন্ত সহজ-সরল মানুষ ছিলেন। তিনি করেরহাট বাজারে একটি ডেকোরেশনের দোকানে কাজ করতেন। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। 

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আলাউদ্দিন কাদের জানান, আদালতের নির্দেশে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লাশটি উত্তোলন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow