দাবানলে পুড়ছে আলজেরিয়া, এতিমখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১১
আলজেরিয়ায় বিভিন্ন প্রদেশে ১০০টিরও বেশি দাবানলের খবর পাওয়া গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে একটি এতিমখানায় আগুন লেগে ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী আলজিয়ার্সের উপকণ্ঠে দ্রারিয়া জেলার একটি এতিমখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আলজেরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে চালু থাকা একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এয়ার কন্ডিশনার) ইউনিট থেকে আগুনেফ্র সূত্রপাত ঘটে। এতে নিহতদের অধিকাংশই শিশু। এ দুর্ঘটনার সময় আলজেরিয়াজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সপ্তাহান্তজুড়ে দেশের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার সিভিল প্রোটেকশন ডিরেক্টরেট ৪৫টি প্রদেশের কর্মীদের পাশাপাশি জাতীয় প্রশিক্ষণ ও হস্তক্ষেপ ইউনিটের সদস্যদেরও জরুরি ভিত্তিতে দায়িত্বে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল বিকেল পর্যন্ত বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি এবং খেজুর বাগানে মোট ১১১টি দাবানলের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬৫টি ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ১৮টি প্রদেশে এখনও ৪৬টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে। বেজাইয়া,
আলজেরিয়ায় বিভিন্ন প্রদেশে ১০০টিরও বেশি দাবানলের খবর পাওয়া গেছে। তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে একটি এতিমখানায় আগুন লেগে ১১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হয়েছেন।
রাজধানী আলজিয়ার্সের উপকণ্ঠে দ্রারিয়া জেলার একটি এতিমখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। আলজেরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, প্রচণ্ড গরমের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে চালু থাকা একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এয়ার কন্ডিশনার) ইউনিট থেকে আগুনেফ্র সূত্রপাত ঘটে। এতে নিহতদের অধিকাংশই শিশু।
এ দুর্ঘটনার সময় আলজেরিয়াজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সপ্তাহান্তজুড়ে দেশের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার সিভিল প্রোটেকশন ডিরেক্টরেট ৪৫টি প্রদেশের কর্মীদের পাশাপাশি জাতীয় প্রশিক্ষণ ও হস্তক্ষেপ ইউনিটের সদস্যদেরও জরুরি ভিত্তিতে দায়িত্বে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
গতকাল বিকেল পর্যন্ত বনাঞ্চল, ঝোপঝাড়, কৃষিজমি এবং খেজুর বাগানে মোট ১১১টি দাবানলের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬৫টি ঘটনায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ১৮টি প্রদেশে এখনও ৪৬টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে।
বেজাইয়া, আনাবা, স্কিকদা, ব্লিদা, তিজি উজু, বুমেরদেস, আইন দেফলা ও ত্লেমসেন প্রদেশে বিমান ও হেলিকপ্টারের সহায়তায় বড় পরিসরে আগুন নেভানোর অভিযান চলছে। আগুনের ঝুঁকিতে থাকা কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ইউরোপীয় কমিশনের ইউরোপিয়ান ফরেস্ট ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেম (EFFIS) জানিয়েছে, চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত আলজেরিয়ায় প্রায় ২১ হাজার ২২৭ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে, যা একই সময়ের বহু বছরের গড়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
তুলনামূলকভাবে মরক্কোতে ২ হাজার ৪৮৫ হেক্টর এলাকা পুড়েছে, যা গড়ের তুলনায় ৭৭ শতাংশ বেশি। আর তিউনিসিয়ায় ১ হাজার ৫৪২ হেক্টর এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার কাছাকাছি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলজেরিয়া একাধিক ভয়াবহ দাবানলের মুখোমুখি হয়েছে। ২০২১ সালে দাবানলে ১০০ জনের বেশি এবং ২০২৩ সালে অন্তত ৩৪ জন নিহত হন। পাশাপাশি ধ্বংস হয় বিশাল বনাঞ্চল ও কৃষিজমি।
EFFIS-এর মতে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর আফ্রিকায় দাবানলের মৌসুম এখন আর শুধু জুলাই-আগস্টে সীমাবদ্ধ নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শীতের শেষভাগ ও বসন্তের শুরুতেও বড় ধরনের দাবানল দেখা যাচ্ছে, যা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে।
সংস্থাটি বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন পুড়ে যাওয়া এলাকার পরিমাণ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ। তাপপ্রবাহ যত দীর্ঘ, ঘনঘন ও তীব্র হচ্ছে, দাবানল শুরু হওয়া এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তত বাড়ছে।
তবে তারা উল্লেখ করেছে, শুধু জলবায়ু পরিবর্তনই নয়; জনসংখ্যার দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন এবং ভূমি ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও দাবানল বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। EFFIS-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দাবানলের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পাবে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি/দ্য নিউ আরব
কেএম
What's Your Reaction?