দিনাজপুর বোর্ডে দশজনে ৪ জনই ফেল

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ধস নেমেছে। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৯ শতাংশের বেশি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় চারজনই পাস করতে পারেনি।  পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম পাসের হার। শুধু পাসের হার নয়, কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। ২০২৫ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৭ শতাংশ, এবার তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ০৪ শতাংশে। বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। ফেল করেছে ৭৫ হাজার ৮৪৬ জন। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৭ শতাংশ। ওই বছর ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ লাখ ২২ হাজার ২৫৯ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমলেও পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ৩৩৪ জন। পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার দিনাজপুর বোর্ডের সাম্প্রতিক পাঁচ বছরের ফলাফলে দেখা যায়, ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ১৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা ছিল ৭৬ দশমিক ৯০, ২০২৪ সালে ৭৮ দশমিক ৪৩ এবং ২০২৫ সালে ৬৭ দশমিক ০৭ শতাং

দিনাজপুর বোর্ডে দশজনে ৪ জনই ফেল

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ধস নেমেছে। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ৯ শতাংশের বেশি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রতি ১০ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় চারজনই পাস করতে পারেনি। 

পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কম পাসের হার। শুধু পাসের হার নয়, কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। ২০২৫ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৭ শতাংশ, এবার তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ০৪ শতাংশে।

বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এরমধ্যে পাস করেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। ফেল করেছে ৭৫ হাজার ৮৪৬ জন।

গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৬৭ দশমিক ০৭ শতাংশ। ওই বছর ১ লাখ ৮২ হাজার ২৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছিল ১ লাখ ২২ হাজার ২৫৯ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমলেও পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৭ হাজার ৩৩৪ জন।

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার

দিনাজপুর বোর্ডের সাম্প্রতিক পাঁচ বছরের ফলাফলে দেখা যায়, ২০২২ সালে পাসের হার ছিল ৮১ দশমিক ১৯ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা ছিল ৭৬ দশমিক ৯০, ২০২৪ সালে ৭৮ দশমিক ৪৩ এবং ২০২৫ সালে ৬৭ দশমিক ০৭ শতাংশ।

সেখানে ২০২৬ সালে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ ২০২২ সালের তুলনায় পাঁচ বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ২৩ দশমিক ১৫ শতাংশ পয়েন্ট।

এবারের ফল শুধু আগের বছরের তুলনায় খারাপই নয়, গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যানের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন পাসের হার।

জিপিএ-৫ তেও পিছিয়ে

পাসের হারের পাশাপাশি জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫ হাজার ১১৯। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ কমেছে ১ হাজার ৪৮০টি।

তবে পাঁচ বছরের হিসাবে জিপিএ-৫-এর চিত্রও ওঠানামা পূর্ণ। ২০২২ সালে ২৫ হাজার ৬২১ জন, ২০২৩ সালে ১৭ হাজার ৪৮৬, ২০২৪ সালে ১৮ হাজার ২৬৬ এবং ২০২৫ সালে ১৫ হাজার ১১৯ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা আরও কমে ১৩ হাজার ৬৩৯-এ নেমেছে।

জিপিএ-৫ এর প্রায় পুরোটাই বিজ্ঞান বিভাগে

ফলাফলের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো জিপিএ-৫ এর ক্ষেত্রে বিজ্ঞান বিভাগের একচেটিয়া আধিপত্য। এবার মোট ১৩ হাজার ৬৩৯ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ১৩ হাজার ৩৬৯ জনমোট জিপিএ-৫ এর প্রায় ৯৮ শতাংশ।

অন্যদিকে মানবিক বিভাগ থেকে ২২৮ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪২ জন।

এই ব্যবধান দেখায়, বোর্ডের জিপিএ-৫ ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই প্রায় পুরো অংশ দখল করে আছে।

পাস ও জিপিএ-৫ দুটোতেই এগিয়ে মেয়েরা

এবার দিনাজপুর বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ছেলেরা বেশি হলেও পাস ও জিপিএ-৫ দুই ক্ষেত্রেই মেয়েরা এগিয়ে। মোট ১ লাখ ৮০ হাজার ৭৭১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছেলে ৯২ হাজার ৫৮৫ এবং মেয়ে ৮৮ হাজার ১৮৬ জন।

পাস করেছে ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন। এর মধ্যে ছেলে ৪৯ হাজার ৩৬৭ এবং মেয়ে ৫৫ হাজার ৫৫৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন এরমধ্যে ছেলে ৬ হাজার ৪৮৯ এবং মেয়ে ৭ হাজার ১৫০ জন। অর্থাৎ পাসে মেয়েরা ৬ হাজার ১৯১ এবং জিপিএ-৫ এ ৬৬১ জন এগিয়ে।

৭৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি

এবারের ফলাফলে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ হাজার ৮৪৬ জন পাস করতে পারেনি। অর্থাৎ মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ৪২ শতাংশের ফল পাসের নিচে।

পাস করা ১ লাখ ৪ হাজার ৯২৫ জন শিক্ষার্থীর ফল বিশ্লেষণেও দেখা যায়, জিপিএ-৩ শ্রেণিতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি ৪২ হাজার ৯৯৯ জন। জিপিএ-৪ পেয়েছে ৩১ হাজার ৭৬০ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩ হাজার ৬৩৯ জন।

অর্থাৎ পাস করা শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মাঝারি ফলাফলের মধ্যে রয়েছে। সর্বোচ্চ জিপিএ অর্জনকারীর সংখ্যা মোট পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow