দিনাজপুরে তাপমাত্রা ৩৮.৩ ডিগ্রি, ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন
দিনাজপুরে জ্যৈষ্ঠ মাসে ঝড়-বৃষ্টির দাপট কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। বেড়েছে বাতাসে আর্দ্র্রতার পরিমাণও। তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ৩টায় দিনাজপুর জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার (সিনপটিক) ৩৮.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করে। বয়ে যাচ্ছে তাপ প্রবাহ। দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, মঙ্গলবার বেলা ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৭ শতাংশ। তাপমাত্রার সঙ্গে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় প্রচণ্ড গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে। তিনি বলেন, আগামী ৪ জুন পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে। এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। প্রখর রোদে মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরমে ঘাম ঝরছে অবিরাম। বিদ্যুৎচালিত পাখার বাতাসেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগী
দিনাজপুরে জ্যৈষ্ঠ মাসে ঝড়-বৃষ্টির দাপট কমে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। বেড়েছে বাতাসে আর্দ্র্রতার পরিমাণও। তীব্র রোদ ও ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন।
মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ৩টায় দিনাজপুর জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার (সিনপটিক) ৩৮.৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করে। বয়ে যাচ্ছে তাপ প্রবাহ।
দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন জানান, মঙ্গলবার বেলা ৩টায় জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৭৭ শতাংশ। তাপমাত্রার সঙ্গে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি থাকায় প্রচণ্ড গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে।
তিনি বলেন, আগামী ৪ জুন পর্যন্ত এ অবস্থা বিরাজ করতে পারে। এ সময়ের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।
তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর ও শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন। প্রখর রোদে মাঠে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। গরমে ঘাম ঝরছে অবিরাম। বিদ্যুৎচালিত পাখার বাতাসেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ।
জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, সড়ক ও জনসমাগমস্থলে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম দেখা গেছে। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হচ্ছেন না।
বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, গরমজনিত কারণে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ জন গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তীব্র ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রোএন্টারোটাইটিস, শ্বাসনালীর সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, হিট এক্সহসশন এবং বিভিন্ন চর্মরোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। অতিরিক্ত গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও পেশিতে টান নিয়ে অনেক শ্রমজীবী মানুষ হাসপাতালে আসছেন।
এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তৃষ্ণা না পেলেও পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করতে হবে। দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে কাজ করা এড়িয়ে চলা উচিত।
রিকশাচালক মজিবুর রহমান বলেন, আগের চেয়ে গরমে কাজ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। মানুষ কম বের হওয়ায় আয়ও কমে গেছে।
কৃষক ফারুক হোসেন জানান, মাঠে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। গরমে শরীর খারাপ লাগে। তাই কাজের সময়ও কিছুটা পরিবর্তন করেছি।
শহরের ষ্টেশন রোর্ডের শহিদুল ফার্মেসির মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, খাবার স্যালাইন, জ্বর ও ডায়রিয়ার ওষুধের বিক্রি বেড়েছে ।
এমদাদুল হক মিলন/এনএইচআর/জেআইএম
What's Your Reaction?