দাবদাহে হাঁসফাঁস, রাজশাহীতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু-বয়স্করা

টানা কয়েকদিনের প্রখর রোদ, গরম বাতাস ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে নগর ও গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার (৫ জুন) ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, শনিবার (৬ জুন) ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং রোববার (৭ জুন) ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৭৪ থেকে ৭৮ শতাংশের মধ্যে থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হচ্ছে এবং জনজীবনে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রাজশাহী অঞ্চলে চলতি মৌসুমে একাধিকবার তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত মে মাসে মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরই মধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রাজশাহীতেও আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে মাঠে কা

দাবদাহে হাঁসফাঁস, রাজশাহীতে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিশু-বয়স্করা

টানা কয়েকদিনের প্রখর রোদ, গরম বাতাস ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে নগর ও গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্রমজীবী মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার (৫ জুন) ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, শনিবার (৬ জুন) ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি এবং রোববার (৭ জুন) ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৭৪ থেকে ৭৮ শতাংশের মধ্যে থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরও বেশি মনে হচ্ছে এবং জনজীবনে অস্বস্তি চরমে পৌঁছেছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, রাজশাহী অঞ্চলে চলতি মৌসুমে একাধিকবার তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। গত মে মাসে মৌসুমের অন্যতম সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রহিদুল ইসলাম জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এরই মধ্যে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রাজশাহীতেও আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তীব্র গরমের কারণে মাঠে কাজ করা কৃষিশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক ও দিনমজুররা দীর্ঘ সময় রোদে কাজ করতে পারছেন না। এতে দিনমজুরদের আয়-রোজগারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে এক ভবন থেকে আরেক ভবনে যেতে হলেও প্রচণ্ড গরমের কারণে হাঁটা খুবই কষ্টের। ক্লাস শেষে বের হলেই মনে হয় শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই অবস্থায় স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সত্যিই কঠিন হয়।’

নগরীর হড়গ্রাম এলাকার দিনমজুর রাকিবুল হাসান বলেন, ‘এত গরমে কাজ করা খুব কষ্টের। কিন্তু কাজ না করলে সংসার চলবে না। পরিবারের কথা চিন্তা করে বাধ্য হয়ে কাজে বের হতে হচ্ছে।’

গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও মোড়ে ডাব, তালশাঁস, আখের রস, লেবুর শরবত ও বিভিন্ন ঠান্ডা পানীয়ের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়েছে। তৃষ্ণা নিবারণ ও সাময়িক স্বস্তি পেতে এসব পানীয়ের দিকে ঝুঁকছেন সাধারণ মানুষ।

ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় ঠান্ডা পানীয়ের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

চলমান তাপপ্রবাহের কারণে মানুষের মধ্যে পানিশূন্যতা, মাথা ঘোরা, খিঁচুনি ও হিটস্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি অনিরাপদ পানি পানের কারণে বাড়ছে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবও।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালে হিটস্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক, প্রসূতি, শ্রমজীবী ও রোগীরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে হলে ‘হিটস্ট্রোকের’ মতো মারাত্মক আশঙ্কা থাকে। গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতা, জ্বর, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, বমিভাব ও সর্দি-কাশির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি পান, তরল খাবার গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার স্যালাইন খাওয়া জরুরি।

এছাড়াও শিশু ও বয়স্কদের সুতি ও হালকা রঙের পোশাক পরানো উচিত। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি ও রোদচশমা ব্যবহার করতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদের মধ্যে অবস্থান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

মনির হোসেন মাহিন/এফএ/এমএস

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow